ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

মা এখনো জানে না, গুলিতে আমি চোখ হারিয়েছি’

মা এখনো জানে না, গুলিতে আমি চোখ হারিয়েছি’

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়ে চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিতে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী আব্দুস সালাম টিপু আহত হয়েছেন। অথচ এখনও তার মা জানে না, গুলিতে টিপুর চোখ হারিয়েছে। সম্প্রতি কোটা আন্দোলন ঘিরে প্রায় মাসব্যাপী ছাত্ররা রাজপথ থেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একের পর এক।

সেই আন্দোলনে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ সচেতন মহল রাজ পথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আর সেই সংগ্রামের শরিক হতে গিয়ে ১০ জনের প্রাণহানিসহ বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মধ্যে আব্দুস সালাম টিপু একজন ছিলেন।

আব্দুস সালাম টিপুর সাথে কথা বলে জানা যায়।  গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সিলেট নগরের বন্দরবাজার, মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে মিছিলের পেছন দিক থেকে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলটি ঘুরে দাঁড়ালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

জানা যায়, এ সময় পুলিশ মধুবন সুপার মার্কেটের ডায়বেটিস গলির ঠিক ১০০ হাত দূর থেকে গিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। পুলিশের ছোঁড়া দুটি রাবার বুলেট টিপুর এক চোখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করে। পরে সাধারণ ছাত্র-জনতা টিপুকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী একটি বাসায় নিরাপদে নিয়ে যান। সেখান থেকে ৩০ মিনিট পর তাকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেলে নর্থ ইস্ট ক্লিনিকে যান। সেখানেও না পেলে তিনি সিলেট আই সেন্টারে যান। শুক্রবার থাকার কারণে সেটিও বন্ধ ছিলো। পরে তিনি সিলেট লামাবাজার মেরিস্টোপ সেন্টারে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ঢাকা ভিশন আই হসপিটাল রেফার্ড করেন।

আরও জানা যায়, সেদিনই ফ্লাইটে করে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চলে যান। তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ূম চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা রিসিভ করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তার চোখে একটি অপারেশন করা হয়। তার চোখে আরো অপারেশন দরকার। তাই ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের একটি চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনের মাঠে নামে। টিপু সিলেট মদন মোহন কলেজের অর্নাসের সাবেক শিক্ষার্থী ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেকসহ সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার ফুজগিপুর গ্রানের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে স্বাক্ষাতে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী টিপু  বলেন, আমার মা এখনও জানেন না-পুলিশের গুলিতে আমার এক চোখ নষ্ট হওয়ার পথে। মা যাতে ভয় না পায় তাই দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতে চেন্নাইয়ে যাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


মা এখনো জানে না, গুলিতে আমি চোখ হারিয়েছি’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করতে গিয়ে চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিতে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী আব্দুস সালাম টিপু আহত হয়েছেন। অথচ এখনও তার মা জানে না, গুলিতে টিপুর চোখ হারিয়েছে। সম্প্রতি কোটা আন্দোলন ঘিরে প্রায় মাসব্যাপী ছাত্ররা রাজপথ থেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একের পর এক।



সেই আন্দোলনে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ সচেতন মহল রাজ পথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আর সেই সংগ্রামের শরিক হতে গিয়ে ১০ জনের প্রাণহানিসহ বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মধ্যে আব্দুস সালাম টিপু একজন ছিলেন।



আব্দুস সালাম টিপুর সাথে কথা বলে জানা যায়।  গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সিলেট নগরের বন্দরবাজার, মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে মিছিলের পেছন দিক থেকে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলটি ঘুরে দাঁড়ালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।



জানা যায়, এ সময় পুলিশ মধুবন সুপার মার্কেটের ডায়বেটিস গলির ঠিক ১০০ হাত দূর থেকে গিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। পুলিশের ছোঁড়া দুটি রাবার বুলেট টিপুর এক চোখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করে। পরে সাধারণ ছাত্র-জনতা টিপুকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী একটি বাসায় নিরাপদে নিয়ে যান। সেখান থেকে ৩০ মিনিট পর তাকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেলে নর্থ ইস্ট ক্লিনিকে যান। সেখানেও না পেলে তিনি সিলেট আই সেন্টারে যান। শুক্রবার থাকার কারণে সেটিও বন্ধ ছিলো। পরে তিনি সিলেট লামাবাজার মেরিস্টোপ সেন্টারে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ঢাকা ভিশন আই হসপিটাল রেফার্ড করেন।


আরও জানা যায়, সেদিনই ফ্লাইটে করে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় চলে যান। তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ূম চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা রিসিভ করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তার চোখে একটি অপারেশন করা হয়। তার চোখে আরো অপারেশন দরকার। তাই ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের একটি চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনের মাঠে নামে। টিপু সিলেট মদন মোহন কলেজের অর্নাসের সাবেক শিক্ষার্থী ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেকসহ সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার ফুজগিপুর গ্রানের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে।



এ বিষয়ে স্বাক্ষাতে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী টিপু  বলেন, আমার মা এখনও জানেন না-পুলিশের গুলিতে আমার এক চোখ নষ্ট হওয়ার পথে। মা যাতে ভয় না পায় তাই দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতে চেন্নাইয়ে যাচ্ছি।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত