ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

জনবল সংকটের পাহাড় ডিঙিয়ে আউটটার্ন বৃদ্ধির সফল নায়ক মমতাজুল ইসলাম

জনবল সংকটের পাহাড় ডিঙিয়ে আউটটার্ন বৃদ্ধির সফল নায়ক মমতাজুল ইসলাম

জননলসহ নানা সংকট নিয়েও  নিজের মেধা ও দক্ষত ও কর্তব্য নিষ্ঠা দিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তুলনামূলক ভাবে কোচ সংস্কার বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রেখেছেন কার্য ব্যাবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম। নিয়ম মাফিক সম্প্রতি তাকে বদলি করা হয়েছে ঢাকা রেল ভবনে।

 জানা যায়,  মাত্র ৮৫৪ জন জনবল নিয়ে চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উতপাদন কাজ। অথচ অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩ হাজার ২২০টি।

সেখানে শূন্য রয়েছে ২ হাজার ৩৬৬টি পদ। যা প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় ৭৩ শতাংশ ঘাটতি। আর এই জনবল দিয়েই  সচল রাখতে হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই রেলওয়ে কারখানার কর্মযজ্ঞ। 

এমন প্রতিকূল বাস্তবতায় কাজের আউটটার্ন বাড়ানোর প্রচেষ্টায় নিজের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ওয়ার্কস ম্যানেজার মো. মমতাজুল ইসলাম।

তবে জনবলসংকট, উপকরণের ঘাটতি আর সময়ের কঠিন হিসাব—সব মিলিয়ে কারখানাটির কর্মপরিবেশ সহজ ছিল না। বিশেষ করে ঈদযাত্রার আগে কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। লাখো মানুষের ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা পূরণে তখন পুরোনো ও অচল রেলকোচ মেরামত করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে হয়।

 নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করে পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে শ্রমিক, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণ।

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ১০৬টি কোচ মেরামতের পর ঈদুল আজহায় ১২৭টি কোচ প্রস্তুতের লক্ষ্য নেওয়া হয়। আগের ঈদের তুলনায় ২১টি বেশি কোচ মেরামতের এই উদ্যোগ ছিল বাড়তি যাত্রীচাপ সামলানোর প্রস্তুতির অংশ। 

ঈদুল আজহার আগে ২০ মে পর্যন্ত ১২৭টি কোচ মেরামতের কাজ শেষ করা হয়। এর মধ্যে ১০৩টি কোচ রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছিল। 

এই কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে কারখানার বিভিন্ন শপের শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের নিরলস পরিশ্রম। 

কোচের জরাজীর্ণ কাঠামো মেরামত, চাকার ট্রলি সংস্কার, আসনবিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং রং-সাজসজ্জার কাজ শেষ করে কোচগুলোকে চলাচলের উপযোগী করতে হয়।

 এ জন্য একাধিক শপকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। জনবলসংকটের কারণে অনেক শ্রমিককে নিয়মিত কর্মঘণ্টার পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মমতাজুল ইসলামের কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো,  কম জনবল নিয়েও আগের তুলনায় কাজের আউটটার্ন বাড়ানো। 

সীমিত শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকতা রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ কারখানার উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সৈয়দের রেলওয়ে কারখানার এ জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা। 

মমতাজুল ইসলাম বলেন, আমি যেখানেই কাজ করি, আমার লক্ষ্য শতভাগ নিংড়ে দেওয়া। এই প্রচেষ্টা সর্বদা আমার মানসিকতাকে শক্তিশালী করে। তাই সফলতা আসে। আর এ কারণ এখানে মেরামত করা কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হয়ে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হয়। দেশের রেল যোগাযোগকে সমৃদ্ধ করে। 

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


জনবল সংকটের পাহাড় ডিঙিয়ে আউটটার্ন বৃদ্ধির সফল নায়ক মমতাজুল ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জননলসহ নানা সংকট নিয়েও  নিজের মেধা ও দক্ষত ও কর্তব্য নিষ্ঠা দিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তুলনামূলক ভাবে কোচ সংস্কার বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রেখেছেন কার্য ব্যাবস্থাপক মমতাজুল ইসলাম। নিয়ম মাফিক সম্প্রতি তাকে বদলি করা হয়েছে ঢাকা রেল ভবনে।

 জানা যায়,  মাত্র ৮৫৪ জন জনবল নিয়ে চলছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উতপাদন কাজ। অথচ অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩ হাজার ২২০টি।

সেখানে শূন্য রয়েছে ২ হাজার ৩৬৬টি পদ। যা প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় ৭৩ শতাংশ ঘাটতি। আর এই জনবল দিয়েই  সচল রাখতে হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই রেলওয়ে কারখানার কর্মযজ্ঞ। 

এমন প্রতিকূল বাস্তবতায় কাজের আউটটার্ন বাড়ানোর প্রচেষ্টায় নিজের কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ওয়ার্কস ম্যানেজার মো. মমতাজুল ইসলাম।

তবে জনবলসংকট, উপকরণের ঘাটতি আর সময়ের কঠিন হিসাব—সব মিলিয়ে কারখানাটির কর্মপরিবেশ সহজ ছিল না। বিশেষ করে ঈদযাত্রার আগে কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। লাখো মানুষের ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা পূরণে তখন পুরোনো ও অচল রেলকোচ মেরামত করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে হয়।

 নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করে পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে শ্রমিক, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণ।

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ১০৬টি কোচ মেরামতের পর ঈদুল আজহায় ১২৭টি কোচ প্রস্তুতের লক্ষ্য নেওয়া হয়। আগের ঈদের তুলনায় ২১টি বেশি কোচ মেরামতের এই উদ্যোগ ছিল বাড়তি যাত্রীচাপ সামলানোর প্রস্তুতির অংশ। 

ঈদুল আজহার আগে ২০ মে পর্যন্ত ১২৭টি কোচ মেরামতের কাজ শেষ করা হয়। এর মধ্যে ১০৩টি কোচ রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছিল। 

এই কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে কারখানার বিভিন্ন শপের শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের নিরলস পরিশ্রম। 

কোচের জরাজীর্ণ কাঠামো মেরামত, চাকার ট্রলি সংস্কার, আসনবিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং রং-সাজসজ্জার কাজ শেষ করে কোচগুলোকে চলাচলের উপযোগী করতে হয়।

 এ জন্য একাধিক শপকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। জনবলসংকটের কারণে অনেক শ্রমিককে নিয়মিত কর্মঘণ্টার পরও অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মমতাজুল ইসলামের কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো,  কম জনবল নিয়েও আগের তুলনায় কাজের আউটটার্ন বাড়ানো। 

সীমিত শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকতা রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ কারখানার উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সৈয়দের রেলওয়ে কারখানার এ জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা। 

মমতাজুল ইসলাম বলেন, আমি যেখানেই কাজ করি, আমার লক্ষ্য শতভাগ নিংড়ে দেওয়া। এই প্রচেষ্টা সর্বদা আমার মানসিকতাকে শক্তিশালী করে। তাই সফলতা আসে। আর এ কারণ এখানে মেরামত করা কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হয়ে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হয়। দেশের রেল যোগাযোগকে সমৃদ্ধ করে। 



BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত