ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

জলাবদ্ধতায় নাকাল চৌদ্দগ্রামের খামার পুস্করণী প্রাথমিক বিদ্যালয়: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

জলাবদ্ধতায় নাকাল চৌদ্দগ্রামের খামার পুস্করণী প্রাথমিক বিদ্যালয়: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই খামার পুস্করণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ তলিয়ে যাচ্ছে হাঁটু পানিতে। সুনির্দিষ্ট ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে খুদে শিক্ষার্থীরা এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

​সরেজমিনে জানা যায়, শুভপুর ইউনিয়নের পদুয়া খামার পুস্করণী এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ১৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এলাকাটি জনবহুল এবং এখানে অনেক গুণী মানুষের জন্ম হলেও বিদ্যালয়টির মাঠের কোনো স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি।

​গত দুই দিনের সাধারণ বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ পানির নিচে চলে গেছে। পানি নামার পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই নোংরা ও পচা পানি পাড়ি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে হচ্ছে শিশুদের। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতো-মোজা হাতে নিয়ে, পোশাক ভিজিয়ে ক্লাসে যেতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলায় একদিকে যেমন শিশুদের উপস্থিতি কমছে, অন্যদিকে নোংরা পানির কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠ ভরাট ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও দীর্ঘদিন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

শামছুন নাহার, প্রধান শিক্ষিকা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় চারপাশের পানি এসে এখানে জমে থাকে। ফলে আমরা প্রাত্যহিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) করতে পারছি না। মাঠে কাদা-পানি জমে থাকায় শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাইছে না। মাঠটি দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করা হলে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে আসবে।

​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান:

বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার বিষয়টি শিক্ষক ও অভিভাবকরা আমাদের অবগত করেছেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে আলোচনা করে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেব।

​চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন:

স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিকের মাধ্যমে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বিদ্যালয় মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


জলাবদ্ধতায় নাকাল চৌদ্দগ্রামের খামার পুস্করণী প্রাথমিক বিদ্যালয়: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই খামার পুস্করণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ তলিয়ে যাচ্ছে হাঁটু পানিতে। সুনির্দিষ্ট ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে খুদে শিক্ষার্থীরা এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

​সরেজমিনে জানা যায়, শুভপুর ইউনিয়নের পদুয়া খামার পুস্করণী এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে ১৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এলাকাটি জনবহুল এবং এখানে অনেক গুণী মানুষের জন্ম হলেও বিদ্যালয়টির মাঠের কোনো স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি।

​গত দুই দিনের সাধারণ বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ পানির নিচে চলে গেছে। পানি নামার পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই নোংরা ও পচা পানি পাড়ি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে হচ্ছে শিশুদের। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতো-মোজা হাতে নিয়ে, পোশাক ভিজিয়ে ক্লাসে যেতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলায় একদিকে যেমন শিশুদের উপস্থিতি কমছে, অন্যদিকে নোংরা পানির কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠ ভরাট ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও দীর্ঘদিন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

শামছুন নাহার, প্রধান শিক্ষিকা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় চারপাশের পানি এসে এখানে জমে থাকে। ফলে আমরা প্রাত্যহিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) করতে পারছি না। মাঠে কাদা-পানি জমে থাকায় শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাইছে না। মাঠটি দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করা হলে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে আসবে।

​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান:

বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার বিষয়টি শিক্ষক ও অভিভাবকরা আমাদের অবগত করেছেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে আলোচনা করে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেব।

​চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন:

স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিকের মাধ্যমে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বিদ্যালয় মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ করা হোক।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত