সৈয়দপুরে কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মিফতাহুল জান্নাত তাকওয়া (৭) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের এ দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আহত শিক্ষার্থী হলেন ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক বাবলী খাতুনের একমাত্র মেয়ে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা বিষয়ে পাঠদান করাচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার। এ সময় হঠাৎ করে শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে প্রায় ৫ কেজি ওজনের পচা রড ও বালু-সিমেন্টের পলেস্তারার একটি অংশ আকস্মিক খসে তাকওয়ার বাম হাতে আঘাত করে। এতে সে আহত হয়।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা চিৎকার দিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক দ্রুত গিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসা শেষে তাকওয়ার সঙ্গে কথা বললে সে বলে, “আমি আর ওই কক্ষে যাব না।”
আহত শিক্ষার্থীর মা ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবলী খাতুন বলেন, “ওই দুই কক্ষে কোনোভাবেই পাঠদান করা উচিত নয়। আল্লাহপাক আমার সন্তানকে হেফাজত করেছেন। আজ আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
শওকত আলী নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দুই কন্যা ওই ভাঙাচোরা কক্ষে বসে পড়ে। আমি অবাক হয়েছি, কেমন করে এত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ কক্ষে ছোট ছোট বাচ্চাদের বসিয়ে পড়ানো হচ্ছে। কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? এ ঘটনার পর অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষ দুটি বন্ধ ঘোষণা, নতুন ভবন নির্মাণ অথবা বিকল্প নিরাপদ স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থার দাবি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ওই দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে রডে মরিচা ধরে পচে গেছে এবং ১ থেকে ৫ কেজি ওজনের বালু-সিমেন্টের চাপা ঝুলে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব অংশ খসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
শিক্ষকরা জানান, চলমান তাপদাহের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান চালাতে ভয় পান তারা। ফ্যান চালালে কম্পনের কারণে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফ্যান বন্ধ রেখেই পাঠদান করতে হয়। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্ট সহ্য করে পড়াতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯১১ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শতবর্ষী এ বিদ্যাপীঠে ২০০৩ সালে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একতলা এই ভবন নির্মাণ করা হয়। নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে ভবনটি ২০২০ সালের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে পুরোনো ছাদের ওপর আরও একটি জলছাদ নির্মাণ করা হয়। এতে মূল কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাদিরা আখতার বানু ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার আবেদন করেন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাদিরা আখতার বানু অভিযোগ, সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। ফলে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দুটি কক্ষে পাঠদান অব্যাহত থাকে।
বর্তমানে ওই দুটি কক্ষে প্রথম শ্রেণির ৩৭ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৪ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে। প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ভবন সংস্কারের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল হাসান বলেন, আমি সবে মাত্র এখানে যোগদান করেছি। নিয়মিত বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছি। দুর্ঘটনাকবলিত ওই বিদ্যালয়ে এখনো যাওয়া হয়নি। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে অবশ্যই সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
সৈয়দপুরে কয়া নং-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মিফতাহুল জান্নাত তাকওয়া (৭) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের এ দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আহত শিক্ষার্থী হলেন ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক বাবলী খাতুনের একমাত্র মেয়ে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা বিষয়ে পাঠদান করাচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার। এ সময় হঠাৎ করে শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে প্রায় ৫ কেজি ওজনের পচা রড ও বালু-সিমেন্টের পলেস্তারার একটি অংশ আকস্মিক খসে তাকওয়ার বাম হাতে আঘাত করে। এতে সে আহত হয়।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা চিৎকার দিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক দ্রুত গিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসা শেষে তাকওয়ার সঙ্গে কথা বললে সে বলে, “আমি আর ওই কক্ষে যাব না।”
আহত শিক্ষার্থীর মা ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবলী খাতুন বলেন, “ওই দুই কক্ষে কোনোভাবেই পাঠদান করা উচিত নয়। আল্লাহপাক আমার সন্তানকে হেফাজত করেছেন। আজ আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
শওকত আলী নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার দুই কন্যা ওই ভাঙাচোরা কক্ষে বসে পড়ে। আমি অবাক হয়েছি, কেমন করে এত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ কক্ষে ছোট ছোট বাচ্চাদের বসিয়ে পড়ানো হচ্ছে। কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? এ ঘটনার পর অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষ দুটি বন্ধ ঘোষণা, নতুন ভবন নির্মাণ অথবা বিকল্প নিরাপদ স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থার দাবি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ওই দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে রডে মরিচা ধরে পচে গেছে এবং ১ থেকে ৫ কেজি ওজনের বালু-সিমেন্টের চাপা ঝুলে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব অংশ খসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
শিক্ষকরা জানান, চলমান তাপদাহের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান চালাতে ভয় পান তারা। ফ্যান চালালে কম্পনের কারণে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ফ্যান বন্ধ রেখেই পাঠদান করতে হয়। ফলে প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্ট সহ্য করে পড়াতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯১১ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শতবর্ষী এ বিদ্যাপীঠে ২০০৩ সালে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একতলা এই ভবন নির্মাণ করা হয়। নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে ভবনটি ২০২০ সালের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে পুরোনো ছাদের ওপর আরও একটি জলছাদ নির্মাণ করা হয়। এতে মূল কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাদিরা আখতার বানু ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার আবেদন করেন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নাদিরা আখতার বানু অভিযোগ, সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। ফলে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দুটি কক্ষে পাঠদান অব্যাহত থাকে।
বর্তমানে ওই দুটি কক্ষে প্রথম শ্রেণির ৩৭ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৪ জন শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে। প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ভবন সংস্কারের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল হাসান বলেন, আমি সবে মাত্র এখানে যোগদান করেছি। নিয়মিত বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছি। দুর্ঘটনাকবলিত ওই বিদ্যালয়ে এখনো যাওয়া হয়নি। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে অবশ্যই সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন