ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে নৈশপ্রহরী উধাও!

সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে নৈশপ্রহরী উধাও!

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখার নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার নিখোঁজ হওয়ার পর একে একে কয়েকজন গ্রাহক তাদের হিসাবের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করায় ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফিরোজ মিয়া ব্যাংকে না আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়। তবে মোট কত টাকা নিয়ে তিনি লাপাত্তা হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র ও গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ওই শাখায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস চলাকালে গ্রাহকদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণের ফাইল প্রস্তুত, টাকা জমা ও উত্তোলনসহ ব্যাংকের বিভিন্ন কাজে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

দীর্ঘদিন গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করার কারণে ফিরোজ মিয়ার প্রতি তাদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই আস্থার সুযোগেই তিনি গ্রাহকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজের কাছে রাখতেন।

গ্রাহকদের দাবি, ঋণ করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও কৃষকসহ অনেকের কাছ থেকে ফাঁকা চেকের পাতা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, অলিখিত স্ট্যাম্প ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেওয়া হতো।

ব্যাংক গ্রাহক ছাদিকুল মিয়া বলেন, “সোনালী ব্যাংকে ঋণ করতে গেলে আগে ফিরোজের সঙ্গে কথা বলতে হতো। সে যার বিষয়ে ম্যানেজার বা অন্য কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করত, তার কাজ আগে হতো।”

তার অভিযোগ, কোনো কোনো গ্রাহকের নামে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করিয়ে তাদের হাতে নামমাত্র টাকা দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে নোটিশ পাওয়ার পর গ্রাহকরা ঋণের প্রকৃত পরিমাণ জানতে পারেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ছাদিকুল মিয়ার দাবি, সঠিক তদন্ত হলে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তবে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা এই অনিয়মে জড়িত কি না, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

এদিকে আমানতকারীদের টাকা না পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

গ্রাহক তহুরা (তহুজা) বেগম বলেন, তিনি ওই শাখায় একটি এফডিআর করেছিলেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে নৈশপ্রহরী ফিরোজ তাকে চেকবই দিয়ে যেতে বলেন। তিনি কয়েকদিন পর এসে টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

তহুরা বেগমের ভাষ্য, “আমি চেকবই দিয়ে চলে যাই। দুই-তিন দিন পর ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, আমার অ্যাকাউন্ট শূন্য। পরে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানালে তিনি আমার টাকার দায়িত্ব নেন।”

অপর গ্রাহক আরজিনা বেগম বলেন, তিনি একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। তার অভিযোগ, ফিরোজ মিয়া তার বেতনের ২৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন।

ব্যাংক ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায় জানান, গত ২০ জুলাই থেকে ফিরোজ মিয়া হঠাৎ ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। প্রথমদিকে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় গেছেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তার বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়।

ব্যবস্থাপক বলেন, ফিরোজের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ জন আমানতকারী ব্যাংকে এসে তাদের হিসাবের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে মোট কত টাকা নিয়ে ফিরোজ মিয়া লাপাত্তা হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

ফিরোজ মিয়ার বাবা কছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, “গাড়াগ্রামের তহুরা বেগমসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছি। এতগুলো টাকা আমার ছেলে কী করেছে, তা আমি জানি না।”

ফিরোজ কত টাকা নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কছির উদ্দিন বলেন, “শুনেছি সবগুলো মিলে প্রায় কোটি টাকা।”

তবে বাবার এই বক্তব্যের বাইরে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করেনি।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে। একজন নৈশপ্রহরী কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের ঋণ, অ্যাকাউন্ট ও টাকা উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহকরা।

ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কী দায়িত্ব পালন করবেন, গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কার কাছে থাকবে এবং হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা থাকবে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, সোনালী ব্যাংকের নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়া গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে একটি মিসিং ডায়েরি করেছেন। জিডি নম্বর ১৪৯১।

এদিকে নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়ার নিখোঁজ হওয়ার পর গ্রাহকদের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন—একজন নৈশপ্রহরী কীভাবে ব্যাংকের ভেতরে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন? তিনি যদি গ্রাহকদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা জানতে পারেননি কেন? আর গ্রাহকদের টাকা সত্যিই আত্মসাৎ হয়ে থাকলে সেই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে তদন্তের ওপর। গ্রাহকদের অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, সংশ্লিষ্ট হিসাব ও লেনদেন যাচাই এবং ফিরোজ মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে নৈশপ্রহরী উধাও!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখার নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার নিখোঁজ হওয়ার পর একে একে কয়েকজন গ্রাহক তাদের হিসাবের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করায় ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফিরোজ মিয়া ব্যাংকে না আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়। তবে মোট কত টাকা নিয়ে তিনি লাপাত্তা হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র ও গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ওই শাখায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস চলাকালে গ্রাহকদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণের ফাইল প্রস্তুত, টাকা জমা ও উত্তোলনসহ ব্যাংকের বিভিন্ন কাজে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

দীর্ঘদিন গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করার কারণে ফিরোজ মিয়ার প্রতি তাদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই আস্থার সুযোগেই তিনি গ্রাহকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজের কাছে রাখতেন।

গ্রাহকদের দাবি, ঋণ করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও কৃষকসহ অনেকের কাছ থেকে ফাঁকা চেকের পাতা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, অলিখিত স্ট্যাম্প ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেওয়া হতো।

ব্যাংক গ্রাহক ছাদিকুল মিয়া বলেন, “সোনালী ব্যাংকে ঋণ করতে গেলে আগে ফিরোজের সঙ্গে কথা বলতে হতো। সে যার বিষয়ে ম্যানেজার বা অন্য কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করত, তার কাজ আগে হতো।”

তার অভিযোগ, কোনো কোনো গ্রাহকের নামে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করিয়ে তাদের হাতে নামমাত্র টাকা দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে নোটিশ পাওয়ার পর গ্রাহকরা ঋণের প্রকৃত পরিমাণ জানতে পারেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ছাদিকুল মিয়ার দাবি, সঠিক তদন্ত হলে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তবে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা এই অনিয়মে জড়িত কি না, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

এদিকে আমানতকারীদের টাকা না পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

গ্রাহক তহুরা (তহুজা) বেগম বলেন, তিনি ওই শাখায় একটি এফডিআর করেছিলেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে নৈশপ্রহরী ফিরোজ তাকে চেকবই দিয়ে যেতে বলেন। তিনি কয়েকদিন পর এসে টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

তহুরা বেগমের ভাষ্য, “আমি চেকবই দিয়ে চলে যাই। দুই-তিন দিন পর ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, আমার অ্যাকাউন্ট শূন্য। পরে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানালে তিনি আমার টাকার দায়িত্ব নেন।”

অপর গ্রাহক আরজিনা বেগম বলেন, তিনি একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। তার অভিযোগ, ফিরোজ মিয়া তার বেতনের ২৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন।

ব্যাংক ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায় জানান, গত ২০ জুলাই থেকে ফিরোজ মিয়া হঠাৎ ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। প্রথমদিকে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় গেছেন। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তার বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়।

ব্যবস্থাপক বলেন, ফিরোজের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ জন আমানতকারী ব্যাংকে এসে তাদের হিসাবের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে মোট কত টাকা নিয়ে ফিরোজ মিয়া লাপাত্তা হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

ফিরোজ মিয়ার বাবা কছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, “গাড়াগ্রামের তহুরা বেগমসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছি। এতগুলো টাকা আমার ছেলে কী করেছে, তা আমি জানি না।”

ফিরোজ কত টাকা নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কছির উদ্দিন বলেন, “শুনেছি সবগুলো মিলে প্রায় কোটি টাকা।”

তবে বাবার এই বক্তব্যের বাইরে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করেনি।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে। একজন নৈশপ্রহরী কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের ঋণ, অ্যাকাউন্ট ও টাকা উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহকরা।

ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কী দায়িত্ব পালন করবেন, গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কার কাছে থাকবে এবং হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা থাকবে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, সোনালী ব্যাংকের নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়া গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বাদী হয়ে একটি মিসিং ডায়েরি করেছেন। জিডি নম্বর ১৪৯১।

এদিকে নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়ার নিখোঁজ হওয়ার পর গ্রাহকদের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন—একজন নৈশপ্রহরী কীভাবে ব্যাংকের ভেতরে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন? তিনি যদি গ্রাহকদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা জানতে পারেননি কেন? আর গ্রাহকদের টাকা সত্যিই আত্মসাৎ হয়ে থাকলে সেই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে তদন্তের ওপর। গ্রাহকদের অর্থের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, সংশ্লিষ্ট হিসাব ও লেনদেন যাচাই এবং ফিরোজ মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত