প্রায় দুই মাস দীর্ঘ ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও (১৪ এপ্রিল থেকে ১১ মে) এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, আলীপুর-মহিপুরসহ উপকূলীয় মৎস্য এলাকা এখন সমুদ্রগামী জেলেদের কর্ম চাঞ্চল্যে সরব হয়ে উঠেছে। তবে এই যাত্রার প্রাক্কালে উপকূলীয় অর্থনীতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা কেবল আশার নয়, বরং এক গভীর সংকটের ইঙ্গিতবাহী।
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সরকারি আইন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, তা এবারও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ এবং নৌবাহিনীর মতো শক্তিশালী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও রামনাবাদ ও আন্ধারমানিক মোহনায় জেলেদের অবাধ বিচরণ এবং মৎস্য আড়তগুলোর সরব উপস্থিতি প্রশ্ন তোলে—নিষেধাজ্ঞা আসলে কার জন্য?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে স্থানীয় বরফকল এবং পরিবহন ব্যবস্থা ছিল পূর্ণমাত্রায় সক্রিয়। আইন অমান্য করে মাছ ধরার যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত অনিয়মের কাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তথ্যানুযায়ী, ট্রলার প্রতি মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সমুদ্রে মাছ শিকারের 'অনুমতি' পাওয়ার অভিযোগটি প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। যদি এই অভিযোগের সত্যতা থাকে, তবে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের পুরো উদ্যোগটিই প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু যেসব প্রান্তিক জেলে সততার সাথে আইন মেনে ঘরে বসে ছিলেন, তাদের জীবনযাত্রা এখন এক দোদুল্যমান অবস্থায়। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি ভিজিএফ সহায়তা দিলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় যে অপ্রতুল, তা জেলেদের জীবনযাত্রার করুণ চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। অন্যদিকে, যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করেছেন, তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। অর্থাৎ, আইন মেনে চলাই যেন এখন সাধারণ জেলেদের জন্য 'শাস্তি' হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈষম্য কেবল জেলেদের মধ্যেই হতাশা তৈরি করছে না, বরং আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ অনুযায়ী, পটুয়াখালীর ৭৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেসহ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা এই মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। জেলার কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী এবং মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরে এই পেশার মানুষের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে মাছের উৎপাদন বাড়ার কথা। কিন্তু আইন প্রয়োগে যদি ছিদ্র থেকে যায়, তবে সেই উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা অনিশ্চিত। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে এবার সাগরে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা ভালো আয় করতে পারবেন।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
প্রায় দুই মাস দীর্ঘ ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও (১৪ এপ্রিল থেকে ১১ মে) এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, আলীপুর-মহিপুরসহ উপকূলীয় মৎস্য এলাকা এখন সমুদ্রগামী জেলেদের কর্ম চাঞ্চল্যে সরব হয়ে উঠেছে। তবে এই যাত্রার প্রাক্কালে উপকূলীয় অর্থনীতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা কেবল আশার নয়, বরং এক গভীর সংকটের ইঙ্গিতবাহী।
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সরকারি আইন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, তা এবারও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ এবং নৌবাহিনীর মতো শক্তিশালী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও রামনাবাদ ও আন্ধারমানিক মোহনায় জেলেদের অবাধ বিচরণ এবং মৎস্য আড়তগুলোর সরব উপস্থিতি প্রশ্ন তোলে—নিষেধাজ্ঞা আসলে কার জন্য?
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে স্থানীয় বরফকল এবং পরিবহন ব্যবস্থা ছিল পূর্ণমাত্রায় সক্রিয়। আইন অমান্য করে মাছ ধরার যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত অনিয়মের কাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তথ্যানুযায়ী, ট্রলার প্রতি মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সমুদ্রে মাছ শিকারের 'অনুমতি' পাওয়ার অভিযোগটি প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। যদি এই অভিযোগের সত্যতা থাকে, তবে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের পুরো উদ্যোগটিই প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু যেসব প্রান্তিক জেলে সততার সাথে আইন মেনে ঘরে বসে ছিলেন, তাদের জীবনযাত্রা এখন এক দোদুল্যমান অবস্থায়। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি ভিজিএফ সহায়তা দিলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় যে অপ্রতুল, তা জেলেদের জীবনযাত্রার করুণ চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। অন্যদিকে, যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করেছেন, তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। অর্থাৎ, আইন মেনে চলাই যেন এখন সাধারণ জেলেদের জন্য 'শাস্তি' হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈষম্য কেবল জেলেদের মধ্যেই হতাশা তৈরি করছে না, বরং আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ অনুযায়ী, পটুয়াখালীর ৭৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেসহ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা এই মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। জেলার কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী এবং মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরে এই পেশার মানুষের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে মাছের উৎপাদন বাড়ার কথা। কিন্তু আইন প্রয়োগে যদি ছিদ্র থেকে যায়, তবে সেই উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা অনিশ্চিত। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে এবার সাগরে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা ভালো আয় করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন