ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৫৩ নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৫৩ নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ
ছবিতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভিন্ন সোপে যোগদান করা নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলীদের বরণ করে নিচ্ছন সৈয়দপুর ডিপ্লোমা সমিতির সভাপতি প্রকৌকৌশলী রুহুল আমিন রুবেল, প্রধান অতিথি প্রকৌশলী সাদেক হাসান চৌধুরী, প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুর রহমান।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নবাগত ৫৩ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সৈয়দপুর রেলওয়ে মর্তুজা ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, সৈয়দপুর শাখার উদ্যোগে এ বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ও প্রকৌশলী মমিনুল হক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি), সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী সাদেক হাসান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র প্রকৌশলী মোনায়েমুল হক, প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী শাহজাহান মোল্লা, প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম, প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, প্রকৌশলী জাকারিয়া ইমাম, প্রকৌশলী আলী মোহাম্মদ রাশেদ হাবিবসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় গত ১ আগস্ট যোগদান করা ৫৩ জন নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তারা কারখানার ২৬টি শপে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরে নবনিয়োগপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রশিক্ষণরত আরও সাতজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ করা হয়।

প্রধান অতিথি সাদেক হাসান চৌধুরী নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, “মেধার সুষম ব্যবহার করে আপনাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রেলওয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন রুবেল বলেন, “রেলওয়ে আমাদের একটি পরিবার। এই পরিবারের নতুন সদস্যদের আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।”

সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক বলেন, “১৯৭৮ সালের ১২ এপ্রিল এই সংগঠনের সৃষ্টি। সংগঠনের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সম্মান পেয়েছি। আজ নবাগতরা এ কারখানায় যোগ দিয়েছেন, এর পেছনেও আমাদের সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে ঐক্যের পতাকাতলে থেকে দেশের প্রকৌশল শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই।”

নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলী খাদেমুল ইসলাম বলেন, “এখানে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিক। যোগদানের পর তারা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আগামীতেও অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকার জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ রইল।”

আরেক নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা আপনাদের যোগ্য উত্তরসূরি হতে চাই। এজন্য আপনাদের সার্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যে স্নেহ ও উদারতা, সেই উদারতায় আমাদের পাশে রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।”

রেলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) ও আইডিইবি কেন্দ্রীয় কমিটির চাকরি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, “চাকরির প্রথম দুই বছর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় কাজে মনোযোগ দিতে হবে এবং রেলওয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। আপনারা অবশ্যই স্মার্ট, তবে ওভারস্মার্ট হওয়া যাবে না।”

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী আলী মোহাম্মদ রাশেদ হাবিব বলেন, “নবাগতদের যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলাম। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

প্রকৌশলী জাকারিয়া ইমাম নবাগতদের রেলওয়ের বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের ওপর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার বেষ্টনীর মধ্যে থেকেই রেলওয়েকে এগিয়ে নিতে হবে।”

সিনিয়র প্রকৌশলী ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম বলেন, “রেলওয়ে একটি বড় একান্নবর্তী পরিবারের মতো। এই পরিবারের অনেকের নানা সমস্যা থাকবে। সেসব সমস্যা সমাধানে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

অনুষ্ঠানে নবাগত প্রকৌশলীদের পাশাপাশি রেলওয়েতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করায় চার শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। তারা হলেন—প্রকৌশলী মমিনুল হকের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া, প্রকৌশলী নিজামুল হকের মেয়ে নাফিসা হক, সিদরাতুল মুনতাহা এবং প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনিরের সন্তান সাখাওয়াত হোসেন।

অনুষ্ঠানে নবাগত প্রকৌশলীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, পারস্পরিক পরিচয় ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রেলওয়ের নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের কর্মজীবনের পথচলায় অভিজ্ঞদের সহযোগিতা ও সাংগঠনিক ঐক্যের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৫৩ নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নবাগত ৫৩ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সৈয়দপুর রেলওয়ে মর্তুজা ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, সৈয়দপুর শাখার উদ্যোগে এ বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ও প্রকৌশলী মমিনুল হক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি), সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী সাদেক হাসান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র প্রকৌশলী মোনায়েমুল হক, প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী শাহজাহান মোল্লা, প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম, প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, প্রকৌশলী জাকারিয়া ইমাম, প্রকৌশলী আলী মোহাম্মদ রাশেদ হাবিবসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় গত ১ আগস্ট যোগদান করা ৫৩ জন নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তারা কারখানার ২৬টি শপে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন দপ্তরে নবনিয়োগপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রশিক্ষণরত আরও সাতজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরণ করা হয়।

প্রধান অতিথি সাদেক হাসান চৌধুরী নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, “মেধার সুষম ব্যবহার করে আপনাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রেলওয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন রুবেল বলেন, “রেলওয়ে আমাদের একটি পরিবার। এই পরিবারের নতুন সদস্যদের আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।”

সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক বলেন, “১৯৭৮ সালের ১২ এপ্রিল এই সংগঠনের সৃষ্টি। সংগঠনের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সম্মান পেয়েছি। আজ নবাগতরা এ কারখানায় যোগ দিয়েছেন, এর পেছনেও আমাদের সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে ঐক্যের পতাকাতলে থেকে দেশের প্রকৌশল শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই।”

নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলী খাদেমুল ইসলাম বলেন, “এখানে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিক। যোগদানের পর তারা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আগামীতেও অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকার জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ রইল।”

আরেক নবাগত উপসহকারী প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা আপনাদের যোগ্য উত্তরসূরি হতে চাই। এজন্য আপনাদের সার্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যে স্নেহ ও উদারতা, সেই উদারতায় আমাদের পাশে রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।”

রেলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) ও আইডিইবি কেন্দ্রীয় কমিটির চাকরি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, “চাকরির প্রথম দুই বছর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় কাজে মনোযোগ দিতে হবে এবং রেলওয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। আপনারা অবশ্যই স্মার্ট, তবে ওভারস্মার্ট হওয়া যাবে না।”

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী আলী মোহাম্মদ রাশেদ হাবিব বলেন, “নবাগতদের যেন কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলাম। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

প্রকৌশলী জাকারিয়া ইমাম নবাগতদের রেলওয়ের বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের ওপর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার বেষ্টনীর মধ্যে থেকেই রেলওয়েকে এগিয়ে নিতে হবে।”

সিনিয়র প্রকৌশলী ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম বলেন, “রেলওয়ে একটি বড় একান্নবর্তী পরিবারের মতো। এই পরিবারের অনেকের নানা সমস্যা থাকবে। সেসব সমস্যা সমাধানে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

অনুষ্ঠানে নবাগত প্রকৌশলীদের পাশাপাশি রেলওয়েতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করায় চার শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। তারা হলেন—প্রকৌশলী মমিনুল হকের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া, প্রকৌশলী নিজামুল হকের মেয়ে নাফিসা হক, সিদরাতুল মুনতাহা এবং প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনিরের সন্তান সাখাওয়াত হোসেন।

অনুষ্ঠানে নবাগত প্রকৌশলীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, পারস্পরিক পরিচয় ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রেলওয়ের নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের কর্মজীবনের পথচলায় অভিজ্ঞদের সহযোগিতা ও সাংগঠনিক ঐক্যের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত