বুধবার (২১ অক্টোবর) সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সৈয়দপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গফুর বস্তি এলাকায় তাঁদের বাড়ি। তাঁর স্বামী মোঃ বাপ্পি আটক রয়েছেন। চার নাবালক সন্তানের জননী সেলিনা বর্তমানে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
সেলিনা বেগমের ভাষ্য, রাসেল নামের এক যুবকের সঙ্গে তিন হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তাঁর দাবি, রাসেলের কাছে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে একটি মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা হয়েছিল। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাসেল ফোনটি নিয়ে গেলেও অর্থ পরিশোধে কালক্ষেপণ করেন।
সেলিনা অভিযোগ করেন, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তাঁদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁর স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, বাড়িতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পরে পূর্বের একটি মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর স্বামীকে আটক করে।
তিনি আরও জানান, স্বামীর আটকের পর তাঁদের বাড়িতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে তাঁর অভিযোগ।
সেলিনার দাবি, হামলায় তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হয়ে চিকিৎসা নেন। হামলাকারীরা তাঁদের বাড়ির চারটি ঘর ভেঙে ফেলে এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
সেলিনা বেগমের আশঙ্কা, পরিবারের সদস্যদের মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় ও অনাগত সন্তানের প্রসবকালীন ব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “কাউকে মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হামলা চালানো আইনের পরিপন্থী। অপরাধ স্বীকার করে আলোর পথে আসতে চাইলে সে সুযোগ রয়েছে। তাই বলে একজন অসহায় গর্ভবতী নারী ও তাঁর সন্তানদের গৃহহারা করা অমানবিক। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে সেলিনা বেগম অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার (২১ অক্টোবর) সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সৈয়দপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গফুর বস্তি এলাকায় তাঁদের বাড়ি। তাঁর স্বামী মোঃ বাপ্পি আটক রয়েছেন। চার নাবালক সন্তানের জননী সেলিনা বর্তমানে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
সেলিনা বেগমের ভাষ্য, রাসেল নামের এক যুবকের সঙ্গে তিন হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তাঁর দাবি, রাসেলের কাছে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে একটি মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা হয়েছিল। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাসেল ফোনটি নিয়ে গেলেও অর্থ পরিশোধে কালক্ষেপণ করেন।
সেলিনা অভিযোগ করেন, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তাঁদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁর স্বামীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, বাড়িতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পরে পূর্বের একটি মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর স্বামীকে আটক করে।
তিনি আরও জানান, স্বামীর আটকের পর তাঁদের বাড়িতে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে তাঁর অভিযোগ।
সেলিনার দাবি, হামলায় তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হয়ে চিকিৎসা নেন। হামলাকারীরা তাঁদের বাড়ির চারটি ঘর ভেঙে ফেলে এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
সেলিনা বেগমের আশঙ্কা, পরিবারের সদস্যদের মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাঁদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় ও অনাগত সন্তানের প্রসবকালীন ব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “কাউকে মাদকাসক্ত বা মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হামলা চালানো আইনের পরিপন্থী। অপরাধ স্বীকার করে আলোর পথে আসতে চাইলে সে সুযোগ রয়েছে। তাই বলে একজন অসহায় গর্ভবতী নারী ও তাঁর সন্তানদের গৃহহারা করা অমানবিক। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে সেলিনা বেগম অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন