সাভারের দেওগাঁও-রাজাশন এলাকাবাসী দীর্ঘদিন
ধরে যেসব মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কিত ছিল।
অবশেষে সেই চক্রের অন্যতম আলোচিত নাম হৃদয় র্যাব-৪ এর হাতে ধরা পড়েছে।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় শুধুমাত্র একজন মাদক
ব্যবসায়ীই নয়, সে ছিল একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের
সক্রিয় সদস্য, যার মাধ্যমে কিশোরগ্যাংসহ বিভিন্ন এলাকায়
মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তার করা হয়। চাঁদাবাজি, ছিনতাই থেকে
শুরু করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোনো অপকর্মই বাদ ছিল
না বলে অভিযোগ রয়েছে
যার পূরোটাই নিয়ন্ত্রণ করা হতো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে
তার রাজনৈতিক ছত্রছায়া। এলাকাবাসীর দাবি, হৃদয় সাভার থানা ছাত্রদল নেতা মাহবুব
সামীরের আপন ছোট ভাই এবং তার প্রভাব ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য
বিস্তার করে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষায়,
“মাহবুব সামীরের নামটাই ছিল হৃদয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এই পরিচয় দেখিয়েই সে এলাকায় একপ্রকার অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠা করেছিল।”
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সাভার পৌর
যুবদল নেতা তাজুল ইসলাম এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হৃদয় পুরো একটি সিন্ডিকেট
পরিচালনা করত, যার মাধ্যমে দেওগাঁও ও রাজাশন এলাকাকে
মাদকের নিরাপদ রুটে পরিণত করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অতীতে
ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সুবিধাবাদী রাজনীতির অংশ হিসেবে পরিচয় বদলে যুবদলের
ছত্রছায়ায় আসে হৃদয়। জুলাই আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তার সক্রিয়
ভূমিকার অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক
পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে হৃদয় দীর্ঘদিন ধরেই আইনের নাগালের বাইরে
থেকে গেছে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছিল মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে।
অবশেষে র্যাবের এই অভিযানে
হৃদয়ের গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি
জানান, “অনেকদিন পর মনে হচ্ছে আমরা একটু নিরাপদে আছি। যারা এতদিন প্রভাব দেখিয়ে
অপরাধ চালিয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা দরকার।”
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি হৃদয়ের পেছনে থাকা পুরো চক্র, বিশেষ করে যাদের
নাম ব্যবহার করে এই সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তাদেরও দ্রুত
আইনের মুখোমুখি করা হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী আরও জানান,
সাভার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ শাহীন এবং সাভার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের সরাসরি ছত্রছায়ায় হৃদয়কে ছাত্রলীগ থেকে যুবদলে পুনর্বাসন করা হয়। তাদের দাবি, এই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই হৃদয় এতদিন নির্বিঘ্নে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতে পেরেছে এবং সাভারে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সাভারের দেওগাঁও-রাজাশন এলাকাবাসী দীর্ঘদিন
ধরে যেসব মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কিত ছিল।
অবশেষে সেই চক্রের অন্যতম আলোচিত নাম হৃদয় র্যাব-৪ এর হাতে ধরা পড়েছে।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় শুধুমাত্র একজন মাদক
ব্যবসায়ীই নয়, সে ছিল একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের
সক্রিয় সদস্য, যার মাধ্যমে কিশোরগ্যাংসহ বিভিন্ন এলাকায়
মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তার করা হয়। চাঁদাবাজি, ছিনতাই থেকে
শুরু করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোনো অপকর্মই বাদ ছিল
না বলে অভিযোগ রয়েছে
যার পূরোটাই নিয়ন্ত্রণ করা হতো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে
তার রাজনৈতিক ছত্রছায়া। এলাকাবাসীর দাবি, হৃদয় সাভার থানা ছাত্রদল নেতা মাহবুব
সামীরের আপন ছোট ভাই এবং তার প্রভাব ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য
বিস্তার করে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষায়,
“মাহবুব সামীরের নামটাই ছিল হৃদয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এই পরিচয় দেখিয়েই সে এলাকায় একপ্রকার অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠা করেছিল।”
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সাভার পৌর
যুবদল নেতা তাজুল ইসলাম এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হৃদয় পুরো একটি সিন্ডিকেট
পরিচালনা করত, যার মাধ্যমে দেওগাঁও ও রাজাশন এলাকাকে
মাদকের নিরাপদ রুটে পরিণত করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অতীতে
ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সুবিধাবাদী রাজনীতির অংশ হিসেবে পরিচয় বদলে যুবদলের
ছত্রছায়ায় আসে হৃদয়। জুলাই আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তার সক্রিয়
ভূমিকার অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক
পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে হৃদয় দীর্ঘদিন ধরেই আইনের নাগালের বাইরে
থেকে গেছে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছিল মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে।
অবশেষে র্যাবের এই অভিযানে
হৃদয়ের গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি
জানান, “অনেকদিন পর মনে হচ্ছে আমরা একটু নিরাপদে আছি। যারা এতদিন প্রভাব দেখিয়ে
অপরাধ চালিয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা দরকার।”
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি হৃদয়ের পেছনে থাকা পুরো চক্র, বিশেষ করে যাদের
নাম ব্যবহার করে এই সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তাদেরও দ্রুত
আইনের মুখোমুখি করা হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী আরও জানান,
সাভার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ শাহীন এবং সাভার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের সরাসরি ছত্রছায়ায় হৃদয়কে ছাত্রলীগ থেকে যুবদলে পুনর্বাসন করা হয়। তাদের দাবি, এই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই হৃদয় এতদিন নির্বিঘ্নে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতে পেরেছে এবং সাভারে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।
আপনার মতামত লিখুন