ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

দিরাইয়ে মাসুম-তাহমিম গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে

দিরাইয়ে মাসুম-তাহমিম গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে
দিরাইয়ে মাসুম-তাহমিম গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছেন মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর পরিবার পরিজনরা

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মকসদপুর গ্রামে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৭ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় আওয়ামিলীগ নেতা বর্তমান ইউপি সদস্য মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী সহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর ৪ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মকসদপুর গ্রামের বিএনপি নেতা,মাছুম, তাহমিম আজাদ ও তাদের সহযোগীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীকে রাস্তায় আটক করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে বন্দুক, রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওয়াদুদ চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, হামলার সময় অভিযুক্তরা চিৎকার করে হুমকি দিতে থাকে “তোর ছেলে রওশন আহমেদ চৌধুরী, ভাগনা,আলমগীর, মো: কয়ছর আহমদ চৌধুরী, কয়েছ, মোঃ জুয়েন খাঁন মো: ইব্রাহিম হোসাইন মাহিব, মো: মাহবুব হোসেন , মো: রেজাউল করীম,উনার মেয়ে মোছা: ফাইজা চৌধুরী সহ  পরিবারের যাকে যেদিন পাবো, সেদিনই খুন করবো।”

পরবর্তীতে ওয়াদুদ চৌধুরীকে উদ্ধার করতে তার স্বজন, প্রতিবেশী ও ভাই-ভাতিজারা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত মাসুম-তাহমিম গ্যাংয়ের সদস্যরা পুলিশের প্রতিও আক্রমণাত্মক আচরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা পুলিশ সদস্যদের “চোর-ডাকাত” বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

গ্রামবাসীরা জানান,এরা ইয়াবা ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত-এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় বর্তমান ইউপি সদস্য ওয়াদুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাদের বিরোধ চরমে পৌঁছে।

স্থানীয়দের দাবি, মাছুম পূর্বে নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বাসায় ডাকাতি ও কেয়ারটেকার লিলু হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন। এছাড়াও মকসদপুর গ্রামের আঞ্জুমিয়া চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির মামলাতেও কারাগারে ছিলো।

এছাড়া প্রায় তিন বছর আগে মকসদপুর গ্রামের মামুন রশিদকে মাসুম-তাহমিম গ্যাং অতর্কিত হামলা চালিয়ে দা ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “মাসুম-তাহমিম বাহিনী পুরুষশূন্য বাড়িতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর স্বজনরা বলেন, মাসুম তাহমিম আজাদ গংরা বিএনপির দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাদেরকে আক্রান্ত করার পর ও ভিবিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে ।

এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন,“ঐ দিন ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা চিকিৎসাধীন আছেন । 

এ ঘটনায়আজ পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পুরো মকসদপুর গ্রামে ও মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


দিরাইয়ে মাসুম-তাহমিম গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মকসদপুর গ্রামে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৭ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় আওয়ামিলীগ নেতা বর্তমান ইউপি সদস্য মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী সহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর ৪ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 


স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মকসদপুর গ্রামের বিএনপি নেতা,মাছুম, তাহমিম আজাদ ও তাদের সহযোগীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীকে রাস্তায় আটক করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে বন্দুক, রামদা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওয়াদুদ চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, হামলার সময় অভিযুক্তরা চিৎকার করে হুমকি দিতে থাকে “তোর ছেলে রওশন আহমেদ চৌধুরী, ভাগনা,আলমগীর, মো: কয়ছর আহমদ চৌধুরী, কয়েছ, মোঃ জুয়েন খাঁন মো: ইব্রাহিম হোসাইন মাহিব, মো: মাহবুব হোসেন , মো: রেজাউল করীম,উনার মেয়ে মোছা: ফাইজা চৌধুরী সহ  পরিবারের যাকে যেদিন পাবো, সেদিনই খুন করবো।”


পরবর্তীতে ওয়াদুদ চৌধুরীকে উদ্ধার করতে তার স্বজন, প্রতিবেশী ও ভাই-ভাতিজারা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


ঘটনার পরপরই দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত মাসুম-তাহমিম গ্যাংয়ের সদস্যরা পুলিশের প্রতিও আক্রমণাত্মক আচরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা পুলিশ সদস্যদের “চোর-ডাকাত” বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।


গ্রামবাসীরা জানান,এরা ইয়াবা ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত-এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় বর্তমান ইউপি সদস্য ওয়াদুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাদের বিরোধ চরমে পৌঁছে।


স্থানীয়দের দাবি, মাছুম পূর্বে নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বাসায় ডাকাতি ও কেয়ারটেকার লিলু হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন। এছাড়াও মকসদপুর গ্রামের আঞ্জুমিয়া চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির মামলাতেও কারাগারে ছিলো।


এছাড়া প্রায় তিন বছর আগে মকসদপুর গ্রামের মামুন রশিদকে মাসুম-তাহমিম গ্যাং অতর্কিত হামলা চালিয়ে দা ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “মাসুম-তাহমিম বাহিনী পুরুষশূন্য বাড়িতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর স্বজনরা বলেন, মাসুম তাহমিম আজাদ গংরা বিএনপির দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাদেরকে আক্রান্ত করার পর ও ভিবিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে ।


এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন,“ঐ দিন ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা চিকিৎসাধীন আছেন । 


এ ঘটনায়আজ পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পুরো মকসদপুর গ্রামে ও মো: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত