অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এলসিটি-১০৪ লঞ্চ করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। এ সময় সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের নিজস্ব সক্ষমতায় এবং কানাডার ভার্ড মেরিনের নকশায় নির্মিত হয়েছে জাহাজটি। এর দৈর্ঘ্য ৭৪ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার এবং ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ মাইল গতিতে চলাচলে সক্ষম এ জাহাজটি সামরিক ও মানবিক—উভয় ধরনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলসিটি-১০৪ শুধু সামরিক কার্যক্রমেই নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চলে জরুরি সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জাহাজটির বহুমুখী সক্ষমতা কাজে আসবে।
জাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নকশার পাশাপাশি ক্যাটারপিলার ইঞ্জিন, স্বনামধন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, জেনারেটর এবং আধুনিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। দেশীয় শিপইয়ার্ডে এ ধরনের জাহাজ নির্মাণ দেশের প্রকৌশলীদের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জটিল নৌযান নির্মাণে ক্রমবর্ধমান অভিজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮০০টিরও বেশি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাহাজ ও জলযান মেরামত করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, মেরিটাইম খাত, ব্লু ইকোনমি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
দেশীয় সক্ষমতায় সামরিক কাজে ব্যবহৃত জাহাজ নির্মাণের ফলে বিদেশ থেকে জাহাজ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রকৌশল দক্ষতার বিকাশ, শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থ দেশের ভেতরেই রাখার সম্ভাবনা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, খুলনা শিপইয়ার্ডে এলসিটি-১০৪-এর লঞ্চিং কেবল একটি জাহাজের উদ্বোধনী কার্যক্রম নয়; বরং দেশের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এলসিটি-১০৪ লঞ্চ করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। এ সময় সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের নিজস্ব সক্ষমতায় এবং কানাডার ভার্ড মেরিনের নকশায় নির্মিত হয়েছে জাহাজটি। এর দৈর্ঘ্য ৭৪ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার এবং ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ মাইল গতিতে চলাচলে সক্ষম এ জাহাজটি সামরিক ও মানবিক—উভয় ধরনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলসিটি-১০৪ শুধু সামরিক কার্যক্রমেই নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চলে জরুরি সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জাহাজটির বহুমুখী সক্ষমতা কাজে আসবে।
জাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নকশার পাশাপাশি ক্যাটারপিলার ইঞ্জিন, স্বনামধন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, জেনারেটর এবং আধুনিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। দেশীয় শিপইয়ার্ডে এ ধরনের জাহাজ নির্মাণ দেশের প্রকৌশলীদের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং জটিল নৌযান নির্মাণে ক্রমবর্ধমান অভিজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮০০টিরও বেশি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাহাজ ও জলযান মেরামত করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, মেরিটাইম খাত, ব্লু ইকোনমি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
দেশীয় সক্ষমতায় সামরিক কাজে ব্যবহৃত জাহাজ নির্মাণের ফলে বিদেশ থেকে জাহাজ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রকৌশল দক্ষতার বিকাশ, শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থ দেশের ভেতরেই রাখার সম্ভাবনা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, খুলনা শিপইয়ার্ডে এলসিটি-১০৪-এর লঞ্চিং কেবল একটি জাহাজের উদ্বোধনী কার্যক্রম নয়; বরং দেশের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

আপনার মতামত লিখুন