নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নালিশি জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ বা জমি হস্তান্তর না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ মে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর অন্য ১৩২/২০২৪।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাড়ে ৩ শতক জমি দখলে রয়েছে এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পরে মামলায় উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী জজ মোছা. আতিয়ারা আকতার নালিশি সম্পত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে বিরোধের মূল জায়গাটি নিয়ে রয়েছে ভিন্ন দাবি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিবদমান জমির দাগ ও জমির পরিমাণ একই হলেও খতিয়ান ভিন্ন।
জমিটির তফসিল—জেএল, মৌজা কয়া, জেলা রংপুর, খতিয়ান নম্বর ১৪৪১। অপরদিকে বাদীপক্ষ যে জমির দাবি করছে, সেটির খতিয়ান নম্বর আলাদা।
বিবাদী হাবিবুর রহমানের দাবি, বাদীপক্ষ যে জমির কথা বলছে, সেটি দুইটি দাগে রয়েছে।
তার দলিল নম্বর ৪৩৮৬ এবং খতিয়ান নম্বর ১৫২৬। ৫৫০৪ দাগে ১ একর ৩৭ শতকের মধ্যে ২ শতক এবং একই খতিয়ানের ৫৫০৬ দাগে ৩ শতকের মধ্যে ১ শতক—মোট ৩ শতক জমি তিনি দলিলমূলে সমু মামুদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে ২ শতক জমি স্টেডিয়ামের মধ্যে চলে গেছে এবং অবশিষ্ট ১ শতক জমি থাকার কথা বলে দাবি করেন তিনি।
বিবাদী হাবিবুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সামনে দাবি করেন, বর্তমানে তিনিই ওই জমিগুলো ভোগদখল করছেন। তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বিবাদীর জ্যেষ্ঠ পুত্র মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমার বাবা হাবিবুর রহমানের কাছে জমিটি সমু মামুদ ১৯৮০ সালে বিক্রি করেন।
এর আগে ১৯৭৫ সালে সমু মামুদ ওই জমি পিজির মামুদের কাছ থেকে কিনেছিলেন। জমি কেনার পর থেকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং জমিটি খারিজও করা হয়েছে। তাহলে জমিটি কীভাবে তাদের হয়?
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাদের অযথা হয়রানি করছেন। জমিটি বুঝে পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। পাশাপাশি জমিটি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেছি। সেখান থেকে দ্রুত সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জমি মাপজোখ করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে জমির কাগজপত্র নিয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার তহশিলদার মো. আবতাব আলম বলেন, “বাদী কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। বিবাদীকে ডেকেছি, তবে তিনি কোনো কাগজপত্র জমা দেননি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও দখল কার—এ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি থাকলেও বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিটির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নালিশি জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ বা জমি হস্তান্তর না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ মে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর অন্য ১৩২/২০২৪।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাড়ে ৩ শতক জমি দখলে রয়েছে এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পরে মামলায় উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
নথিপত্র পর্যালোচনা করে নীলফামারীর সিনিয়র সহকারী জজ মোছা. আতিয়ারা আকতার নালিশি সম্পত্তিতে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে বিরোধের মূল জায়গাটি নিয়ে রয়েছে ভিন্ন দাবি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিবদমান জমির দাগ ও জমির পরিমাণ একই হলেও খতিয়ান ভিন্ন।
জমিটির তফসিল—জেএল, মৌজা কয়া, জেলা রংপুর, খতিয়ান নম্বর ১৪৪১। অপরদিকে বাদীপক্ষ যে জমির দাবি করছে, সেটির খতিয়ান নম্বর আলাদা।
বিবাদী হাবিবুর রহমানের দাবি, বাদীপক্ষ যে জমির কথা বলছে, সেটি দুইটি দাগে রয়েছে।
তার দলিল নম্বর ৪৩৮৬ এবং খতিয়ান নম্বর ১৫২৬। ৫৫০৪ দাগে ১ একর ৩৭ শতকের মধ্যে ২ শতক এবং একই খতিয়ানের ৫৫০৬ দাগে ৩ শতকের মধ্যে ১ শতক—মোট ৩ শতক জমি তিনি দলিলমূলে সমু মামুদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে ২ শতক জমি স্টেডিয়ামের মধ্যে চলে গেছে এবং অবশিষ্ট ১ শতক জমি থাকার কথা বলে দাবি করেন তিনি।
বিবাদী হাবিবুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সামনে দাবি করেন, বর্তমানে তিনিই ওই জমিগুলো ভোগদখল করছেন। তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বিবাদীর জ্যেষ্ঠ পুত্র মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমার বাবা হাবিবুর রহমানের কাছে জমিটি সমু মামুদ ১৯৮০ সালে বিক্রি করেন।
এর আগে ১৯৭৫ সালে সমু মামুদ ওই জমি পিজির মামুদের কাছ থেকে কিনেছিলেন। জমি কেনার পর থেকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে এবং জমিটি খারিজও করা হয়েছে। তাহলে জমিটি কীভাবে তাদের হয়?
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাদের অযথা হয়রানি করছেন। জমিটি বুঝে পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। পাশাপাশি জমিটি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেছি। সেখান থেকে দ্রুত সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জমি মাপজোখ করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে জমির কাগজপত্র নিয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার তহশিলদার মো. আবতাব আলম বলেন, “বাদী কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। বিবাদীকে ডেকেছি, তবে তিনি কোনো কাগজপত্র জমা দেননি।
জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও দখল কার—এ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি থাকলেও বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিটির মালিকানা বা দখল নিয়ে কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আপনার মতামত লিখুন