একসময় যে মাঠে বাঁশির শব্দে উত্তাল হতো সৈয়দপুর, গ্যালারিতে উঠত করতালির ঢেউ।সেই পুরোনো ফুটবল আবেগ যেন আবারও ফিরে এলো সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সোনালী অতীত ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মাঠে নেমেছিলেন একসময়ের দাপুটে ফুটবলাররা। পায়ে বয়সের ছাপ, কিন্তু বলের সঙ্গে সম্পর্কটুকু যেন এখনও অটুট।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ঝড়। এক দল গোল করে এগিয়ে যায়, অন্য দলও পাল্টা আঘাতে ফিরিয়ে নেয় সমতা।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উত্তেজনার কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত উভয় দল দুটি করে গোল করায় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
ফলাফল হয়তো ড্র, কিন্তু জয় যেন হয়েছে ফুটবলেরই। কারণ এ ম্যাচে স্কোরলাইনের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর মাঠের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সাবেক ফুটবলারদের পায়ে বল ছুটতে দেখে দর্শকদের মনে ফিরে আসে সৈয়দপুরের ফুটবলের সেই সোনালি সময়।
সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হান্নান সরকার নিজেও সেই সময়ের একজন ফুটবলার। বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরির পাশাপাশি ফুটবল ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কিন্তু ১৯৯৩ সালে ঢাকায় খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ দলের স্ট্রাইকার মোহাম্মদ আসলামের সঙ্গে ট্যাকলিংয়ের সময় হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই আঘাত আর পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় বাধ্য হয়ে ফুটবল থেকে অবসর নিতে হয়।
কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে আব্দুল হান্নান সরকার বলেন, আমি বাংলাদেশ রেলওয়েতে ছিলাম। তখন খেলাধুলার কদর ছিল।
ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। ১৯৯৩ সালের সেই ইনজুরির পর খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ ছাড়তে হলেও ফুটবলকে কখনো ছাড়িনি। পরে একটি কলেজে শিক্ষকতা করেছি, কিন্তু মাঠের সঙ্গে সম্পর্কটা সবসময়ই ছিল।
তিনি বলেন, এখন খেলোয়াড় নই, সংগঠক হিসেবে ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই ‘সোনালী অতীত’ নামে আমাদের যাত্রা শুরু। আমরা চাই, সৈয়দপুরের ফুটবলের হারিয়ে যাওয়া গৌরব আবারও মাঠে ফিরুক।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার মেননের কণ্ঠেও ছিল একই প্রত্যয়। তিনি বলেন, এখানে ঢাকা ও বিভিন্ন বিভাগীয় লিগে খেলা সাবেক ফুটবলাররা রয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই ফুটবলের সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় অতীত। আমাদের উদ্দেশ্য ফুটবলের মূল্যবান অতীতকে বর্তমানে রূপ দেওয়া।
মেনন আরও বলেন, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা এই জনপদের ফুটবলের মানকে আরও উঁচুতে নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের অভিজ্ঞতা যদি নতুন প্রজন্মের কাজে লাগে, তাহলেই আমাদের মাঠে ফেরার সার্থকতা।
দুই দলের কোচ ও ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হান্নান সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মেনন।
ম্যাচটি তাই নিছক একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল না। এটি ছিল স্মৃতির মাঠে ফিরে আসার গল্প। বয়সের কাছে শরীর হার মানলেও ফুটবলের কাছে মন যে কখনোই বুড়ো হয় না, সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে সেটিই যেন আবার প্রমাণ করলেন সোনালী অতীতের ফুটবলাররা।
এতে ২-২ গোলের ড্র ম্যাচে স্কোরবোর্ডে জয়-পরাজয় লেখা না হলেও, জয় হয়েছে ফুটবলের।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
একসময় যে মাঠে বাঁশির শব্দে উত্তাল হতো সৈয়দপুর, গ্যালারিতে উঠত করতালির ঢেউ।সেই পুরোনো ফুটবল আবেগ যেন আবারও ফিরে এলো সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সোনালী অতীত ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মাঠে নেমেছিলেন একসময়ের দাপুটে ফুটবলাররা। পায়ে বয়সের ছাপ, কিন্তু বলের সঙ্গে সম্পর্কটুকু যেন এখনও অটুট।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ঝড়। এক দল গোল করে এগিয়ে যায়, অন্য দলও পাল্টা আঘাতে ফিরিয়ে নেয় সমতা।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উত্তেজনার কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত উভয় দল দুটি করে গোল করায় ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
ফলাফল হয়তো ড্র, কিন্তু জয় যেন হয়েছে ফুটবলেরই। কারণ এ ম্যাচে স্কোরলাইনের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর মাঠের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সাবেক ফুটবলারদের পায়ে বল ছুটতে দেখে দর্শকদের মনে ফিরে আসে সৈয়দপুরের ফুটবলের সেই সোনালি সময়।
সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হান্নান সরকার নিজেও সেই সময়ের একজন ফুটবলার। বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরির পাশাপাশি ফুটবল ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কিন্তু ১৯৯৩ সালে ঢাকায় খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ দলের স্ট্রাইকার মোহাম্মদ আসলামের সঙ্গে ট্যাকলিংয়ের সময় হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। সেই আঘাত আর পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় বাধ্য হয়ে ফুটবল থেকে অবসর নিতে হয়।
কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে আব্দুল হান্নান সরকার বলেন, আমি বাংলাদেশ রেলওয়েতে ছিলাম। তখন খেলাধুলার কদর ছিল।
ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। ১৯৯৩ সালের সেই ইনজুরির পর খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ ছাড়তে হলেও ফুটবলকে কখনো ছাড়িনি। পরে একটি কলেজে শিক্ষকতা করেছি, কিন্তু মাঠের সঙ্গে সম্পর্কটা সবসময়ই ছিল।
তিনি বলেন, এখন খেলোয়াড় নই, সংগঠক হিসেবে ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই ‘সোনালী অতীত’ নামে আমাদের যাত্রা শুরু। আমরা চাই, সৈয়দপুরের ফুটবলের হারিয়ে যাওয়া গৌরব আবারও মাঠে ফিরুক।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার মেননের কণ্ঠেও ছিল একই প্রত্যয়। তিনি বলেন, এখানে ঢাকা ও বিভিন্ন বিভাগীয় লিগে খেলা সাবেক ফুটবলাররা রয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই ফুটবলের সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় অতীত। আমাদের উদ্দেশ্য ফুটবলের মূল্যবান অতীতকে বর্তমানে রূপ দেওয়া।
মেনন আরও বলেন, সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা এই জনপদের ফুটবলের মানকে আরও উঁচুতে নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের অভিজ্ঞতা যদি নতুন প্রজন্মের কাজে লাগে, তাহলেই আমাদের মাঠে ফেরার সার্থকতা।
দুই দলের কোচ ও ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেন ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হান্নান সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মেনন।
ম্যাচটি তাই নিছক একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল না। এটি ছিল স্মৃতির মাঠে ফিরে আসার গল্প। বয়সের কাছে শরীর হার মানলেও ফুটবলের কাছে মন যে কখনোই বুড়ো হয় না, সৈয়দপুর উপজেলা স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে সেটিই যেন আবার প্রমাণ করলেন সোনালী অতীতের ফুটবলাররা।
এতে ২-২ গোলের ড্র ম্যাচে স্কোরবোর্ডে জয়-পরাজয় লেখা না হলেও, জয় হয়েছে ফুটবলের।

আপনার মতামত লিখুন