ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

ময়মনসিংহে পুকুরে চারটি ব্যাগে ভাসছিল মরদেহের ১৫ টুকরো

ময়মনসিংহে পুকুরে চারটি ব্যাগে ভাসছিল মরদেহের ১৫ টুকরো

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টম হাউসে কর্মরত আবু রায়হান তালুকদার (৪০) নামে এক ব্যক্তির ১৫ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে একটি বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় পুকুরে ভাসতে থাকা চারটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলার ভেতর থেকে খণ্ডিত টুকরোগুলো পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহত আবু রায়হান তালুকদার উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কমলাপুর কাস্টম হাউসে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন।

পরিবারের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। দুই দিন পর কর্মস্থল থেকে সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের জানান, আবু রায়হান অফিসে যোগ দেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় ২৭ জুলাই তার বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা দুজনই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ।

পরিবার জানায়, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবু রায়হান একাই থাকতেন। ঢাকায় চাকরি করলেও বৃদ্ধ মাকে দেখতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গ্রামের বাড়িতে আসতেন। রাজু নামে এক কিশোরকে তিনি বাড়িতে রেখে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার লেখাপড়ার খরচ ও মাসিক ভাতাও বহন করতেন।

রোববার সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তিনটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলা ভাসতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পোটলাগুলো উদ্ধার করে। খুলে দেখা যায়, ভেতরে ১৫ টুকরো করা মরদেহ রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার উপজেলার অনন্তপুর এলাকার বাজুয়া নদী থেকে ডুবুরি দল আবু রায়হানের ব্যবহৃত একটি চাবির রিং উদ্ধার করেছিল।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগ ও কাপড়ের পোটলায় ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন পানিতে থাকায় পচে ভেসে ওঠে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ময়মনসিংহে পুকুরে চারটি ব্যাগে ভাসছিল মরদেহের ১৫ টুকরো

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টম হাউসে কর্মরত আবু রায়হান তালুকদার (৪০) নামে এক ব্যক্তির ১৫ টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে একটি বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় পুকুরে ভাসতে থাকা চারটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলার ভেতর থেকে খণ্ডিত টুকরোগুলো পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহত আবু রায়হান তালুকদার উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কমলাপুর কাস্টম হাউসে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন।

পরিবারের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। দুই দিন পর কর্মস্থল থেকে সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের জানান, আবু রায়হান অফিসে যোগ দেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় ২৭ জুলাই তার বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা দুজনই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ।

পরিবার জানায়, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবু রায়হান একাই থাকতেন। ঢাকায় চাকরি করলেও বৃদ্ধ মাকে দেখতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গ্রামের বাড়িতে আসতেন। রাজু নামে এক কিশোরকে তিনি বাড়িতে রেখে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তার লেখাপড়ার খরচ ও মাসিক ভাতাও বহন করতেন।

রোববার সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তিনটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলা ভাসতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পোটলাগুলো উদ্ধার করে। খুলে দেখা যায়, ভেতরে ১৫ টুকরো করা মরদেহ রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার উপজেলার অনন্তপুর এলাকার বাজুয়া নদী থেকে ডুবুরি দল আবু রায়হানের ব্যবহৃত একটি চাবির রিং উদ্ধার করেছিল।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগ ও কাপড়ের পোটলায় ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন পানিতে থাকায় পচে ভেসে ওঠে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত