ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

কুমিল্লার হোমনায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: আঘাতের চিহ্ন ও পোশাকহীন লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার হোমনায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: আঘাতের চিহ্ন ও পোশাকহীন লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার হোমনায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: আঘাতের চিহ্ন ও পোশাকহীন লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনে এলাকায় তোলপাড়

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং পরিধেয় বস্ত্র না থাকায় এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। অধিকন্তু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

​ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ির নিকটস্থ একটি দোকানের পাশে খেলাধুলা করছিল শিশু আয়েশা। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে দোকানের পেছনের একটি ঝোপঝাড়ের নিচে সামান্য পানির মধ্যে শিশুটিকে বিবস্ত্র ও গাছের পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। উদ্ধার করে দ্রুত হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​নিহতের স্বজনদের মতে, শিশুটির মুখমণ্ডল, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আয়েশার কাকা এটিকে পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্তে বিচার দাবি করেছেন। অথচ শিশুটির প্রতিবন্ধী বাবা এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করার কথা জানিয়েছেন, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও বেশি সন্দেহজনক করে তুলেছে।

​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির দেহে আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান থাকায় বিষয়টি তৎক্ষণাৎ থানাকে অবহিত করা হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ বা দাবি না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​এদিকে, পরনের পোশাক গায়ে না থাকা এবং দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছেন, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ আইনগত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কুমিল্লার হোমনায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: আঘাতের চিহ্ন ও পোশাকহীন লাশ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং পরিধেয় বস্ত্র না থাকায় এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে। অধিকন্তু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করায় জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

​ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

​স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ির নিকটস্থ একটি দোকানের পাশে খেলাধুলা করছিল শিশু আয়েশা। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে দোকানের পেছনের একটি ঝোপঝাড়ের নিচে সামান্য পানির মধ্যে শিশুটিকে বিবস্ত্র ও গাছের পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। উদ্ধার করে দ্রুত হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​নিহতের স্বজনদের মতে, শিশুটির মুখমণ্ডল, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আয়েশার কাকা এটিকে পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িতদের শনাক্তে বিচার দাবি করেছেন। অথচ শিশুটির প্রতিবন্ধী বাবা এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করার কথা জানিয়েছেন, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও বেশি সন্দেহজনক করে তুলেছে।

​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির দেহে আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান থাকায় বিষয়টি তৎক্ষণাৎ থানাকে অবহিত করা হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ বা দাবি না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​এদিকে, পরনের পোশাক গায়ে না থাকা এবং দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছেন, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ আইনগত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

​এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত