নীলফামারীর সৈয়দপুরে সন্দেহজনকভাবে পরিবহন করা একটি ট্রাক থেকে অটোরিকশা ও ভ্যানের ৩০০ পিস চায়না ব্যাটারি জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের সড়ক ও জনপথ (সওজ) ভবনের সামনে স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাকে মাদকদ্রব্য পরিবহন করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে প্রথমে মোটর শ্রমিক ও স্থানীয় কয়েকজন ট্রাকটি আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালালেও মাদকদ্রব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাটারিগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা ট্রাকসহ ব্যাটারিগুলো সৈয়দপুর থানায় নিয়ে গিয়ে গণনা শেষে জব্দ করেন।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকে বিভিন্ন আকারের মোট ৩০০ পিস ব্যাটারি রয়েছে, যা ১৫০ সেট হিসেবে গণনা করা হয়েছে। ব্যাটারিগুলো চীনা পণ্য এবং নারায়ণগঞ্জের জুয়াওনজু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে কেনা হয়েছে বলে চালানপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই চালান ঘিরেই দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। চালানপত্রে পণ্যপ্রাপকের নাম হিসেবে সৈয়দপুর শহরের ‘সাজ্জাদ সাইকেল স্টোর’-এর নাম উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়ভাবে ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন আটককারীরা। অন্যদিকে ট্রাকচালক দাবি করেন, ব্যাটারিগুলো সৈয়দপুর শহরের বিউটি সাইকেল স্টোরে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা প্রথমে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাদকদ্রব্যের বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় ব্যাটারিগুলো বৈধ পণ্য হিসেবে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়।
পরে সৈয়দপুর কাস্টমস সার্কেলের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে চালানপত্র পরীক্ষা করেন। একই সঙ্গে পণ্যের মালিককে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করার জন্য ট্রাকচালককে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হননি। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া না পাওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা ট্রাকটি ব্যাটারিসহ সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যান।
থানায় ট্রাকের সব ব্যাটারি নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। বিশেষ করে ট্রাকে মাদকদ্রব্য বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে ব্যাটারি ছাড়া অন্য কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। পরে ব্যাটারিগুলো গণনা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিজেদের জিম্মায় নেয় এবং রংপুর কাস্টমসের গোডাউনে সংরক্ষণের জন্য নিয়ে যায়।
সৈয়দপুর থানায় জব্দকৃত ব্যাটারি গণনা শেষে কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন মজুমদার বলেন, “ট্রাকে বিভিন্ন সাইজের ৩০০ পিস অর্থাৎ ১৫০ সেট ব্যাটারি রয়েছে। মালিক উপস্থিত না থাকায় আমরা এগুলো জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে যথাযথ কাগজপত্রসহ কেউ মালিকানা দাবি করলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিগুলোর আমদানি ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্যাক্স বা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মালিক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।
বিউটি সাইকেল স্টোরের বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ট্রাকচালকের বক্তব্যের সূত্র ধরে সৈয়দপুর বিউটি সাইকেল স্টোরের মালিক আলতাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ব্যাটারিগুলো মূলত আমার ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেনের। সে বর্তমানে সৈয়দপুরে নেই। পরে এসে ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাটের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ব্যাটারিগুলো নিয়ে আসবে।”
এদিকে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করে থানায় খবর দেন এবং জানান, ট্রাকে মাদক রয়েছে। খবর পেয়ে ৯৯৯-এর পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে যায়। তল্লাশি করে মাদকদ্রব্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই ব্যাটারিগুলো বৈধ পণ্য হিসেবে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “ট্রাক আটককারীরা এতে সম্মত না হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। পরে তারা এসে ট্রাকসহ বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যাটারিগুলো থানায় নিয়ে যায়। গণনা শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।”
তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে চালানপত্রে উল্লিখিত প্রাপকের অস্তিত্ব না থাকা, পণ্যের প্রকৃত মালিকের ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়া এবং ব্যাটারিগুলোর কর-ভ্যাট পরিশোধের বৈধতা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের পরই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সন্দেহজনকভাবে পরিবহন করা একটি ট্রাক থেকে অটোরিকশা ও ভ্যানের ৩০০ পিস চায়না ব্যাটারি জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের সড়ক ও জনপথ (সওজ) ভবনের সামনে স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাকে মাদকদ্রব্য পরিবহন করা হচ্ছে—এমন সন্দেহে প্রথমে মোটর শ্রমিক ও স্থানীয় কয়েকজন ট্রাকটি আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালালেও মাদকদ্রব্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাটারিগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা ট্রাকসহ ব্যাটারিগুলো সৈয়দপুর থানায় নিয়ে গিয়ে গণনা শেষে জব্দ করেন।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকে বিভিন্ন আকারের মোট ৩০০ পিস ব্যাটারি রয়েছে, যা ১৫০ সেট হিসেবে গণনা করা হয়েছে। ব্যাটারিগুলো চীনা পণ্য এবং নারায়ণগঞ্জের জুয়াওনজু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে কেনা হয়েছে বলে চালানপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই চালান ঘিরেই দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। চালানপত্রে পণ্যপ্রাপকের নাম হিসেবে সৈয়দপুর শহরের ‘সাজ্জাদ সাইকেল স্টোর’-এর নাম উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়ভাবে ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন আটককারীরা। অন্যদিকে ট্রাকচালক দাবি করেন, ব্যাটারিগুলো সৈয়দপুর শহরের বিউটি সাইকেল স্টোরে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা প্রথমে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাদকদ্রব্যের বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় ব্যাটারিগুলো বৈধ পণ্য হিসেবে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়।
পরে সৈয়দপুর কাস্টমস সার্কেলের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে চালানপত্র পরীক্ষা করেন। একই সঙ্গে পণ্যের মালিককে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করার জন্য ট্রাকচালককে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হননি। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া না পাওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা ট্রাকটি ব্যাটারিসহ সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যান।
থানায় ট্রাকের সব ব্যাটারি নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। বিশেষ করে ট্রাকে মাদকদ্রব্য বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে ব্যাটারি ছাড়া অন্য কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। পরে ব্যাটারিগুলো গণনা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিজেদের জিম্মায় নেয় এবং রংপুর কাস্টমসের গোডাউনে সংরক্ষণের জন্য নিয়ে যায়।
সৈয়দপুর থানায় জব্দকৃত ব্যাটারি গণনা শেষে কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন মজুমদার বলেন, “ট্রাকে বিভিন্ন সাইজের ৩০০ পিস অর্থাৎ ১৫০ সেট ব্যাটারি রয়েছে। মালিক উপস্থিত না থাকায় আমরা এগুলো জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে যথাযথ কাগজপত্রসহ কেউ মালিকানা দাবি করলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিগুলোর আমদানি ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্যাক্স বা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মালিক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যায়নি।
বিউটি সাইকেল স্টোরের বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ট্রাকচালকের বক্তব্যের সূত্র ধরে সৈয়দপুর বিউটি সাইকেল স্টোরের মালিক আলতাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ব্যাটারিগুলো মূলত আমার ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেনের। সে বর্তমানে সৈয়দপুরে নেই। পরে এসে ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাটের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ব্যাটারিগুলো নিয়ে আসবে।”
এদিকে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করে থানায় খবর দেন এবং জানান, ট্রাকে মাদক রয়েছে। খবর পেয়ে ৯৯৯-এর পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে যায়। তল্লাশি করে মাদকদ্রব্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই ব্যাটারিগুলো বৈধ পণ্য হিসেবে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “ট্রাক আটককারীরা এতে সম্মত না হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। পরে তারা এসে ট্রাকসহ বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যাটারিগুলো থানায় নিয়ে যায়। গণনা শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।”
তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে চালানপত্রে উল্লিখিত প্রাপকের অস্তিত্ব না থাকা, পণ্যের প্রকৃত মালিকের ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়া এবং ব্যাটারিগুলোর কর-ভ্যাট পরিশোধের বৈধতা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের পরই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন