মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনে মূল অংশীজন সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন মৎস্যজীবী ও জেলে উপস্থিত ছিলেন। ফলে জাতীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত জেলেদের বড় একটি অংশই উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন সাধারণ জেলের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, মৎস্য পক্ষের বিষয়ে মৎস্য দপ্তর থেকে অনেককেই আগে থেকে জানানো হয়নি। পর্যাপ্ত যোগাযোগ ও প্রচারণা না থাকায় তারা বিষয়টি জানতে পারেননি এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।
তাদের ভাষ্যমতে, এত সুন্দর একটি আয়োজনের বিষয়ে আগে থেকে জানানো হলে তারা অবশ্যই উপস্থিত হতেন।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সাধারণ জেলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই দায়সারাভাবে নামমাত্র কয়েকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়েছে। সরকারি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে তৃণমূলের জেলেদের কেন সম্পৃক্ত করা হলো না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব কার—উপজেলা মৎস্য দপ্তরের নাকি সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী সংগঠনের?
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. রিমা আক্তার মুঠোফোনে জানান, মৎস্যজীবী ও জেলেদের সকল সংগঠনকে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন তারা উপস্থিত হননি, তা তিনি বলতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, আয়োজনে বরাদ্দই ছিল মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ জন জেলের জন্য। তাহলে সকল জেলেকে কীভাবে জানানো সম্ভব?
পরে প্রায় ২৫০ জন জেলের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন জেলে উপস্থিত থাকা এবং অন্যান্য সাধারণ জেলেদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটির সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, অনেক জেলেই উপস্থিত ছিল।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা প্রশাসক মো. মাহবুব হাসান বলেন, অনুষ্ঠানটি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী ও জেলেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। কেন সাধারণ জেলেদের উপস্থিতি কম ছিল, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য যেন প্রকৃত মৎস্যজীবী ও জেলেদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ ও কর্মসূচি সফল করতে শুধু কাগজে-কলমে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন না করে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত জেলে ও মৎস্য চাষীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনে মূল অংশীজন সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন মৎস্যজীবী ও জেলে উপস্থিত ছিলেন। ফলে জাতীয় পর্যায়ের এ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত জেলেদের বড় একটি অংশই উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন সাধারণ জেলের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, মৎস্য পক্ষের বিষয়ে মৎস্য দপ্তর থেকে অনেককেই আগে থেকে জানানো হয়নি। পর্যাপ্ত যোগাযোগ ও প্রচারণা না থাকায় তারা বিষয়টি জানতে পারেননি এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।
তাদের ভাষ্যমতে, এত সুন্দর একটি আয়োজনের বিষয়ে আগে থেকে জানানো হলে তারা অবশ্যই উপস্থিত হতেন।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত ও পর্যাপ্ত সংখ্যক সাধারণ জেলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই দায়সারাভাবে নামমাত্র কয়েকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়েছে। সরকারি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে তৃণমূলের জেলেদের কেন সম্পৃক্ত করা হলো না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে সাধারণ জেলে ও মৎস্য চাষীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব কার—উপজেলা মৎস্য দপ্তরের নাকি সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী সংগঠনের?
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. রিমা আক্তার মুঠোফোনে জানান, মৎস্যজীবী ও জেলেদের সকল সংগঠনকে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন তারা উপস্থিত হননি, তা তিনি বলতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, আয়োজনে বরাদ্দই ছিল মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ জন জেলের জন্য। তাহলে সকল জেলেকে কীভাবে জানানো সম্ভব?
পরে প্রায় ২৫০ জন জেলের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন জেলে উপস্থিত থাকা এবং অন্যান্য সাধারণ জেলেদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নটির সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, অনেক জেলেই উপস্থিত ছিল।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা প্রশাসক মো. মাহবুব হাসান বলেন, অনুষ্ঠানটি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী ও জেলেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। কেন সাধারণ জেলেদের উপস্থিতি কম ছিল, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য যেন প্রকৃত মৎস্যজীবী ও জেলেদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ ও কর্মসূচি সফল করতে শুধু কাগজে-কলমে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন না করে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত জেলে ও মৎস্য চাষীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মৎস্যজীবী ও মৎস্য চাষীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন