২০ অক্টোবর মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এসব কার্যক্রমে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। তাঁর সফর ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সৈয়দপুর পৌরসভার উদ্যোগে বিমানবন্দর সড়ক, পার্বতীপুর সড়ক ও বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সড়ক ও সড়ক বিভাজক ধোয়া-মোছার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রং করা হচ্ছে। বিমানবন্দর সড়কের বিভাজকে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছ। পরিষ্কার করা হচ্ছে ফুটপাত, যা পথচারীদের চলাচলের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলছে।
শহরের পাঁচমাথা মোড় থেকে সিএসডি মোড় পর্যন্ত ভিআইপি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়কের মাঝখানের ডিভাইডার এবং উভয় পাশের ফুটপাতের দেয়াল লাল-সাদা রঙের মিশেলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। লাল-সাদার এই বর্ণিল সমন্বয় সড়কটিতে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। পরিচ্ছন্ন সড়ক, রঙিন ডিভাইডার ও সুশৃঙ্খল ফুটপাত মিলিয়ে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষের চোখে পড়ছে এই নান্দনিক পরিবর্তন।
শহরকে নতুন রূপে সাজাতে সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক এবং পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এগিয়ে চলছে।
শহরের ঐতিহ্য ও পরিচিতি তুলে ধরতে সিএসডি মোড়ে স্থাপন করা হচ্ছে প্রতীকী নিদর্শন। সৈয়দপুরের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও নগরজীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার এই উদ্যোগ শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যকে দৃশ্যমান করতেও ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি নেতা ও হাজাটী হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুতফর রহমান বলেন, “সৈয়দপুর পৌরসভার এ উদ্যোগ ও প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে। বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে একই ফ্রেমে শহরের ঐতিহ্য ও পরিচিতি তুলে ধরার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এতে সৈয়দপুরে আসা অতিথিদের কাছে শহরের স্বতন্ত্র পরিচয় ও ঐতিহ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাজসজ্জার কাজ চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন সড়ক, সুশৃঙ্খল ফুটপাত, ফুলে সাজানো সড়ক বিভাজক এবং লাল-সাদা রঙের নান্দনিক সমন্বয় শহরের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
শহরের পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে সৈয়দপুরের সুন্দর চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ ইতিবাচক। শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ নগরবাসীর জন্যও স্বস্তিদায়ক। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে শহরের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
তিনি বলেন, সৈয়দপুরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে সারা বছরই পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলি ও পাড়া-মহল্লার সড়ক সংস্কার, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
সৈয়দপুরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শুরু হওয়া সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম ও এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সৈয়দপুর আরও পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
২০ অক্টোবর মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এসব কার্যক্রমে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। পরে বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। তাঁর সফর ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সৈয়দপুর পৌরসভার উদ্যোগে বিমানবন্দর সড়ক, পার্বতীপুর সড়ক ও বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সড়ক ও সড়ক বিভাজক ধোয়া-মোছার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রং করা হচ্ছে। বিমানবন্দর সড়কের বিভাজকে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছ। পরিষ্কার করা হচ্ছে ফুটপাত, যা পথচারীদের চলাচলের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলছে।
শহরের পাঁচমাথা মোড় থেকে সিএসডি মোড় পর্যন্ত ভিআইপি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়কের মাঝখানের ডিভাইডার এবং উভয় পাশের ফুটপাতের দেয়াল লাল-সাদা রঙের মিশেলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। লাল-সাদার এই বর্ণিল সমন্বয় সড়কটিতে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। পরিচ্ছন্ন সড়ক, রঙিন ডিভাইডার ও সুশৃঙ্খল ফুটপাত মিলিয়ে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষের চোখে পড়ছে এই নান্দনিক পরিবর্তন।
শহরকে নতুন রূপে সাজাতে সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক এবং পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এগিয়ে চলছে।
শহরের ঐতিহ্য ও পরিচিতি তুলে ধরতে সিএসডি মোড়ে স্থাপন করা হচ্ছে প্রতীকী নিদর্শন। সৈয়দপুরের স্বতন্ত্র ইতিহাস ও নগরজীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার এই উদ্যোগ শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যকে দৃশ্যমান করতেও ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি নেতা ও হাজাটী হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুতফর রহমান বলেন, “সৈয়দপুর পৌরসভার এ উদ্যোগ ও প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে। বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে একই ফ্রেমে শহরের ঐতিহ্য ও পরিচিতি তুলে ধরার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এতে সৈয়দপুরে আসা অতিথিদের কাছে শহরের স্বতন্ত্র পরিচয় ও ঐতিহ্য সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাজসজ্জার কাজ চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন সড়ক, সুশৃঙ্খল ফুটপাত, ফুলে সাজানো সড়ক বিভাজক এবং লাল-সাদা রঙের নান্দনিক সমন্বয় শহরের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
শহরের পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে সৈয়দপুরের সুন্দর চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ ইতিবাচক। শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ নগরবাসীর জন্যও স্বস্তিদায়ক। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত থাকলে শহরের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
তিনি বলেন, সৈয়দপুরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে সারা বছরই পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলি ও পাড়া-মহল্লার সড়ক সংস্কার, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
সৈয়দপুরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শুরু হওয়া সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম ও এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সৈয়দপুর আরও পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন