ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সিএজি নূরুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

সিএজি নূরুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

‎জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুর থানার ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) নূরুল ইসলামের অপসারণের দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক ফোরাম।

‎শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তারা এ দাবি করেন।

‎মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নূরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তারা দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা উচিত নয়।

‎বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ছাত্র হত্যা মামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সিএজি নূরুল ইসলামকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান তারা। 

‎বক্তারা আরও বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার দোসর সকল সাংবিধানিক পদের প্রধানরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে পালিয়েছে। কেউ আবার আত্মগোপনে আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সি এ জি (কন্ট্রোলার এন্ড অডিট জেনারেল) একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের আর্থিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা জবাব দিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে বর্তমান নিয়োগকৃত সি এ জি নূরুল ইসলাম চাটুকারিতা দুর্নীতি অযোগ্যতার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।

‎তারা আরও বলেন,  স্বৈরাচারি সরকারের রাজনৈতিক এজেন্টরা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে তাকে এই পদে বসানো হয়েছিল। স্বৈরাচারি সরকারের পতনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি একমাত্র সিএজি যিনি কর্মকর্তাদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়া ও ধানমন্ডি ৩২নাম্বারে ফুল দিতে যেতে বাধ্য করতেন। শুধু তাই না সরকারি অর্থে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মদিন, শেখ কামালের জন্মদিন, শেখ রাসেলে জন্মদিন, শেখ রাসেল দিবস সহ মুজিব পরিবারের বিভিন্ন জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী নিয়মিত কেক কাটা ও দোয়ার আয়োজনের মাধ্যমে উৎযাপন করতেন। এ সব অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতে। 

‎এছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি অডিট ভবনের নিচতলায় শেখ মুজিব কর্ণার স্থাপন  সি এ জি'র কার্যালয়ের সামনে সেবা প্রার্থীদের অপেক্ষার স্থান সংকুচিত করে শেখ মুজিবের মুরাল নির্মাণ সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ার প্রতিযোগিতা করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি সকল কর্মকর্তাদের ডেকে ফেইসবুক প্রোফাইল কালো করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তারা সেই নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেন। 

‎মানববন্ধনে দুর্নীতিবাজ শেখ হাসিনার দোসর সিএজির নূরুল ইসামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চাকুরী থেকে অপসারণের আবেদন জানায়।

‎মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন জুলাই যোদ্ধা কর্ণেল (অব) ফেরদৌস আজিজ, পিএসসিজি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম বাদল, মো. আলী হোসেন, ফিরোজ মাহমুদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। 

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সিএজি নূরুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‎জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুর থানার ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) নূরুল ইসলামের অপসারণের দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক ফোরাম।

‎শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তারা এ দাবি করেন।

‎মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নূরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তারা দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা উচিত নয়।

‎বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ছাত্র হত্যা মামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সিএজি নূরুল ইসলামকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান তারা। 

‎বক্তারা আরও বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার দোসর সকল সাংবিধানিক পদের প্রধানরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে পালিয়েছে। কেউ আবার আত্মগোপনে আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সি এ জি (কন্ট্রোলার এন্ড অডিট জেনারেল) একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের আর্থিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা জবাব দিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে বর্তমান নিয়োগকৃত সি এ জি নূরুল ইসলাম চাটুকারিতা দুর্নীতি অযোগ্যতার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।

‎তারা আরও বলেন,  স্বৈরাচারি সরকারের রাজনৈতিক এজেন্টরা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে তাকে এই পদে বসানো হয়েছিল। স্বৈরাচারি সরকারের পতনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি একমাত্র সিএজি যিনি কর্মকর্তাদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়া ও ধানমন্ডি ৩২নাম্বারে ফুল দিতে যেতে বাধ্য করতেন। শুধু তাই না সরকারি অর্থে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মদিন, শেখ কামালের জন্মদিন, শেখ রাসেলে জন্মদিন, শেখ রাসেল দিবস সহ মুজিব পরিবারের বিভিন্ন জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী নিয়মিত কেক কাটা ও দোয়ার আয়োজনের মাধ্যমে উৎযাপন করতেন। এ সব অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতে। 

‎এছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি অডিট ভবনের নিচতলায় শেখ মুজিব কর্ণার স্থাপন  সি এ জি'র কার্যালয়ের সামনে সেবা প্রার্থীদের অপেক্ষার স্থান সংকুচিত করে শেখ মুজিবের মুরাল নির্মাণ সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ার প্রতিযোগিতা করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি সকল কর্মকর্তাদের ডেকে ফেইসবুক প্রোফাইল কালো করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তারা সেই নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেন। 

‎মানববন্ধনে দুর্নীতিবাজ শেখ হাসিনার দোসর সিএজির নূরুল ইসামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চাকুরী থেকে অপসারণের আবেদন জানায়।

‎মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন জুলাই যোদ্ধা কর্ণেল (অব) ফেরদৌস আজিজ, পিএসসিজি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম বাদল, মো. আলী হোসেন, ফিরোজ মাহমুদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। 


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত