ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক


কারখানার শহরে মাদকের থাবা, লড়ছে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি

ভোর হলেই সাভার-আশুলিয়ার রাস্তায় নামে শ্রমিকের স্রোত। দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে এখানকার কারখানাগুলোতে। কিন্তু এই ব্যস্ত শিল্পাঞ্চলের ভেতরেই নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়ছিল আরেকটা ব্যবসা, মাদক। আর তার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছিল তরুণ শ্রমিক আর এলাকার কিশোর-যুবকেরা।স্থানীয়দের কথায়, কম বয়সী ছেলেরা কাজ শেষে আড্ডায় বসে, সেখান থেকেই অনেকে জড়িয়ে পড়ে নেশায়। মাসের বেতন চলে যায় মাদকের পেছনে, ঘরে অশান্তি বাড়ে, কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ে চুরি-ছিনতাইয়ে। এক নেশাগ্রস্ত সদস্যের কারণে গোটা পরিবার কীভাবে ভেঙে পড়ে, এখানে অনেকেরই তা কাছ থেকে দেখা।এই বাস্তবতায় মাঠে সক্রিয় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে তারা। এসব অভিযানের সামনের সারিতে আছেন একাধিক পদকপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মতিউর রহমান ও তাঁর দল।এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, আগে যেসব জায়গায় খোলামেলা মাদক বিক্রি হতো, এখন সেখানে কারবারিরা গা ঢাকা দিয়েছে। অপরাধও আগের চেয়ে কমেছে বলে মনে করেন অনেকে।তবে অভিযানে যাদের ব্যবসা বন্ধের পথে, তারা চুপ করে বসে নেই। অভিযোগ উঠেছে, কোণঠাসা হয়ে পড়া একটি মাদক চক্র অভিযান থামাতে এখন সরাসরি এসআই মতিউর রহমানকে নিশানা করেছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর নামে নানা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এলাকার সচেতন মানুষজনের ধারণা, যে কর্মকর্তা মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়, তাঁকে সরাতে পারলেই অভিযান থেমে যাবে, এমন হিসাব থেকেই এই প্রচারণা।বিষয়টি নিয়ে কথা হয় এসআই মতিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “মাদক একটা পরিবারকে শেষ করে দেয়, একটা প্রজন্মকে নষ্ট করে দেয়। আমরা অভিযান চালাচ্ছি, কে কতটা প্রভাবশালী সেটা দেখছি না। আইনের চোখে সবাই সমান।”নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। যারা অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত, তারাই এসব ছড়াচ্ছে। এতে আমরা বিচলিত না। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে পারেন, যেকোনো তদন্তে আমি সহযোগিতা করব।”মাদক নির্মূলে মানুষের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “কারও কাছে মাদকের খবর থাকলে নির্ভয়ে আমাদের জানান, তথ্যদাতার নাম গোপন রাখা হবে।” অভিভাবকদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, সেদিকে খেয়াল রাখতে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গুজবে কান না দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করাটাই এখন জরুরি। শিল্পাঞ্চলকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি আর পরিবারকেও এগিয়ে আসতে হবে। কারণ শ্রমিক সুস্থ থাকলেই সচল থাকবে কারখানা, নিরাপদ থাকবে এলাকা।ডিবি সূত্র জানিয়েছে, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে।

কারখানার শহরে মাদকের থাবা, লড়ছে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি