ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

ডিএস নূর মোহাম্মদ শাহ সুফির নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা

ডিএস নূর মোহাম্মদ শাহ সুফির নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধাায়ক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ

একসময় যন্ত্রাংশ চুরি, নিরাপত্তাহীনতা, শ্রমিকদের অসন্তোষ ও উৎপাদন সংকটে আলোচিত ছিল দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

 বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কারখানায় ফিরেছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শ্রমিকবান্ধব উদ্যোগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কারখানাটি এখন আবারও দেশের রেল খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ডিএস নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। কারখানার অভ্যন্তরে নজরদারি জোরদার, গেট নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা এবং নিয়মিত তদারকির ফলে রেলের মূল্যবান মালামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা কার্যত বন্ধ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে প্রধান ফটকে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিও বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পোশাক সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় শ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ ছিল, তাও অনেকটাই কেটে গেছে। সময়মতো পোশাক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় শ্রমিকরা এখন অধিক উৎসাহ নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মতে, উন্নত কর্মপরিবেশ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উৎপাদন ও কোচ (বগি) মেরামতের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যে সংখ্যক কোচ মেরামত করা হতো, বর্তমানে তার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি কোচ সম্পূর্ণ সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। বছরের পর বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা বহু কোচ সংস্কার করে দ্রুত ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব কোচ এখন দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীসেবা দিচ্ছে।

কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভাষ্য, প্রশাসনিক কঠোরতা, নিয়মিত তদারকি এবং সুশাসনের ফলে কর্মপরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে শুধু উৎপাদনই বাড়েনি, বেড়েছে কর্মীদের আত্মবিশ্বাসও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম প্রধান মেরামত কেন্দ্র হিসেবেই নয়, দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ডিএস নূর মোহাম্মদ শাহ সুফির নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একসময় যন্ত্রাংশ চুরি, নিরাপত্তাহীনতা, শ্রমিকদের অসন্তোষ ও উৎপাদন সংকটে আলোচিত ছিল দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্রে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

 বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কারখানায় ফিরেছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শ্রমিকবান্ধব উদ্যোগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে কারখানাটি এখন আবারও দেশের রেল খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ডিএস নূর মোহাম্মদ শাহ সুফি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। কারখানার অভ্যন্তরে নজরদারি জোরদার, গেট নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা এবং নিয়মিত তদারকির ফলে রেলের মূল্যবান মালামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা কার্যত বন্ধ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে প্রধান ফটকে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিও বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পোশাক সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় শ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ ছিল, তাও অনেকটাই কেটে গেছে। সময়মতো পোশাক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় শ্রমিকরা এখন অধিক উৎসাহ নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মতে, উন্নত কর্মপরিবেশ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উৎপাদন ও কোচ (বগি) মেরামতের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যে সংখ্যক কোচ মেরামত করা হতো, বর্তমানে তার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি কোচ সম্পূর্ণ সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। বছরের পর বছর অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা বহু কোচ সংস্কার করে দ্রুত ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব কোচ এখন দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীসেবা দিচ্ছে।

কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভাষ্য, প্রশাসনিক কঠোরতা, নিয়মিত তদারকি এবং সুশাসনের ফলে কর্মপরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে শুধু উৎপাদনই বাড়েনি, বেড়েছে কর্মীদের আত্মবিশ্বাসও।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম প্রধান মেরামত কেন্দ্র হিসেবেই নয়, দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।



BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত