ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৮

আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৮

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান।

হামলার পর থেকে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে জানিয়ে ওসি বলেন, গতকাল রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান বলেন, রিয়াজ ফকির মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার মাথায় আঘাত থাকলেও তা গুরুতর নয়।

এদিকে গতকাল দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এদিন বিকেলে কয়েক শ নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালান। এ সময় দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এসময় পুলিশের ৬ সদস্যসহ আহত হন অন্তত ১২ জন। গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ অন্তত ৬ জন আহত হন। তাদের কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রিয়াজ থানার হাজতে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে দাবি করেন পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলা-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৮

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান।

হামলার পর থেকে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে জানিয়ে ওসি বলেন, গতকাল রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানে একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান বলেন, রিয়াজ ফকির মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার মাথায় আঘাত থাকলেও তা গুরুতর নয়।

এদিকে গতকাল দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এদিন বিকেলে কয়েক শ নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালান। এ সময় দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এসময় পুলিশের ৬ সদস্যসহ আহত হন অন্তত ১২ জন। গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে সংঘর্ষে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ অন্তত ৬ জন আহত হন। তাদের কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রিয়াজ থানার হাজতে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে দাবি করেন পুলিশ।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত