ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

হারিকেন হাতে শ্রমিকের আস্থার আলো খুঁজছেন জুয়েল আলী

হারিকেন হাতে শ্রমিকের আস্থার আলো খুঁজছেন জুয়েল আলী

রেললাইনের ধাতব শব্দ, কারখানার ভারী যন্ত্রের গর্জন আর ঘামে ভেজা শ্রমিকের দিনশেষের ক্লান্তি—এই বাস্তবতার মাঝেই জন্ম নেয় শ্রমিকের অধিকার আদায়ের গল্প।

 সেই গল্পেরই এক পরিচিত মুখ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার মিলরাইট শপের ফিটার (এসএস) মো. জুয়েল আলী। এবার তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনে হারিকেন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। 

প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই যেন তার প্রতিটি দিন হয়ে উঠেছে কর্মব্যস্ত, প্রতিটি মুহূর্ত শ্রমিকদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার এক নিরন্তর যাত্রা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা—সবখানেই চলছে তার গণসংযোগ। কোনো শপে শ্রমিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোথাও আবার কর্মব্যস্ত মানুষের হাতে হাত রেখে ভোট ও দোয়া কামনা। তার বিশ্বাস, শ্রমিকের ভালোবাসাই হবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

দলমত নির্বিশেষে কারিগর পরিষদের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জুয়েল আলী বলেন, “কারিগর পরিষদ সবসময় শ্রমিকদের সুখ-দুঃখের সাথী। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন শ্রমিক আন্দোলনের নানা সাফল্যের কথা। বলেন, “একসময় খালাসিরা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মী ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের মাসিক ভিত্তিক চাকরি নিশ্চিত করা হয়েছে। আজও সেই অর্জনের সুফল ভোগ করছেন অসংখ্য শ্রমিক। এছাড়া ধোলাই ভাতা, গ্রেড বিন্যাস, অ্যাপ্রেন্টিসদের ইনক্রিমেন্ট, শ্রমিকদের পোশাকসহ বহু দাবি আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করেছে কারিগর পরিষদ।”

জুয়েল আলীর মতে, এই ধারাবাহিক সংগ্রামের কারণেই কারিগর পরিষদ আজ রেল অঙ্গনের শ্রমিকদের আস্থার অন্যতম নাম।

তিনি জানান, কারিগর পরিষদের নিজস্ব ৯২ জন ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৫৩ জন। শ্রমিকদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা তার।

হারিকেন প্রতীক সম্পর্কে জুয়েল আলীর অনুভূতি, “হারিকেন শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক। অন্ধকার ভেদ করে পথ দেখানোর প্রতীক। আমি চাই এই আলো শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের পথকে আরও উজ্জ্বল করে তুলুক।”

এবারের নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন একজন শ্রমিক প্রতিনিধি। বিভিন্ন শ্রমিক ও রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থিত প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জোর প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ।

রেলওয়ের শ্রমিক মহলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে ভিন্নমাত্রার আগ্রহ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেউ দেখছেন সংগঠনের মর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবে, আবার কারও কাছে এটি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। তাই কারখানার প্রতিটি শপে, চায়ের আড্ডায়, অফিস কক্ষে কিংবা রেললাইনের পাশে এখন একটাই আলোচনা—কে হবেন শ্রমিকের আগামী দিনের প্রতিনিধি?

উত্তর মিলবে আগামী ২৯ জুলাই। তবে তার আগেই প্রচারণার উত্তাপে মুখর হয়ে উঠেছে সৈয়দপুর ও পার্বতীপুরের রেলওয়ে অঙ্গন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


হারিকেন হাতে শ্রমিকের আস্থার আলো খুঁজছেন জুয়েল আলী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

রেললাইনের ধাতব শব্দ, কারখানার ভারী যন্ত্রের গর্জন আর ঘামে ভেজা শ্রমিকের দিনশেষের ক্লান্তি—এই বাস্তবতার মাঝেই জন্ম নেয় শ্রমিকের অধিকার আদায়ের গল্প।

 সেই গল্পেরই এক পরিচিত মুখ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার মিলরাইট শপের ফিটার (এসএস) মো. জুয়েল আলী। এবার তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনে হারিকেন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। 

প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই যেন তার প্রতিটি দিন হয়ে উঠেছে কর্মব্যস্ত, প্রতিটি মুহূর্ত শ্রমিকদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার এক নিরন্তর যাত্রা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা—সবখানেই চলছে তার গণসংযোগ। কোনো শপে শ্রমিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, কোথাও আবার কর্মব্যস্ত মানুষের হাতে হাত রেখে ভোট ও দোয়া কামনা। তার বিশ্বাস, শ্রমিকের ভালোবাসাই হবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

দলমত নির্বিশেষে কারিগর পরিষদের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জুয়েল আলী বলেন, “কারিগর পরিষদ সবসময় শ্রমিকদের সুখ-দুঃখের সাথী। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন শ্রমিক আন্দোলনের নানা সাফল্যের কথা। বলেন, “একসময় খালাসিরা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মী ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের মাসিক ভিত্তিক চাকরি নিশ্চিত করা হয়েছে। আজও সেই অর্জনের সুফল ভোগ করছেন অসংখ্য শ্রমিক। এছাড়া ধোলাই ভাতা, গ্রেড বিন্যাস, অ্যাপ্রেন্টিসদের ইনক্রিমেন্ট, শ্রমিকদের পোশাকসহ বহু দাবি আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করেছে কারিগর পরিষদ।”

জুয়েল আলীর মতে, এই ধারাবাহিক সংগ্রামের কারণেই কারিগর পরিষদ আজ রেল অঙ্গনের শ্রমিকদের আস্থার অন্যতম নাম।

তিনি জানান, কারিগর পরিষদের নিজস্ব ৯২ জন ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৫৩ জন। শ্রমিকদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা তার।

হারিকেন প্রতীক সম্পর্কে জুয়েল আলীর অনুভূতি, “হারিকেন শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক। অন্ধকার ভেদ করে পথ দেখানোর প্রতীক। আমি চাই এই আলো শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের পথকে আরও উজ্জ্বল করে তুলুক।”

এবারের নির্বাচনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন একজন শ্রমিক প্রতিনিধি। বিভিন্ন শ্রমিক ও রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থিত প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জোর প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ।

রেলওয়ের শ্রমিক মহলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে ভিন্নমাত্রার আগ্রহ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেউ দেখছেন সংগঠনের মর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবে, আবার কারও কাছে এটি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। তাই কারখানার প্রতিটি শপে, চায়ের আড্ডায়, অফিস কক্ষে কিংবা রেললাইনের পাশে এখন একটাই আলোচনা—কে হবেন শ্রমিকের আগামী দিনের প্রতিনিধি?

উত্তর মিলবে আগামী ২৯ জুলাই। তবে তার আগেই প্রচারণার উত্তাপে মুখর হয়ে উঠেছে সৈয়দপুর ও পার্বতীপুরের রেলওয়ে অঙ্গন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত