ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক সৈয়দপুরে

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক সৈয়দপুরে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদকবিরোধীতায় ঐক্যের ধারাবাহিকতায়  প্রতিটি ওয়াডে কমিটি গঠন ও নির্মুলে  সচেতনতা সভা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়  বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টায় শহরের কাজীপাড়ায় জাগ্রত যুব সমাজ ক্লাবের উদ্যোগে এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার স্লোগান ছিল—‘আসুন ঐক্যবদ্ধ হই, মাদককে না বলি, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করি, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ি।’

সৈয়দপুর পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মো. ওসমান আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান। জাগ্রত যুব সমাজের সৈয়দপুর শাখার সভাপতি তারিকুল ইসলাম সভা পরিচালনা করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা, সাবেক কাউন্সিলর মোছাম্মৎ আফরোজা ইয়াসমিন এবং বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম।

সাথে  সৈয়দপুর মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সদস্যসচিব মো. সেকেন্দার আলী (আদনান)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদ হোসেন পাপ্পু মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানুষের সংখ্যা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি। তাই সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান বলেন, মাদক সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি এর চাহিদা কমানোও জরুরি। মানুষ মাদক সেবন থেকে বিরত থাকলে বিক্রেতাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

তিনি বলেন, মাদক তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নীলফামারীতে অধিদপ্তরের ১৩ জন কর্মী ও একটি যানবাহন রয়েছে।

প্রধান অতিথির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ৫২৮টি মামলা করা হয়েছে এবং প্রায় ৫৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সৈয়দপুর মাদক নির্মূল কমিটির কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি মাদকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ধূমপানসহ সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নারী-পুরুষকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান প্রধান অতিথি। পরে শপথসংবলিত কাগজে স্বাক্ষর করেন অংশগ্রহণকারীরা। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।

তাঁদের মতে, মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।

এদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান রাখায় সৈয়দপুর শহরের ১০ নং ওয়াডের কাজিহাট এলাকার রনি নামের প্রান নাশের হুমকি দেয়া হয়েছে।  এছাড়া মিথ্যা মাদক ব্যাবসায়ী সাজিয়ে বাশবাড়ি এলাকার রুপালি নামে এক গৃহবধূর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।  কতিপয় দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিত ভাবে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাদক দ্রব্য নির্মুল কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু। 

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক সৈয়দপুরে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদকবিরোধীতায় ঐক্যের ধারাবাহিকতায়  প্রতিটি ওয়াডে কমিটি গঠন ও নির্মুলে  সচেতনতা সভা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়  বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টায় শহরের কাজীপাড়ায় জাগ্রত যুব সমাজ ক্লাবের উদ্যোগে এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার স্লোগান ছিল—‘আসুন ঐক্যবদ্ধ হই, মাদককে না বলি, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করি, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ি।’

সৈয়দপুর পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মো. ওসমান আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান। জাগ্রত যুব সমাজের সৈয়দপুর শাখার সভাপতি তারিকুল ইসলাম সভা পরিচালনা করেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা, সাবেক কাউন্সিলর মোছাম্মৎ আফরোজা ইয়াসমিন এবং বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম।

সাথে  সৈয়দপুর মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সদস্যসচিব মো. সেকেন্দার আলী (আদনান)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদ হোসেন পাপ্পু মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানুষের সংখ্যা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি। তাই সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান বলেন, মাদক সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি এর চাহিদা কমানোও জরুরি। মানুষ মাদক সেবন থেকে বিরত থাকলে বিক্রেতাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

তিনি বলেন, মাদক তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, নীলফামারীতে অধিদপ্তরের ১৩ জন কর্মী ও একটি যানবাহন রয়েছে।

প্রধান অতিথির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ৫২৮টি মামলা করা হয়েছে এবং প্রায় ৫৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সৈয়দপুর মাদক নির্মূল কমিটির কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি মাদকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ধূমপানসহ সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নারী-পুরুষকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান প্রধান অতিথি। পরে শপথসংবলিত কাগজে স্বাক্ষর করেন অংশগ্রহণকারীরা। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।

তাঁদের মতে, মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।

এদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান রাখায় সৈয়দপুর শহরের ১০ নং ওয়াডের কাজিহাট এলাকার রনি নামের প্রান নাশের হুমকি দেয়া হয়েছে।  এছাড়া মিথ্যা মাদক ব্যাবসায়ী সাজিয়ে বাশবাড়ি এলাকার রুপালি নামে এক গৃহবধূর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে।  কতিপয় দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিত ভাবে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাদক দ্রব্য নির্মুল কমিটির আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু। 


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত