ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

অবৈধ লটারির নামে জুয়ার আসর, শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

অবৈধ লটারির নামে জুয়ার আসর, শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে যেন বসেছে জুয়ার আসর! আকর্ষণীয় পুরস্কারের টোপ, লোভনীয় প্রচারণা আর ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অর্থ—এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের বদরগঞ্জের একটি মেলাকে ঘিরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে অনুমোদনহীন লটারির নামে কার্যত জুয়ার আয়োজন চলছে। আর সেই জুয়ার ফাঁদে পা দিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু মানুষ প্রতিদিন হারাচ্ছেন কষ্টার্জিত টাকা। কেউ কেউ ভাগ্য ফেরানোর আশায় ধারদেনা করেও লটারিতে টাকা ঢালছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দিনের আলো ফুরালেই যেন বদলে যায় মেলার চেহারা। রাত যত গভীর হয়, ততই জমে ওঠে লটারির আয়োজন। মাইকিং, আলোকসজ্জা ও আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রচারণায় মানুষকে টেনে নেওয়া হচ্ছে মেলার ভেতরে। কয়েকটি পুরস্কার জেতার আশায় শত শত মানুষ অর্থ খরচ করছেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কতজন পুরস্কার পাচ্ছেন আর কতজন নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন—তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি নিছক কোনো বিনোদন নয়; বরং সাধারণ মানুষের দুর্বলতা ও ভাগ্য বদলের আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি ভয়ংকর ফাঁদ।

লটারির নেশায় পকেট খালি, সংসারে বাড়ছে চাপ:

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলায় লটারির টিকিট বিক্রি ও পুরস্কারের প্রচারণাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন সামান্য টাকা খরচ করলেই রাতারাতি বড় পুরস্কারের মালিক হওয়া সম্ভব। এই প্রলোভনে পড়ে অনেকে বারবার লটারিতে অংশ নিচ্ছেন।

কেউ হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আবার টাকা দিচ্ছেন, আবার কেউ বড় পুরস্কারের আশায় আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবেই লটারির নামে অনেকেই জুয়ার চক্রে আটকে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “মেলায় বিনোদনের নামে যদি মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাগ্যের খেলা চালানো হয়, তাহলে এটি আর শিল্প-বাণিজ্য মেলা থাকে না। সাধারণ মানুষের জন্য এটি জুয়ার ফাঁদ।”

গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং-আলোকসজ্জা: শুধু লটারিই নয়, গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে চলছে মাইকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যাপক আলোকসজ্জা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, যখন সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, তখন মেলা প্রাঙ্গণে রাত গভীর পর্যন্ত শত শত বৈদ্যুতিক বাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম চালু রাখা হচ্ছে।

মেলার কারণে সড়কে ৪–৫ কিলোমিটার যানজট: মেলাকে ঘিরে রংপুর-পার্বতীপুর সড়কেও সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো সময় যানজট ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যানজটে আটকে পড়ছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে যাতায়াতকারী মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি মেলা যদি মানুষের বিনোদনের বদলে সড়কে দীর্ঘ যানজট, এলাকায় শব্দদূষণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই মেলার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কোথায়?

কার ছত্রছায়ায় চলছে লটারির নামে জুয়া: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কথিত লটারির বৈধতা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মেলার নামে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তাদের দাবি, মেলার অনুমোদন, লটারির বৈধতা, অর্থের লেনদেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে আনা হোক।

অভিযোগ রয়েছে, মেলা কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে লটারির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি।

জুয়ার ফাঁদ বন্ধের দাবি: সচেতন মহলের বক্তব্য, শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে যদি সত্যিই অনুমোদনহীন লটারি ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়—এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও প্রশ্ন।

তাদের দাবি, অবিলম্বে মেলার অনুমোদন, লটারির বৈধতা ও অর্থের লেনদেন তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মেলার নামে জুয়ার এই ফাঁদ বন্ধ করা হোক।

অভিযোগের বিষয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন: শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে যদি মানুষের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে কষ্টার্জিত টাকা কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে এই লটারির নামে জুয়ার দায় নেবে কে? আর কার ছত্রছায়ায় চলছে এই আয়োজন?

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


অবৈধ লটারির নামে জুয়ার আসর, শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে যেন বসেছে জুয়ার আসর! আকর্ষণীয় পুরস্কারের টোপ, লোভনীয় প্রচারণা আর ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অর্থ—এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের বদরগঞ্জের একটি মেলাকে ঘিরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কথিত শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে অনুমোদনহীন লটারির নামে কার্যত জুয়ার আয়োজন চলছে। আর সেই জুয়ার ফাঁদে পা দিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু মানুষ প্রতিদিন হারাচ্ছেন কষ্টার্জিত টাকা। কেউ কেউ ভাগ্য ফেরানোর আশায় ধারদেনা করেও লটারিতে টাকা ঢালছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দিনের আলো ফুরালেই যেন বদলে যায় মেলার চেহারা। রাত যত গভীর হয়, ততই জমে ওঠে লটারির আয়োজন। মাইকিং, আলোকসজ্জা ও আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রচারণায় মানুষকে টেনে নেওয়া হচ্ছে মেলার ভেতরে। কয়েকটি পুরস্কার জেতার আশায় শত শত মানুষ অর্থ খরচ করছেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কতজন পুরস্কার পাচ্ছেন আর কতজন নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন—তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি নিছক কোনো বিনোদন নয়; বরং সাধারণ মানুষের দুর্বলতা ও ভাগ্য বদলের আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি ভয়ংকর ফাঁদ।

লটারির নেশায় পকেট খালি, সংসারে বাড়ছে চাপ:

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলায় লটারির টিকিট বিক্রি ও পুরস্কারের প্রচারণাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন সামান্য টাকা খরচ করলেই রাতারাতি বড় পুরস্কারের মালিক হওয়া সম্ভব। এই প্রলোভনে পড়ে অনেকে বারবার লটারিতে অংশ নিচ্ছেন।

কেউ হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আবার টাকা দিচ্ছেন, আবার কেউ বড় পুরস্কারের আশায় আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবেই লটারির নামে অনেকেই জুয়ার চক্রে আটকে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “মেলায় বিনোদনের নামে যদি মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাগ্যের খেলা চালানো হয়, তাহলে এটি আর শিল্প-বাণিজ্য মেলা থাকে না। সাধারণ মানুষের জন্য এটি জুয়ার ফাঁদ।”

গভীর রাত পর্যন্ত মাইকিং-আলোকসজ্জা: শুধু লটারিই নয়, গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে চলছে মাইকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যাপক আলোকসজ্জা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, যখন সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, তখন মেলা প্রাঙ্গণে রাত গভীর পর্যন্ত শত শত বৈদ্যুতিক বাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম চালু রাখা হচ্ছে।

মেলার কারণে সড়কে ৪–৫ কিলোমিটার যানজট: মেলাকে ঘিরে রংপুর-পার্বতীপুর সড়কেও সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো সময় যানজট ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। যানজটে আটকে পড়ছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে যাতায়াতকারী মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি মেলা যদি মানুষের বিনোদনের বদলে সড়কে দীর্ঘ যানজট, এলাকায় শব্দদূষণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই মেলার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কোথায়?

কার ছত্রছায়ায় চলছে লটারির নামে জুয়া: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কথিত লটারির বৈধতা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মেলার নামে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তাদের দাবি, মেলার অনুমোদন, লটারির বৈধতা, অর্থের লেনদেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে আনা হোক।

অভিযোগ রয়েছে, মেলা কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে লটারির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি।

জুয়ার ফাঁদ বন্ধের দাবি: সচেতন মহলের বক্তব্য, শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে যদি সত্যিই অনুমোদনহীন লটারি ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়—এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও প্রশ্ন।

তাদের দাবি, অবিলম্বে মেলার অনুমোদন, লটারির বৈধতা ও অর্থের লেনদেন তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মেলার নামে জুয়ার এই ফাঁদ বন্ধ করা হোক।

অভিযোগের বিষয়ে মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন: শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে যদি মানুষের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে কষ্টার্জিত টাকা কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে এই লটারির নামে জুয়ার দায় নেবে কে? আর কার ছত্রছায়ায় চলছে এই আয়োজন?


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত