ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জের পাগলাপীরে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত এই সফরে সড়কের দুই পাশে সমবেত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে তাঁরা তাঁর সঙ্গে আছেন কি না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবাবে উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের পর দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রসঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার কথাও তিনি বলেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আ: গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার শাহিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি আরমান হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি রশিদুল হক সরকার, তাতী দলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল সরকারসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সৈয়দপুর থেকে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে এই পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি ছিল তাঁর।
দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে রংপুরের পর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং রাতে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচিও ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এর আগে সকালে ঢাকার মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উদ্যাপিত হয়। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জের পাগলাপীরে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত এই সফরে সড়কের দুই পাশে সমবেত মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে তাঁরা তাঁর সঙ্গে আছেন কি না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবাবে উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের পর দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রসঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার কথাও তিনি বলেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আ: গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহিন আকতার শাহিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি আরমান হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি রশিদুল হক সরকার, তাতী দলের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল সরকারসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সৈয়দপুর থেকে সড়কপথে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে এই পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি ছিল তাঁর।
দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে রংপুরের পর রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং রাতে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচিও ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এর আগে সকালে ঢাকার মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উদ্যাপিত হয়। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আপনার মতামত লিখুন