শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ, সৃজনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পোষ্য প্রাণী প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, পাখি ও মাছ নিয়ে অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে ছিল দেশি ছাগল, হাঁস, ব্লেজিং কল ডাক, ঘিয়াচুলি কবুতর, দেশি কবুতর, সাদা গিরিবাজ, বম্বে গিরিবাজ, লাক্ষা, দেশি গিরিবাজ, বাজলিকা পাখি ও দেশি টিয়া। এছাড়া পার্সিয়ানসহ বিদেশি জাতের বিড়াল, গিনিপিগ ও খরগোশও প্রদর্শন করা হয়।
জলজ প্রাণী ও মাছের প্রদর্শনীও ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে গাপ্পি, ঘোরানি, কমেট, মলি, কাকরা, ফাইটার ফিশ, অ্যাঞ্জেল, ব্ল্যাক মলি, কিং কোবরা ও ইন্ডিয়ান শিপ টার্টেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী প্রদর্শন করা হয়।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেদের পোষ্য প্রাণী সংগ্রহ, পরিচর্যা ও প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং মমত্ববোধের পাশাপাশি প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, পরিচর্যা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার। মাঠে বালকদের মধ্যে কাবাডি এবং বালিকাদের মধ্যে বউচি ও গোল্লাছুটসহ বিভিন্ন দেশীয় খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসব খেলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। বিশেষ করে বউচি ও গোল্লাছুটের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে দেয়ালিকা প্রকাশনা এবং দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত থেকে কর্মসূচিগুলোর উদ্বোধন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা কর্মসূচির আলোকে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাদের বাস্তবজ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ দিতে হবে।”
অধ্যক্ষ আরও বলেন, “পোষ্য প্রাণী প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণীর প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, পরিচর্যা ও গুরুত্ব সম্পর্কে হাতে-কলমে জানতে পারছে। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞানেও তারা সমৃদ্ধ হচ্ছে।”
দেশীয় খেলাধুলার বিষয়ে তিনি বলেন, “কাবাডি, বউচি ও গোল্লাছুটের মতো দেশীয় খেলাগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এসব খেলা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ধরে রাখা সম্ভব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বাস্তবজ্ঞান বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। সৈয়দপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ আয়োজন সেই বহুমাত্রিক শিক্ষারই একটি কার্যকর উদাহরণ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ, সৃজনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পোষ্য প্রাণী প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, পাখি ও মাছ নিয়ে অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে ছিল দেশি ছাগল, হাঁস, ব্লেজিং কল ডাক, ঘিয়াচুলি কবুতর, দেশি কবুতর, সাদা গিরিবাজ, বম্বে গিরিবাজ, লাক্ষা, দেশি গিরিবাজ, বাজলিকা পাখি ও দেশি টিয়া। এছাড়া পার্সিয়ানসহ বিদেশি জাতের বিড়াল, গিনিপিগ ও খরগোশও প্রদর্শন করা হয়।
জলজ প্রাণী ও মাছের প্রদর্শনীও ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে গাপ্পি, ঘোরানি, কমেট, মলি, কাকরা, ফাইটার ফিশ, অ্যাঞ্জেল, ব্ল্যাক মলি, কিং কোবরা ও ইন্ডিয়ান শিপ টার্টেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী প্রদর্শন করা হয়।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেদের পোষ্য প্রাণী সংগ্রহ, পরিচর্যা ও প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং মমত্ববোধের পাশাপাশি প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, পরিচর্যা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার। মাঠে বালকদের মধ্যে কাবাডি এবং বালিকাদের মধ্যে বউচি ও গোল্লাছুটসহ বিভিন্ন দেশীয় খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এসব খেলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। বিশেষ করে বউচি ও গোল্লাছুটের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে দেয়ালিকা প্রকাশনা এবং দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত থেকে কর্মসূচিগুলোর উদ্বোধন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা কর্মসূচির আলোকে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাদের বাস্তবজ্ঞান, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ দিতে হবে।”
অধ্যক্ষ আরও বলেন, “পোষ্য প্রাণী প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণীর প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, পরিচর্যা ও গুরুত্ব সম্পর্কে হাতে-কলমে জানতে পারছে। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞানেও তারা সমৃদ্ধ হচ্ছে।”
দেশীয় খেলাধুলার বিষয়ে তিনি বলেন, “কাবাডি, বউচি ও গোল্লাছুটের মতো দেশীয় খেলাগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এসব খেলা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ধরে রাখা সম্ভব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বাস্তবজ্ঞান বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। সৈয়দপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ আয়োজন সেই বহুমাত্রিক শিক্ষারই একটি কার্যকর উদাহরণ।

আপনার মতামত লিখুন