কিছু দিন ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধু একটি সংখ্যা হয়ে থাকে। আবার কিছু দিন ইতিহাসের বুক চিরে মানুষের জীবনে স্থায়ী দাগ কেটে যায়। ১৮ জুলাই তেমনই একটি দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে সৈয়দপুরের রাজপথে শুরু হওয়া একটি মিছিল অনেকের কাছে ছিল প্রতিবাদের প্রতীক, আবার কারও কাছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়ের সূচনা।
ঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সৈয়দপুরে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সূচনাকারী হিসেবে পরিচিত মো. রাফায়েতুজ্জামান রিফাত। তাঁর ভাষায়, ১৮ জুলাই কেবল একটি তারিখ নয়; এটি সংগ্রাম, ত্যাগ, সাহস এবং জীবনের এমন কিছু স্মৃতির প্রতীক, যা সময়ের স্রোতেও মুছে যাওয়ার নয়।
রিফাত স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, সেদিন সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল থেকে পাঁচমাথার উদ্দেশ্যে মিছিলটি যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন তিনি কিংবা তাঁর সহযোদ্ধারা কেউই বুঝতে পারেননি সামনে কতটা কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে। রাজপথের স্লোগান, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর সেই মুহূর্তগুলো পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তাঁর দাবি, আন্দোলনের পর থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একসময় নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য বাড়িছাড়া হওয়ার কষ্ট কেবল নিজের নয়; এর ভার বহন করতে হয় পুরো পরিবারকে। সেই ভারই নেমে আসে তাঁদের জীবনেও।
রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হতো। পরিবারের কাছে বলা হতো, "আপনার ছেলে বিএনপি করে।" এমন ফোনকলের পর প্রতিটি মুহূর্ত যেন আতঙ্কে কাটত। কখন কী ঘটবে—এই অনিশ্চয়তা পরিবারের স্বাভাবিক জীবনকে ওলটপালট করে দেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, একের পর এক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। চারপাশের চাপ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিটি দিন ছিল দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। তবে সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে পরিবারের অসহায়ত্ব। একজন সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠা, স্বজনদের অস্থিরতা এবং প্রতিদিন নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা—এসব অনুভূতির কোনো ভাষা নেই।
তবুও ভেঙে পড়েননি বলে উল্লেখ করেন রিফাত। তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতি বিশ্বাসই তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে। প্রতিকূল সময়েও সেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেননি। তাঁর মতে, সংগ্রামের পথ কখনোই সহজ নয়; কিন্তু ন্যায়ের পথে থাকা মানুষ শেষ পর্যন্ত আশা হারায় না।
জুলাই আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলো আজ ইতিহাসের অংশ। কিন্তু যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের কাছে ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় লেখা কয়েকটি লাইন নয়; ইতিহাস মানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, ত্যাগ, আতঙ্ক, অশ্রু, সাহস এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প। সেই গল্পেরই একটি অংশ তুলে ধরেছেন রাফায়েতুজ্জামান রিফাত।
তিনি তাঁর স্মৃতিচারণের শেষাংশে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। তাঁর বিশ্বাস, সময়ের কাছে সব সত্য একদিন প্রকাশিত হবে।
১৮ জুলাই তাই কেবল একটি তারিখ নয়; এটি এমন একটি দিন, যা অনেক মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে। কারও কাছে এটি প্রতিবাদের দিন, কারও কাছে আত্মত্যাগের স্মৃতি, আবার কারও কাছে হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক জীবনের প্রতীক। সময় এগিয়ে যায়, ক্যালেন্ডার বদলে যায়, কিন্তু কিছু দিন মানুষের হৃদয়ে আজীবন অমলিন থেকে যায়।
উল্লেখ্য, এই ফিচারটি মো. রাফায়েতুজ্জামান রিফাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ও বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
কিছু দিন ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধু একটি সংখ্যা হয়ে থাকে। আবার কিছু দিন ইতিহাসের বুক চিরে মানুষের জীবনে স্থায়ী দাগ কেটে যায়। ১৮ জুলাই তেমনই একটি দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে সৈয়দপুরের রাজপথে শুরু হওয়া একটি মিছিল অনেকের কাছে ছিল প্রতিবাদের প্রতীক, আবার কারও কাছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়ের সূচনা।
ঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সৈয়দপুরে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সূচনাকারী হিসেবে পরিচিত মো. রাফায়েতুজ্জামান রিফাত। তাঁর ভাষায়, ১৮ জুলাই কেবল একটি তারিখ নয়; এটি সংগ্রাম, ত্যাগ, সাহস এবং জীবনের এমন কিছু স্মৃতির প্রতীক, যা সময়ের স্রোতেও মুছে যাওয়ার নয়।
রিফাত স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, সেদিন সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল থেকে পাঁচমাথার উদ্দেশ্যে মিছিলটি যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন তিনি কিংবা তাঁর সহযোদ্ধারা কেউই বুঝতে পারেননি সামনে কতটা কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে। রাজপথের স্লোগান, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর সেই মুহূর্তগুলো পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তাঁর দাবি, আন্দোলনের পর থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একসময় নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য বাড়িছাড়া হওয়ার কষ্ট কেবল নিজের নয়; এর ভার বহন করতে হয় পুরো পরিবারকে। সেই ভারই নেমে আসে তাঁদের জীবনেও।
রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হতো। পরিবারের কাছে বলা হতো, "আপনার ছেলে বিএনপি করে।" এমন ফোনকলের পর প্রতিটি মুহূর্ত যেন আতঙ্কে কাটত। কখন কী ঘটবে—এই অনিশ্চয়তা পরিবারের স্বাভাবিক জীবনকে ওলটপালট করে দেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, একের পর এক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। চারপাশের চাপ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিটি দিন ছিল দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। তবে সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে পরিবারের অসহায়ত্ব। একজন সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠা, স্বজনদের অস্থিরতা এবং প্রতিদিন নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা—এসব অনুভূতির কোনো ভাষা নেই।
তবুও ভেঙে পড়েননি বলে উল্লেখ করেন রিফাত। তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতি বিশ্বাসই তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে। প্রতিকূল সময়েও সেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেননি। তাঁর মতে, সংগ্রামের পথ কখনোই সহজ নয়; কিন্তু ন্যায়ের পথে থাকা মানুষ শেষ পর্যন্ত আশা হারায় না।
জুলাই আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলো আজ ইতিহাসের অংশ। কিন্তু যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের কাছে ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় লেখা কয়েকটি লাইন নয়; ইতিহাস মানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, ত্যাগ, আতঙ্ক, অশ্রু, সাহস এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প। সেই গল্পেরই একটি অংশ তুলে ধরেছেন রাফায়েতুজ্জামান রিফাত।
তিনি তাঁর স্মৃতিচারণের শেষাংশে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। তাঁর বিশ্বাস, সময়ের কাছে সব সত্য একদিন প্রকাশিত হবে।
১৮ জুলাই তাই কেবল একটি তারিখ নয়; এটি এমন একটি দিন, যা অনেক মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে। কারও কাছে এটি প্রতিবাদের দিন, কারও কাছে আত্মত্যাগের স্মৃতি, আবার কারও কাছে হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক জীবনের প্রতীক। সময় এগিয়ে যায়, ক্যালেন্ডার বদলে যায়, কিন্তু কিছু দিন মানুষের হৃদয়ে আজীবন অমলিন থেকে যায়।
উল্লেখ্য, এই ফিচারটি মো. রাফায়েতুজ্জামান রিফাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ও বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে উল্লিখিত অভিযোগ ও দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন