কিছু মানুষ কেবল একটি সময়ের নন, তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি জাতির চিরন্তন প্রেরণা। ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তেমনই এক মহিমান্বিত নাম। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিস্তীর্ণ অঙ্গনে তাঁর অবদান আজও দীপ্ত, আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, আলোচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী যেন ছিল একজন মহান ভাষাসাধকের প্রতি নতুন প্রজন্মের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিবেদন।
দিনটির প্রতিটি মুহূর্তে ছিল ভাষার সৌন্দর্য, ইতিহাসের গৌরব আর জ্ঞানচর্চার নির্মল আবহ। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। মারিয়াম উম্মে দিনেজা, মো. জাবির হোসেন, অভিরাজ কুমার পরখ এবং চিত্রাঙ্গদা রায়ের সাবলীল, আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান পায় অনন্য প্রাণচাঞ্চল্য। তাদের কণ্ঠে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের গর্ব এবং আগামী দিনের স্বপ্ন।
আলোচনা পর্বে রাজ্জাকুল ইসলাম আরশ, মুবাশশের হক ফাহিন, ওয়াফি চৌধুরী, তাজিম মুহাম্মদ, লুৎফুল ইসলাম সরকার লিহাব, জয়নাব রুমাইশা এবং রুতবা জামান ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর জীবন, কর্ম, গবেষণা, ভাষা আন্দোলনে তাঁর অনন্য অবদান এবং বাংলা ভাষার বিকাশে তাঁর অসাধারণ ভূমিকা নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে এক নিরলস সাধকের জীবনগাথা— যিনি ভাষাকে শুধু গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেননি; দেখেছিলেন একটি জাতির আত্মমর্যাদা, সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভাষাচার্যের জীবন ও কর্মভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। মাইশা সুলতানা, তাজিম মুহাম্মদ আশকান, স্নেহা সিনহা, ফারহান তানভীর, আজমির হোসেন বিজয়, ইব্রাহীম তানভীর, লুবাবা নওশীন, ওয়াফি চৌধুরী, জয়নাব তাসনীম, জয়নাব রুমাইশা, সিদরাতুল মুনতাসির সানিব এবং মারিয়াম বিনতে ইসলাম উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তারা যেন ফিরে যায় বাংলা ভাষার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাতায়। জ্ঞান অর্জনের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
সমাপনী পর্বে কৃতিত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হলে আনন্দ আর গর্বে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাদের মুখ। করতালির উষ্ণ ধ্বনিতে ভরে ওঠে চারপাশ। বক্তারা নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান— ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর জ্ঞানসাধনা, মানবিক মূল্যবোধ, গবেষণামনস্কতা এবং মাতৃভাষার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে ধারণ করার।
এই আয়োজন কেবল একটি জন্মবার্ষিকী উদযাপন নয়; এটি ছিল ভাষার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্নবায়নের এক অনন্য উপলক্ষ। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং জ্ঞানচর্চার দীপ্ত প্রত্যয়ে নতুন প্রজন্ম যেন আবারও উপলব্ধি করল— বাংলা ভাষা আমাদের পরিচয়, আমাদের আত্মা, আমাদের অস্তিত্ব।
ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর চিন্তা, তাঁর কর্ম, তাঁর ভাষাপ্রীতি এবং তাঁর আদর্শ আজও প্রতিটি বাংলা ভাষাপ্রেমীর হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত এক অবিনশ্বর প্রদীপ। সেই আলোর পথ ধরেই একদিন নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে আরও সমৃদ্ধ, আরও গৌরবময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ— এমন প্রত্যাশায় শেষ হয় দিনব্যাপী এই হৃদয়স্পর্শী আয়োজন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
কিছু মানুষ কেবল একটি সময়ের নন, তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি জাতির চিরন্তন প্রেরণা। ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তেমনই এক মহিমান্বিত নাম। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিস্তীর্ণ অঙ্গনে তাঁর অবদান আজও দীপ্ত, আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, আলোচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী যেন ছিল একজন মহান ভাষাসাধকের প্রতি নতুন প্রজন্মের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিবেদন।
দিনটির প্রতিটি মুহূর্তে ছিল ভাষার সৌন্দর্য, ইতিহাসের গৌরব আর জ্ঞানচর্চার নির্মল আবহ। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। মারিয়াম উম্মে দিনেজা, মো. জাবির হোসেন, অভিরাজ কুমার পরখ এবং চিত্রাঙ্গদা রায়ের সাবলীল, আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান পায় অনন্য প্রাণচাঞ্চল্য। তাদের কণ্ঠে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের গর্ব এবং আগামী দিনের স্বপ্ন।
আলোচনা পর্বে রাজ্জাকুল ইসলাম আরশ, মুবাশশের হক ফাহিন, ওয়াফি চৌধুরী, তাজিম মুহাম্মদ, লুৎফুল ইসলাম সরকার লিহাব, জয়নাব রুমাইশা এবং রুতবা জামান ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর জীবন, কর্ম, গবেষণা, ভাষা আন্দোলনে তাঁর অনন্য অবদান এবং বাংলা ভাষার বিকাশে তাঁর অসাধারণ ভূমিকা নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে এক নিরলস সাধকের জীবনগাথা— যিনি ভাষাকে শুধু গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেননি; দেখেছিলেন একটি জাতির আত্মমর্যাদা, সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভাষাচার্যের জীবন ও কর্মভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। মাইশা সুলতানা, তাজিম মুহাম্মদ আশকান, স্নেহা সিনহা, ফারহান তানভীর, আজমির হোসেন বিজয়, ইব্রাহীম তানভীর, লুবাবা নওশীন, ওয়াফি চৌধুরী, জয়নাব তাসনীম, জয়নাব রুমাইশা, সিদরাতুল মুনতাসির সানিব এবং মারিয়াম বিনতে ইসলাম উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তারা যেন ফিরে যায় বাংলা ভাষার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পাতায়। জ্ঞান অর্জনের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
সমাপনী পর্বে কৃতিত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হলে আনন্দ আর গর্বে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাদের মুখ। করতালির উষ্ণ ধ্বনিতে ভরে ওঠে চারপাশ। বক্তারা নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান— ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর জ্ঞানসাধনা, মানবিক মূল্যবোধ, গবেষণামনস্কতা এবং মাতৃভাষার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে ধারণ করার।
এই আয়োজন কেবল একটি জন্মবার্ষিকী উদযাপন নয়; এটি ছিল ভাষার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্নবায়নের এক অনন্য উপলক্ষ। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং জ্ঞানচর্চার দীপ্ত প্রত্যয়ে নতুন প্রজন্ম যেন আবারও উপলব্ধি করল— বাংলা ভাষা আমাদের পরিচয়, আমাদের আত্মা, আমাদের অস্তিত্ব।
ভাষাচার্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হয়তো আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর চিন্তা, তাঁর কর্ম, তাঁর ভাষাপ্রীতি এবং তাঁর আদর্শ আজও প্রতিটি বাংলা ভাষাপ্রেমীর হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত এক অবিনশ্বর প্রদীপ। সেই আলোর পথ ধরেই একদিন নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে আরও সমৃদ্ধ, আরও গৌরবময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ— এমন প্রত্যাশায় শেষ হয় দিনব্যাপী এই হৃদয়স্পর্শী আয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন