ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

নদের তলদেশে প্রধান সঞ্চালন লাইন কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

নদের তলদেশে প্রধান সঞ্চালন লাইন কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

‎কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপ সম্পন্ন প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ দেখা দিয়েছে। গত এক মাস ধরে লিকেজ থেকে নির্গত হওয়া গ্যাসে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের প্রধান উচ্চচাপ সম্পন্ন পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রথমে পানিতে বুদবুদ দেখে এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন ভূগর্ভস্থ কোন গর্তের কারণে বুদবুদ দেখা যাচ্ছে। তবে দিন দিন বুদবুদ এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে কয়েকজন গ্রামবাসী বিষয়টি গ্যাস লিকেজ মনে করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।


পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এসে তদন্ত করে দেখে উচ্চচাপ সম্পন্ন পাইপলাইন থেকে চুরি করে নদীর পাশেই নবনির্মিত একটি চুনাপাথর কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া হয়। সেই লাইন থেকেই লিকেজ তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত জুন মাসের প্রথম দিকে মিলন মিয়ার সহযোগিতায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী জমির ওপর একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপন করা হয়। সেই কারখানায় চুন গলানোর কাজে গ্যাসের প্রয়োজনে গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাস লাইনের পাইপ থেকে কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্টরা পাইপ কেটে অবৈধভাবে লাইন নেয়ার চেষ্টা করে। বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসের লাইন থেকে সংযোগ না নিতে পারে এভাবেই ফেলে রাখে কারখানার লোকজন। পরে লিকেজ বড় হয়ে যাওয়ায় গ্রামে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বুদবুদের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা লিকেজের অংশে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয়। এক পর্যায়ে লিকেজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই উচ্চ চাপে চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় একমাস ধরে এ গ্যাস নির্গত হওয়ায় কয়েক কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারখানার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানার মালিক ও কর্মচারীরা কারখানা ফেলে পালিয়ে যান।

গ্রামবাসী জানায়, গ্যাসের তীব্র গন্ধে আশেপাশের বাড়িঘরসহ জনজীবনে আতঙ্ক নেমে এসেছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিকেজ সারানোর কাজ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোন সমাধান করতে পারেনি। যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যা সমাধান করে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, এটি একটি উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাসলাইন। এ লাইন থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথরের কারখানায় লাইন নেয়ার আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই কারখানা মালিক গা ঢাকা দিয়েছে। লিকেজের খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই মেরামতের কাজ চলছে। খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাহিদ হাসান খান শনিবার (১ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় গ্যাস লিকেজের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কোন অসাধুচক্র এ ঘটনায় জড়িত ছিল এবং এখানে একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নদের তলদেশে প্রধান সঞ্চালন লাইন কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‎কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপ সম্পন্ন প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ দেখা দিয়েছে। গত এক মাস ধরে লিকেজ থেকে নির্গত হওয়া গ্যাসে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের প্রধান উচ্চচাপ সম্পন্ন পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। প্রথমে পানিতে বুদবুদ দেখে এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন ভূগর্ভস্থ কোন গর্তের কারণে বুদবুদ দেখা যাচ্ছে। তবে দিন দিন বুদবুদ এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে কয়েকজন গ্রামবাসী বিষয়টি গ্যাস লিকেজ মনে করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।


পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এসে তদন্ত করে দেখে উচ্চচাপ সম্পন্ন পাইপলাইন থেকে চুরি করে নদীর পাশেই নবনির্মিত একটি চুনাপাথর কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া হয়। সেই লাইন থেকেই লিকেজ তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত জুন মাসের প্রথম দিকে মিলন মিয়ার সহযোগিতায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী জমির ওপর একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপন করা হয়। সেই কারখানায় চুন গলানোর কাজে গ্যাসের প্রয়োজনে গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাস লাইনের পাইপ থেকে কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্টরা পাইপ কেটে অবৈধভাবে লাইন নেয়ার চেষ্টা করে। বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসের লাইন থেকে সংযোগ না নিতে পারে এভাবেই ফেলে রাখে কারখানার লোকজন। পরে লিকেজ বড় হয়ে যাওয়ায় গ্রামে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বুদবুদের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা লিকেজের অংশে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয়। এক পর্যায়ে লিকেজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই উচ্চ চাপে চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় একমাস ধরে এ গ্যাস নির্গত হওয়ায় কয়েক কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারখানার বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানার মালিক ও কর্মচারীরা কারখানা ফেলে পালিয়ে যান।

গ্রামবাসী জানায়, গ্যাসের তীব্র গন্ধে আশেপাশের বাড়িঘরসহ জনজীবনে আতঙ্ক নেমে এসেছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিকেজ সারানোর কাজ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোন সমাধান করতে পারেনি। যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যা সমাধান করে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, এটি একটি উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাসলাইন। এ লাইন থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথরের কারখানায় লাইন নেয়ার আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই কারখানা মালিক গা ঢাকা দিয়েছে। লিকেজের খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই মেরামতের কাজ চলছে। খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাহিদ হাসান খান শনিবার (১ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় গ্যাস লিকেজের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কোন অসাধুচক্র এ ঘটনায় জড়িত ছিল এবং এখানে একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত