চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। ঘোষিত ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) জন্য আবেদন করেছে। এতে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগে এক ধরনের তড়িঘড়ি ও বাড়তি ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে।
রেকর্ড আবেদন ও বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার মোট ৯১,৪৯৪টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছে। মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তাদের ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করায় বিষয়টিকে ‘আশ্চর্যজনক’ ও অভাবনীয় বলে অভিহিত করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, "এ বছর ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সংখ্যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের এই বিশাল আগ্রহ ও খাতা পুনঃনিরীক্ষার বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ভুল ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দিনরাত কাজ চালানো হচ্ছে।"
আবেদনের সময়সীমা ও ফলাফল প্রকাশের তারিখ
শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর থেকে পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বোর্ড।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার চিত্র
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৬টি জেলার ১,৮২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
পাসের হার ও ফলাফল: পরীক্ষায় পাস করেছে মোট ৯৫,৩৯৯ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে গড় পাসের হার ৬৫.৪২%।
লিঙ্গভিত্তিক সাফল্য: ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের পাসের হার ৬৩.২৪% হলেও মেয়েদের পাসের হার দাঁড়ায় ৬৬.৮৮%।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তি: গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা বাড়লেও অর্জিত জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এবার মোট ৯,৮১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ৫,৮৪৮ জনই ছাত্রী।
বিভাগভিত্তিক পারফরম্যান্স: বিজ্ঞান বিভাগ যথারীতি ৮২.৮৮% পাসের হার নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৭.৪০% এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম—মাত্র ৫০.৬১%।
শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান: সার্বিক পাসের হারের উত্থান-পতনের মধ্যেও এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।
বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃনিরীক্ষণের কারণে ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে কতজন শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদলায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। ঘোষিত ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) জন্য আবেদন করেছে। এতে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগে এক ধরনের তড়িঘড়ি ও বাড়তি ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে।
রেকর্ড আবেদন ও বোর্ডের প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার মোট ৯১,৪৯৪টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছে। মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তাদের ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করায় বিষয়টিকে ‘আশ্চর্যজনক’ ও অভাবনীয় বলে অভিহিত করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, "এ বছর ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সংখ্যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের এই বিশাল আগ্রহ ও খাতা পুনঃনিরীক্ষার বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ভুল ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দিনরাত কাজ চালানো হচ্ছে।"
আবেদনের সময়সীমা ও ফলাফল প্রকাশের তারিখ
শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর থেকে পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই পুনঃনিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বোর্ড।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার চিত্র
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৬টি জেলার ১,৮২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
পাসের হার ও ফলাফল: পরীক্ষায় পাস করেছে মোট ৯৫,৩৯৯ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে গড় পাসের হার ৬৫.৪২%।
লিঙ্গভিত্তিক সাফল্য: ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের পাসের হার ৬৩.২৪% হলেও মেয়েদের পাসের হার দাঁড়ায় ৬৬.৮৮%।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তি: গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা বাড়লেও অর্জিত জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এবার মোট ৯,৮১৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ৫,৮৪৮ জনই ছাত্রী।
বিভাগভিত্তিক পারফরম্যান্স: বিজ্ঞান বিভাগ যথারীতি ৮২.৮৮% পাসের হার নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৭.৪০% এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম—মাত্র ৫০.৬১%।
শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান: সার্বিক পাসের হারের উত্থান-পতনের মধ্যেও এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।
বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃনিরীক্ষণের কারণে ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে কতজন শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদলায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

আপনার মতামত লিখুন