ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

নীলফামারীতে ৩০৩ কার্টন অনুমোদনহীন আইস ললি-রোবো ধ্বংস

নীলফামারীতে ৩০৩ কার্টন অনুমোদনহীন আইস ললি-রোবো ধ্বংস
নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারীতে অভিজাত গ্রুপে অভিযান শেষে ৩০৩ কার্টন অনুমোদনহীন আইস ললি ও রোবো ধ্বংস করা হয়।

কারখানার ভেতরেই পড়ে ছিল বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য। কোথাও স্তূপ করে রাখা, কোথাও আবার বস্তায় ভরা। অভিযানের পর সেসব পণ্য বের করে এনে প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ফেলে ধ্বংস করা হয়। নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারীতে অভিজাত গ্রুপে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত অভিযানে এভাবেই ধ্বংস করা হয়েছে ৩০৩ কার্টন অনুমোদনহীন আইস ললি ও রোবো।

অভিযানে শুধু বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ধ্বংসই নয়, এর সঙ্গে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অনুমোদনহীন এসব পণ্য উৎপাদনের সুযোগ পেল কীভাবে? আর উৎপাদিত পণ্যগুলো কি ইতোমধ্যে বাজারে পৌঁছে গেছে?

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে পণ্যগুলো জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়। একই ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৯ ধারায় জয়দেব কুমারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শিহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলের চিত্রও ছিল উদ্বেগজনক। রাতের আঁধারে প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যাকেটজাত আইস ললি ও রোবোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কনটেইনারও সেখানে ছিল। পরে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সেগুলো নষ্ট করা হয়।

তবে অভিযানের পর মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়—৩০৩ কার্টন পণ্য যদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেয়ে থাকে, তাহলে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও মজুত হলো কীভাবে? এসব পণ্য কতদিন ধরে তৈরি হচ্ছিল, কোন কোন এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাজারে এর কোনো অংশ পৌঁছেছে কি না—এসব তথ্য জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদনের অনুমোদন, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়ও সামনে এসেছে। কারণ ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগেই বিপুল পরিমাণ পণ্য ধ্বংস করার ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার বিষয় নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নীলফামারীতে ৩০৩ কার্টন অনুমোদনহীন আইস ললি-রোবো ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কারখানার ভেতরেই পড়ে ছিল বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য। কোথাও স্তূপ করে রাখা, কোথাও আবার বস্তায় ভরা। অভিযানের পর সেসব পণ্য বের করে এনে প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ফেলে ধ্বংস করা হয়। নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারীতে অভিজাত গ্রুপে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত অভিযানে এভাবেই ধ্বংস করা হয়েছে ৩০৩ কার্টন অনুমোদনহীন আইস ললি ও রোবো।

অভিযানে শুধু বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ধ্বংসই নয়, এর সঙ্গে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অনুমোদনহীন এসব পণ্য উৎপাদনের সুযোগ পেল কীভাবে? আর উৎপাদিত পণ্যগুলো কি ইতোমধ্যে বাজারে পৌঁছে গেছে?

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে পণ্যগুলো জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়। একই ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৯ ধারায় জয়দেব কুমারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শিহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলের চিত্রও ছিল উদ্বেগজনক। রাতের আঁধারে প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যাকেটজাত আইস ললি ও রোবোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কনটেইনারও সেখানে ছিল। পরে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সেগুলো নষ্ট করা হয়।

তবে অভিযানের পর মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়—৩০৩ কার্টন পণ্য যদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পেয়ে থাকে, তাহলে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও মজুত হলো কীভাবে? এসব পণ্য কতদিন ধরে তৈরি হচ্ছিল, কোন কোন এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাজারে এর কোনো অংশ পৌঁছেছে কি না—এসব তথ্য জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খাদ্য উৎপাদনের অনুমোদন, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়ও সামনে এসেছে। কারণ ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগেই বিপুল পরিমাণ পণ্য ধ্বংস করার ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার বিষয় নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।



BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত