ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

‘রাস্তা সুন্দর করতেই জেব্রা ক্রসিং’—চালকদের চরম অজ্ঞতায় বাড়ছে দুর্ঘটনা

‘রাস্তা সুন্দর করতেই জেব্রা ক্রসিং’—চালকদের চরম অজ্ঞতায় বাড়ছে দুর্ঘটনা
জেব্রা ক্রসিং এ সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে বাইক, অটো ও ট্রাক

মাথায় নেই হেলমেট, কাঁধের ওপর মোবাইল চেপে একহাতে চালানো হচ্ছে দ্রুতগতির যানবাহন। অধিকাংশ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, তোয়াক্কা নেই ট্রাফিক সিগন্যালের। ঢাকার প্রবেশদ্বার ও প্রান্তিক তিন উপজেলা-দোহার, নবাবগঞ্জ এবং কেরানীগঞ্জের সড়কগুলো এখন বেপরোয়া চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিয়মভাঙার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

দোহারের জয়পাড়া, নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ও বান্দুরা এবং কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও মাওয়া হাইওয়ের সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চরম নৈরাজ্যের চিত্র। সৌন্দর্য বর্ধনের দাগ' ভেবে পার্কিং হচ্ছে জেব্রা ক্রসিংয়ে।

সড়কগুলোতে পথচারী পারাপারের জন্য তৈরি জেব্রা ক্রসিং ও স্পিডব্রেকারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। চালকদের চরম অজ্ঞতার কারণে জেব্রা ক্রসিং পরিণত হয়েছে পার্কিং জোনে।

স্থানীয় চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেব্রা ক্রসিংয়ের মূল উদ্দেশ্য বা নিয়ম সম্পর্কে তাঁদের ন্যূনতম ধারণাই নেই। এমনকি অনেক চালক জানান, 'রাস্তা সুন্দর দেখানোর জন্য এই দাগ দেওয়া হয়েছে।' এর ফলে পথচারীরা রাস্তা পার হতে গেলে গতি কমানোর বদলে উল্টো বাড়িয়ে দেওয়া হয়, আর ক্রসিংয়ের ওপরই অবাধে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে।

গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত স্পিডব্রেকারগুলো চালক ও যাত্রীদের জন্য উল্টো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ গতিরোধকে কোনো ধরনের দৃশ্যমান রং বা রিফ্লেকটিভ মার্কিং নেই। রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দ্রুতগতির যানবাহন হুট করে স্পিডব্রেকারে উঠে তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি করছে, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এই তিন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে লাইসেন্সবিহীন অপেশাদার চালকদের আধিপত্য। গণপরিবহন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল-একটি বড় অংশেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে কিশোর ও উঠতি বয়সের তরুণদের হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো মরণঘাতী ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। চুল নষ্ট হওয়ার ভয় কিংবা গরমের মতো ঠুনকো অজুহাতে হেলমেট ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন তারা। এছাড়া উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও যত্রতত্র ওভারটেক করার প্রবণতাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

"জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হতে গেলেও গাড়ি গায়ের ওপর তুলে দিতে চায়। কোনো নিয়ম নেই, আইন নেই, আমরা যেন নিজেদের এলাকায় পরবাসী"-ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সাধারণ পথচারী

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল লোকদেখানো জরিমানা বা সাময়িক অভিযান চালিয়ে ঢাকার প্রান্তিক অঞ্চলের এই চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। সড়ক নিরাপত্তা 

সড়ক পরিবহন আইন শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে কার্যকর করা। সচেতনতা ও স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে চালকদের বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন কোর্স এবং জেব্রা ক্রসিং বিষয়ে ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অবিলম্বে সব স্পিডব্রেকারে রিফ্লেকটিভ মার্কিং বা রং করা।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


‘রাস্তা সুন্দর করতেই জেব্রা ক্রসিং’—চালকদের চরম অজ্ঞতায় বাড়ছে দুর্ঘটনা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মাথায় নেই হেলমেট, কাঁধের ওপর মোবাইল চেপে একহাতে চালানো হচ্ছে দ্রুতগতির যানবাহন। অধিকাংশ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, তোয়াক্কা নেই ট্রাফিক সিগন্যালের। ঢাকার প্রবেশদ্বার ও প্রান্তিক তিন উপজেলা-দোহার, নবাবগঞ্জ এবং কেরানীগঞ্জের সড়কগুলো এখন বেপরোয়া চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিয়মভাঙার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

দোহারের জয়পাড়া, নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ও বান্দুরা এবং কেরানীগঞ্জের কদমতলী ও মাওয়া হাইওয়ের সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চরম নৈরাজ্যের চিত্র। সৌন্দর্য বর্ধনের দাগ' ভেবে পার্কিং হচ্ছে জেব্রা ক্রসিংয়ে।

সড়কগুলোতে পথচারী পারাপারের জন্য তৈরি জেব্রা ক্রসিং ও স্পিডব্রেকারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। চালকদের চরম অজ্ঞতার কারণে জেব্রা ক্রসিং পরিণত হয়েছে পার্কিং জোনে।

স্থানীয় চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেব্রা ক্রসিংয়ের মূল উদ্দেশ্য বা নিয়ম সম্পর্কে তাঁদের ন্যূনতম ধারণাই নেই। এমনকি অনেক চালক জানান, 'রাস্তা সুন্দর দেখানোর জন্য এই দাগ দেওয়া হয়েছে।' এর ফলে পথচারীরা রাস্তা পার হতে গেলে গতি কমানোর বদলে উল্টো বাড়িয়ে দেওয়া হয়, আর ক্রসিংয়ের ওপরই অবাধে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে।

গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত স্পিডব্রেকারগুলো চালক ও যাত্রীদের জন্য উল্টো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ গতিরোধকে কোনো ধরনের দৃশ্যমান রং বা রিফ্লেকটিভ মার্কিং নেই। রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দ্রুতগতির যানবাহন হুট করে স্পিডব্রেকারে উঠে তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি করছে, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এই তিন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে লাইসেন্সবিহীন অপেশাদার চালকদের আধিপত্য। গণপরিবহন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল-একটি বড় অংশেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে কিশোর ও উঠতি বয়সের তরুণদের হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো মরণঘাতী ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। চুল নষ্ট হওয়ার ভয় কিংবা গরমের মতো ঠুনকো অজুহাতে হেলমেট ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন তারা। এছাড়া উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও যত্রতত্র ওভারটেক করার প্রবণতাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

"জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হতে গেলেও গাড়ি গায়ের ওপর তুলে দিতে চায়। কোনো নিয়ম নেই, আইন নেই, আমরা যেন নিজেদের এলাকায় পরবাসী"-ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সাধারণ পথচারী

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল লোকদেখানো জরিমানা বা সাময়িক অভিযান চালিয়ে ঢাকার প্রান্তিক অঞ্চলের এই চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। সড়ক নিরাপত্তা 

সড়ক পরিবহন আইন শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে কার্যকর করা। সচেতনতা ও স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে চালকদের বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন কোর্স এবং জেব্রা ক্রসিং বিষয়ে ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অবিলম্বে সব স্পিডব্রেকারে রিফ্লেকটিভ মার্কিং বা রং করা।



BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত