মাদক শুধু একটি পরিবার ভাঙা নয়, একটি তরুণ জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এবার সেই মাদকের চালান ধরা পড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে।
দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাসে করে শহরে ঢুকছিল ১০০ লিটার চোলাই মদ। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই মাদকসহ রাহুল বাসফোর(১৯) নামে যুবককে আটক করে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের রাবেয়া মিল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জারকিনে থাকা ১০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী গেটলক বেস্ট ওয়ান মিনিবাসে করে দুইটি পলিথিনের চটের ব্যাগে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ সৈয়দপুরে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়েই ডিএনসির একটি দল রাবেয়া মোড়ে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর বাসটি সেখানে পৌঁছালে শুরু হয় তল্লাশি। তল্লাশির একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে পাঁচ জারকিনে ভরা ১০০ লিটার চোলাই মদ।
মাদকসহ আটক রাহুল বাসফোড় (১৯) সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার ডোমপট্টি মহল্লার দিলীপ বাসফোড়ের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দিনাজপুরের একটি সাঁওতাল পল্লী থেকে চোলাই মদ কিনে সৈয়দপুরে এনে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএনসি নীলফামারীর উপপরিচালক সাকিব সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ চোলাই মদ ক্রয় ও পান করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চোলাই মদ সংগ্রহ ও বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমোদিত সুযোগ আর অবৈধ মাদক ব্যবসা—দুটিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। মাদক যখন কেনাবেচার পণ্যে পরিণত হয়, তখন তা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, সমাজের তরুণ প্রজন্মকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
এ ঘটনায় রাহুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সৈয়দপুরের সড়কে চলাচলকারী ওই বাসটি হয়তো প্রতিদিনের মতোই তার গন্তব্যের দিকে ছুটছিল। কিন্তু সেদিন তার ভেতরে বহন করা পাঁচ জারকিন চোলাই মদ মনে করিয়ে দিল—মাদকের পথ যতই গোপন হোক, তার ছায়া শেষ পর্যন্ত সমাজের দরজায় পৌঁছে যায়। আর সেই অন্ধকার পথ রুখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
মাদক শুধু একটি পরিবার ভাঙা নয়, একটি তরুণ জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। এবার সেই মাদকের চালান ধরা পড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে।
দিনদুপুরে যাত্রীবাহী বাসে করে শহরে ঢুকছিল ১০০ লিটার চোলাই মদ। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই মাদকসহ রাহুল বাসফোর(১৯) নামে যুবককে আটক করে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের রাবেয়া মিল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জারকিনে থাকা ১০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী গেটলক বেস্ট ওয়ান মিনিবাসে করে দুইটি পলিথিনের চটের ব্যাগে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ সৈয়দপুরে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়েই ডিএনসির একটি দল রাবেয়া মোড়ে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর বাসটি সেখানে পৌঁছালে শুরু হয় তল্লাশি। তল্লাশির একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে পাঁচ জারকিনে ভরা ১০০ লিটার চোলাই মদ।
মাদকসহ আটক রাহুল বাসফোড় (১৯) সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার ডোমপট্টি মহল্লার দিলীপ বাসফোড়ের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দিনাজপুরের একটি সাঁওতাল পল্লী থেকে চোলাই মদ কিনে সৈয়দপুরে এনে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএনসি নীলফামারীর উপপরিচালক সাকিব সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ চোলাই মদ ক্রয় ও পান করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চোলাই মদ সংগ্রহ ও বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমোদিত সুযোগ আর অবৈধ মাদক ব্যবসা—দুটিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। মাদক যখন কেনাবেচার পণ্যে পরিণত হয়, তখন তা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, সমাজের তরুণ প্রজন্মকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
এ ঘটনায় রাহুলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সৈয়দপুরের সড়কে চলাচলকারী ওই বাসটি হয়তো প্রতিদিনের মতোই তার গন্তব্যের দিকে ছুটছিল। কিন্তু সেদিন তার ভেতরে বহন করা পাঁচ জারকিন চোলাই মদ মনে করিয়ে দিল—মাদকের পথ যতই গোপন হোক, তার ছায়া শেষ পর্যন্ত সমাজের দরজায় পৌঁছে যায়। আর সেই অন্ধকার পথ রুখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ।

আপনার মতামত লিখুন