ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

পশু চিকিৎসক না হয়েও দেন চিকিৎসা

অনুমোদন ছাড়াই বিনামূল্যে হাসপাতালের কক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহার

অনুমোদন ছাড়াই বিনামূল্যে হাসপাতালের কক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহার
নীলফামারীর কিশোরগন্জ উপজেলা প্রাণীসম্পদ হাসপাতাল

সরকারি হাসপাতাল, সরকারি সেবা ও নির্ধারিত মূল্য। কিন্তু কিশোরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এসব ব্যবস্থাপনা ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।  গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননে সরকারি বীজের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া, চিকিৎসক না হয়েও পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং লিখিত অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের একটি কক্ষ দীর্ঘদিন ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


 সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সাকির হোসেনের বক্তব্যেও এসব অভিযোগের কয়েকটি দিক উঠে এসেছে।

সাকির হোসেন (৪৫) হাসপাতালের ফিল্ড এআইএ কর্মী। প্রায় ১২ বছর ধরে একই পদে কর্মরত তিনি। তাঁর মূল দায়িত্ব গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য বীজ প্রয়োগ করা।

 সরকারি বীজের নির্ধারিত মূল্য ৭৫ টাকা। কিন্তু কৃত্রিম প্রজনন সেবার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন সাকির হোসেন।

তিনি বলেন, “আমি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেই বীজ দিয়ে।”

সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কারণ কী, এ অর্থের কোনো রসিদ দেওয়া হয় কি না এবং তা সরকারি হিসাবে জমা হয় কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

 বাড়িতে গিয়ে কৃত্রিম প্রজনন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও নথি যাচাইয়ের বিষয়।

কৃত্রিম প্রজননের পাশাপাশি পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাকির হোসেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। কোনো ডাক্তার লিখি না।”

সাকির হোসেন চিকিৎসক নন। ফলে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের আরেকটি অংশ হাসপাতালের একটি কক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে। সাকির হোসেন জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি ওই কক্ষে থাকছেন। তবে এ জন্য কোনো লিখিত অফিসিয়াল অনুমোদন নেই। তাঁর ভাষ্য, “এতে সবার সম্মতি আছে। তবে অফিসিয়াল অনুমোদন নেই।”

এক যুগ ধরে সরকারি হাসপাতালের একটি কক্ষ লিখিত অনুমোদন ছাড়া ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কার সম্মতিতে তিনি সেখানে থাকছেন, সেই সম্মতির কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি আছে কি না এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি কীভাবে চলেছে—এসবের উত্তর প্রয়োজন।

কক্ষটিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথাও স্বীকার করেছেন সাকির হোসেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসার জন্য গরম পানি করার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তবে এ ব্যবহারের জন্য কোনো অনুমোদন বা পৃথক হিসাব রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সময়ের বিদ্যুৎ বিল ও হিসাবপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে কর্মঘণ্টায় তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন কি না, বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মানা হচ্ছে কি না এবং সরকারি বীজের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দেওয়া কৃত্রিম প্রজনন সেবার মিল রয়েছে কি-না, এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

 উপস্থিতি রেজিস্টার, মুভমেন্ট রেজিস্টার, কৃত্রিম প্রজনন সেবা রেজিস্টার এবং বীজ বিতরণের হিসাব পর্যালোচনা করলে এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে কিশোরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন কর্মচারীর দায়িত্ব, সরকারি সেবার মূল্য এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম থাকার কথা। সেখানে ব্যত্যয়ের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি।

কিশোরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম প্রজনন সেবা, অর্থ আদায়, দায়িত্বের সীমা এবং সরকারি কক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব খতিয়ে দেখলেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


অনুমোদন ছাড়াই বিনামূল্যে হাসপাতালের কক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহার

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি হাসপাতাল, সরকারি সেবা ও নির্ধারিত মূল্য। কিন্তু কিশোরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এসব ব্যবস্থাপনা ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।  গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননে সরকারি বীজের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া, চিকিৎসক না হয়েও পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং লিখিত অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের একটি কক্ষ দীর্ঘদিন ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


 সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সাকির হোসেনের বক্তব্যেও এসব অভিযোগের কয়েকটি দিক উঠে এসেছে।

সাকির হোসেন (৪৫) হাসপাতালের ফিল্ড এআইএ কর্মী। প্রায় ১২ বছর ধরে একই পদে কর্মরত তিনি। তাঁর মূল দায়িত্ব গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননের জন্য বীজ প্রয়োগ করা।

 সরকারি বীজের নির্ধারিত মূল্য ৭৫ টাকা। কিন্তু কৃত্রিম প্রজনন সেবার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন সাকির হোসেন।

তিনি বলেন, “আমি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেই বীজ দিয়ে।”

সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কারণ কী, এ অর্থের কোনো রসিদ দেওয়া হয় কি না এবং তা সরকারি হিসাবে জমা হয় কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।


 বাড়িতে গিয়ে কৃত্রিম প্রজনন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও নথি যাচাইয়ের বিষয়।

কৃত্রিম প্রজননের পাশাপাশি পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাকির হোসেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। কোনো ডাক্তার লিখি না।”

সাকির হোসেন চিকিৎসক নন। ফলে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের আরেকটি অংশ হাসপাতালের একটি কক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে। সাকির হোসেন জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি ওই কক্ষে থাকছেন। তবে এ জন্য কোনো লিখিত অফিসিয়াল অনুমোদন নেই। তাঁর ভাষ্য, “এতে সবার সম্মতি আছে। তবে অফিসিয়াল অনুমোদন নেই।”

এক যুগ ধরে সরকারি হাসপাতালের একটি কক্ষ লিখিত অনুমোদন ছাড়া ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কার সম্মতিতে তিনি সেখানে থাকছেন, সেই সম্মতির কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি আছে কি না এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি কীভাবে চলেছে—এসবের উত্তর প্রয়োজন।

কক্ষটিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথাও স্বীকার করেছেন সাকির হোসেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসার জন্য গরম পানি করার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তবে এ ব্যবহারের জন্য কোনো অনুমোদন বা পৃথক হিসাব রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সময়ের বিদ্যুৎ বিল ও হিসাবপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে কর্মঘণ্টায় তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন কি না, বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মানা হচ্ছে কি না এবং সরকারি বীজের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দেওয়া কৃত্রিম প্রজনন সেবার মিল রয়েছে কি-না, এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।


 উপস্থিতি রেজিস্টার, মুভমেন্ট রেজিস্টার, কৃত্রিম প্রজনন সেবা রেজিস্টার এবং বীজ বিতরণের হিসাব পর্যালোচনা করলে এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে কিশোরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন কর্মচারীর দায়িত্ব, সরকারি সেবার মূল্য এবং সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম থাকার কথা। সেখানে ব্যত্যয়ের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি।

কিশোরগঞ্জ প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম প্রজনন সেবা, অর্থ আদায়, দায়িত্বের সীমা এবং সরকারি কক্ষ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব খতিয়ে দেখলেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত