ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সৈয়দপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সৈয়দপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ পেতে কি ঘুষ দিতে হয়? সরকারি অর্থ ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে—তবে প্রশ্ন জাগে, প্রাথমিক শিক্ষার তৃণমূল প্রশাসনে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর?

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার। অভিযোগের অনুলিপি বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের বরাদ্দ এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দ মেলেনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘুষ না দেওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ) বরাদ্দের চেকে স্বাক্ষর করা হচ্ছে না। যদিও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে ভাউচারসহ সব নথি যথাসময়ে জমা দিয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার সরকারি বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি মোবাইল সিমও নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি জানানো হলেও উল্টো তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার বলেন, বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।”

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন। যেহেতু অভিযোগটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে, তাই তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা কার্যালয় থেকেই নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বিদ্যালয় পরিচালনা এবং প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তদন্তই হবে মূল নির্ধারক। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ পেতে কি ঘুষ দিতে হয়? সরকারি অর্থ ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে—তবে প্রশ্ন জাগে, প্রাথমিক শিক্ষার তৃণমূল প্রশাসনে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর?

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার। অভিযোগের অনুলিপি বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের বরাদ্দ এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দ মেলেনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘুষ না দেওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ) বরাদ্দের চেকে স্বাক্ষর করা হচ্ছে না। যদিও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে ভাউচারসহ সব নথি যথাসময়ে জমা দিয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার সরকারি বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি মোবাইল সিমও নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি জানানো হলেও উল্টো তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার বলেন, বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না।”

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন। যেহেতু অভিযোগটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে, তাই তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা কার্যালয় থেকেই নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বিদ্যালয় পরিচালনা এবং প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তদন্তই হবে মূল নির্ধারক। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত