ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নওগাঁর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আব্দুল মুমিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগকারী শ্রীমতি স্মৃতি জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নওগাঁর একটি দল তার বাড়িতে যায়। এ সময় কর্মকর্তারা তাকে মাদক বিক্রেতা হিসেবে সন্দেহ করে বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার স্বামী উজ্জ্বলকে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ছোট প্রতিবন্ধী ছেলের সামনে এএসআই মো. আব্দুল মুমিন দুইটি চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্মৃতির দাবি, তিনি বারবার তার স্বামী মাদকের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালে তাকে এক লাখ টাকা দিতে বলা হয়। বাড়িতে এত টাকা নেই জানালে স্বামীকে মারধরের ভয় দেখানো হয়। পরে ভয়ে তিনি তার ছেলের চিকিৎসার জন্য রাখা ১০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তাকে আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে তাকেও মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করার ভয় দেখানো হয়। এ সময় পরদিন প্রতিবন্ধী ছেলের মাথা ছুঁয়ে শপথ করা শর্তে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে নওগাঁয় টাকা নিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।

স্মৃতির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করে দ্রুত টাকা নিয়ে নওগাঁ যেতে বলা হয়। টাকা না দিলে তাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ তার।

অভিযোগকারী স্মৃতি বলেন, তার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু তিনি ও তার সন্তানরা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিচার চান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী উপপরিদর্শক মো. আব্দুল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি কারও কাছে কোনো টাকা চাননি এবং কাউকে টাকা দেওয়ার জন্যও বলেননি।

ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ভিজিটিং কার্ড যে কেউ সংগ্রহ করতে পারেন। আর মুঠোফোনে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি প্রথমে ওই নারীকে ফোন করেননি। তাকে ফাঁসানোর জন্য ওই নারী তাকে ফোন করেছিলেন। পরে তিনিও তাকে ফোন করেছেন, তবে সেখানে টাকা চাওয়ার কোনো কথা হয়নি।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আপনারা যদি এভাবে আমাদের ধরে ফেলেন, তাহলে তো আমরা কাজ করতে পারব না।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আলমগীর হোসেনের মুঠোফোন একাধিক বার যোগাযোগ করে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নওগাঁর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আব্দুল মুমিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।


অভিযোগকারী শ্রীমতি স্মৃতি জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নওগাঁর একটি দল তার বাড়িতে যায়। এ সময় কর্মকর্তারা তাকে মাদক বিক্রেতা হিসেবে সন্দেহ করে বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার স্বামী উজ্জ্বলকে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ছোট প্রতিবন্ধী ছেলের সামনে এএসআই মো. আব্দুল মুমিন দুইটি চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


স্মৃতির দাবি, তিনি বারবার তার স্বামী মাদকের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালে তাকে এক লাখ টাকা দিতে বলা হয়। বাড়িতে এত টাকা নেই জানালে স্বামীকে মারধরের ভয় দেখানো হয়। পরে ভয়ে তিনি তার ছেলের চিকিৎসার জন্য রাখা ১০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন।


তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তাকে আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে তাকেও মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করার ভয় দেখানো হয়। এ সময় পরদিন প্রতিবন্ধী ছেলের মাথা ছুঁয়ে শপথ করা শর্তে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে নওগাঁয় টাকা নিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।


স্মৃতির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করে দ্রুত টাকা নিয়ে নওগাঁ যেতে বলা হয়। টাকা না দিলে তাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ তার।


অভিযোগকারী স্মৃতি বলেন, তার স্বামী যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু তিনি ও তার সন্তানরা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিচার চান।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী উপপরিদর্শক মো. আব্দুল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি কারও কাছে কোনো টাকা চাননি এবং কাউকে টাকা দেওয়ার জন্যও বলেননি।


ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ভিজিটিং কার্ড যে কেউ সংগ্রহ করতে পারেন। আর মুঠোফোনে যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি প্রথমে ওই নারীকে ফোন করেননি। তাকে ফাঁসানোর জন্য ওই নারী তাকে ফোন করেছিলেন। পরে তিনিও তাকে ফোন করেছেন, তবে সেখানে টাকা চাওয়ার কোনো কথা হয়নি।


অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আপনারা যদি এভাবে আমাদের ধরে ফেলেন, তাহলে তো আমরা কাজ করতে পারব না।’


অভিযোগের বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আলমগীর হোসেনের মুঠোফোন একাধিক বার যোগাযোগ করে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত