ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতলেও ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায়’ সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছেন তার অনুসারীরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও বিভিন্ন ভাবে সড়ক অবরোধ করে রাখায় বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।

জানা যায়, এদিন বেলা তিনটা পর্যন্ত রয়েল সিমেন্ট গেট, ছোট দারোগারহাটসহ নানা স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক থেকে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর সিটি গেইট থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত প্রায় জুড়ে ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বাড়বকুণ্ড এলাকায় সড়কের পাশ থেকে বড় একটি গাছ কেটে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা যায়, আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেছিলেন। আপিল মঞ্জুর করে আজ সকালে রায় দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। রায়ে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণার পর দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে একাধিক স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা ‘আসলাম ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘দুর্দিনের আসলাম ভাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ নানা স্লোগান দেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীরের নেতৃত্বে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করেন। পরে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানা ও সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পর বাড়বকুণ্ড এলাকায় একইভাবে মিছিল করে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এদিন বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ছোট দারোগারহাট এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি গাছ কেটে ফেলে অবরোধ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তারা সরে যান।

এ বিষয়ে কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা এই রায় মানি না। কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপি যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আসলাম চৌধুরীর ডাকে আগেও সাড়া দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। হাজার হাজার কর্মীর প্রাণপ্রিয় নেতা আসলাম চৌধুরীকে আমরা সংসদে দেখতে চাই।’

আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ জানিয়ে মো. আলমগীর বলেন, ‘৯ বছর জেল খেটেছেন। তার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তার যা কিছু ছিল, অবৈধ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। এক কালো ষড়যন্ত্রে আজ সকালে শুনতে পাই, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। জনতার রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। জনতার রায় কার্যকর না হলে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। প্রিয় নেতার জন্য লাখো মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। তখন জনমানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। আমরা চাই না সেটি ঘটুক। আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে, এ আশা রাখছি।’

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল মাহমুদ জানান, রয়েল সিমেন্ট এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

মিছিলের কারণে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট মহাসড়ক বন্ধ ছিল বলে উল্লেখ করেন ওসি।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিনটি স্থানে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে অবরোধ করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতলেও ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায়’ সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছেন তার অনুসারীরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও বিভিন্ন ভাবে সড়ক অবরোধ করে রাখায় বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।

জানা যায়, এদিন বেলা তিনটা পর্যন্ত রয়েল সিমেন্ট গেট, ছোট দারোগারহাটসহ নানা স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক থেকে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর সিটি গেইট থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত প্রায় জুড়ে ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বাড়বকুণ্ড এলাকায় সড়কের পাশ থেকে বড় একটি গাছ কেটে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা যায়, আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেছিলেন। আপিল মঞ্জুর করে আজ সকালে রায় দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। রায়ে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণার পর দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে একাধিক স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা ‘আসলাম ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘দুর্দিনের আসলাম ভাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ নানা স্লোগান দেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীরের নেতৃত্বে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করেন। পরে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানা ও সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পর বাড়বকুণ্ড এলাকায় একইভাবে মিছিল করে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এদিন বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ছোট দারোগারহাট এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি গাছ কেটে ফেলে অবরোধ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে মহাসড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তারা সরে যান।

এ বিষয়ে কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা এই রায় মানি না। কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপি যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আসলাম চৌধুরীর ডাকে আগেও সাড়া দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। হাজার হাজার কর্মীর প্রাণপ্রিয় নেতা আসলাম চৌধুরীকে আমরা সংসদে দেখতে চাই।’

আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ জানিয়ে মো. আলমগীর বলেন, ‘৯ বছর জেল খেটেছেন। তার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তার যা কিছু ছিল, অবৈধ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। এক কালো ষড়যন্ত্রে আজ সকালে শুনতে পাই, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। জনতার রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। জনতার রায় কার্যকর না হলে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। প্রিয় নেতার জন্য লাখো মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। তখন জনমানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। আমরা চাই না সেটি ঘটুক। আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে, এ আশা রাখছি।’

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল মাহমুদ জানান, রয়েল সিমেন্ট এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

মিছিলের কারণে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট মহাসড়ক বন্ধ ছিল বলে উল্লেখ করেন ওসি।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিনটি স্থানে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে অবরোধ করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত