ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। হাসপাতালের পেছনে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য দেখে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নায়াব ইউসুফ। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

হাসপাতালের পেছনে বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘হাসপাতালে এসে আমি নিজে গিয়ে লোক পাঠিয়ে দেখলাম, হাসপাতালের পেছনে বর্জ্য দিয়ে ভরা। বর্জ্যের স্টোরেজ মনে হয়।’

তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে পৌরসভা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, জনবলসংকট ও নিরাপত্তা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর ঘাটতির পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনা জমে থাকা এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও প্রায়ই ঘটে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘এ হাসপাতাল ১০০ শয্যার। অথচ ঘুরে দেখলাম, রোগী আছে ২০০। অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে আছে। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স, ডাক্তার সবই অপ্রতুল। এ সংকট দূর করা গেলে ফরিদপুরের স্বর্বস্তরের লোক উপকৃত হবে।’

তিনি জানান, হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

দেশে দীর্ঘদিন জবাবদিহির অভাব ছিল উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা এখন জবাবদিহির মধ্যে চলে এসেছি। আমরা নির্বাচিত সংসদ সদস্য যে এলাকার বাসিন্দা, সে এলাকার যদি এ অবস্থা হয়, তখন জনগণ আমাদের বলবে, আপনাদের ভোট দিয়েছি, তাহলে আমাদের এ দুরবস্থা কেন হাসপাতালের–রাস্তাঘাটের? এটা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

নায়াব ইউসুফ আরও বলেন, ‘১৭ বছরের জঞ্জাল এক দিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন ফরিদপুরবাসী দেখতে পাবেন।’

সভায় হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জরুরি বিভাগের সেবা জোরদার, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম আনিছুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামানসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। হাসপাতালের পেছনে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য দেখে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নায়াব ইউসুফ। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।


হাসপাতালের পেছনে বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘হাসপাতালে এসে আমি নিজে গিয়ে লোক পাঠিয়ে দেখলাম, হাসপাতালের পেছনে বর্জ্য দিয়ে ভরা। বর্জ্যের স্টোরেজ মনে হয়।’


তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে পৌরসভা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, জনবলসংকট ও নিরাপত্তা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর ঘাটতির পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনা জমে থাকা এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও প্রায়ই ঘটে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।


হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘এ হাসপাতাল ১০০ শয্যার। অথচ ঘুরে দেখলাম, রোগী আছে ২০০। অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে আছে। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স, ডাক্তার সবই অপ্রতুল। এ সংকট দূর করা গেলে ফরিদপুরের স্বর্বস্তরের লোক উপকৃত হবে।’


তিনি জানান, হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে উন্নয়নকাজ শুরু হবে।


দেশে দীর্ঘদিন জবাবদিহির অভাব ছিল উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা এখন জবাবদিহির মধ্যে চলে এসেছি। আমরা নির্বাচিত সংসদ সদস্য যে এলাকার বাসিন্দা, সে এলাকার যদি এ অবস্থা হয়, তখন জনগণ আমাদের বলবে, আপনাদের ভোট দিয়েছি, তাহলে আমাদের এ দুরবস্থা কেন হাসপাতালের–রাস্তাঘাটের? এটা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’


নায়াব ইউসুফ আরও বলেন, ‘১৭ বছরের জঞ্জাল এক দিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন ফরিদপুরবাসী দেখতে পাবেন।’


সভায় হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জরুরি বিভাগের সেবা জোরদার, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।


সভায় সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম আনিছুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামানসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত