ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সৈয়দপুর ট্রেন ট্র্যাজেডির দিবস আজ

 সৈয়দপুর ট্রেন ট্র্যাজেডির দিবস আজ

আজ ১৩ জুন—সৈয়দপুরের ট্রেন ট্র্যাজেডির নৃশংস গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দিনে সৈয়দপুর রেলওয়ে এলাকায় ঘটে যায় এক নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যা ইতিহাসে “সৈয়দপুর ট্রেন হত্যাকাণ্ড” হিসেবে পরিচিত।

স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা সৈয়দপুরে আটকেপড়া মাড়োয়াড়ি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে মাইকিং করে জানায়—তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

১৩ জুন সকালে সৈয়দপুর রেলস্টেশনে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষ জড়ো হন। পরে তাদের চারটি বগির একটি ট্রেনে উঠানো হয়। প্রথম দুই বগিতে নারী ও শিশু এবং পরের দুই বগিতে পুরুষদের রাখা হয়। ট্রেনটি সকাল প্রায় ১০টার দিকে সৈয়দপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রেনটি শহর অতিক্রম করে রেলওয়ে কারখানার পাশে গোলাহাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ থেমে যায়। এরপরই সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা ট্রেন ঘিরে ফেলে।

অভিযোগ রয়েছে, সেনারা ট্রেনের ভেতর থাকা যাত্রীদের নামিয়ে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ হত্যাযজ্ঞে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাননি।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আনুমানিক ৪৩৭ থেকে ৪৪৮ জন মানুষ নিহত হন। এছাড়া ৩৭ জন তরুণীকে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, যাদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ধারণা করা হয়, কিছু মানুষ ট্রেন থেকে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয়দের বর্ণনা মতে, এ হত্যাকাণ্ডকে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা “অপারেশন খরচাখাতা” নামে অভিহিত করেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছর ১৩ জুন দিনটি সৈয়দপুরবাসী শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে। এ বছরও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বলন এবং আলোচনা সভা।

এদিকে স্থানীয় শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজকের এই দিনটি স্মরণ করে স্থানীয়রা বলেন, ইতিহাসের এই নির্মম অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন মানবতাবিরোধী ঘটনা আর কখনো না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুর ট্রেন ট্র্যাজেডির দিবস আজ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

আজ ১৩ জুন—সৈয়দপুরের ট্রেন ট্র্যাজেডির নৃশংস গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দিনে সৈয়দপুর রেলওয়ে এলাকায় ঘটে যায় এক নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যা ইতিহাসে “সৈয়দপুর ট্রেন হত্যাকাণ্ড” হিসেবে পরিচিত।

স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা সৈয়দপুরে আটকেপড়া মাড়োয়াড়ি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে মাইকিং করে জানায়—তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

১৩ জুন সকালে সৈয়দপুর রেলস্টেশনে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষ জড়ো হন। পরে তাদের চারটি বগির একটি ট্রেনে উঠানো হয়। প্রথম দুই বগিতে নারী ও শিশু এবং পরের দুই বগিতে পুরুষদের রাখা হয়। ট্রেনটি সকাল প্রায় ১০টার দিকে সৈয়দপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রেনটি শহর অতিক্রম করে রেলওয়ে কারখানার পাশে গোলাহাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ থেমে যায়। এরপরই সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা ট্রেন ঘিরে ফেলে।

অভিযোগ রয়েছে, সেনারা ট্রেনের ভেতর থাকা যাত্রীদের নামিয়ে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ হত্যাযজ্ঞে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাননি।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আনুমানিক ৪৩৭ থেকে ৪৪৮ জন মানুষ নিহত হন। এছাড়া ৩৭ জন তরুণীকে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, যাদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ধারণা করা হয়, কিছু মানুষ ট্রেন থেকে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

স্থানীয়দের বর্ণনা মতে, এ হত্যাকাণ্ডকে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা “অপারেশন খরচাখাতা” নামে অভিহিত করেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছর ১৩ জুন দিনটি সৈয়দপুরবাসী শহীদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে আসছে। এ বছরও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বলন এবং আলোচনা সভা।

এদিকে স্থানীয় শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজকের এই দিনটি স্মরণ করে স্থানীয়রা বলেন, ইতিহাসের এই নির্মম অধ্যায় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন মানবতাবিরোধী ঘটনা আর কখনো না ঘটে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত