ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

ভেঙে গেছে কাঠের সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন পথচারীরা

ভেঙে গেছে কাঠের সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন পথচারীরা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খালের ওপর নির্মিত একমাত্র কাঠের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প সড়ক বা পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সাঁকোটিই ছিল এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এ পথে চলাচল করতেন। সম্প্রতি বর্ষার পানির তীব্র স্রোতে সাঁকোর খুঁটি ও ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেটি অচল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৬), আব্দুল আজিজ (৬০) ও সফিকুল ইসলাম (৬৫) জানান, কয়েক বছর আগে বিএমডিএ খালের গভীরতা বৃদ্ধি করে। এর ফলে বর্ষাকালে পানির তোড়ে সাঁকোর নিচের মাটি সরে গিয়ে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি উদ্যোগে কোনো সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক পাটোয়ারীর অর্থায়নে সাঁকোটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষায় পানির প্রবল স্রোতে আবারও সেটি ভেঙে পড়ে। তারা স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্কুলশিক্ষার্থী হাবিবউল্লাহ, আনিছুর ও আজোয়াতসহ অনেকে জানান, এই সাঁকো দিয়েই তারা প্রতিদিন স্কুলে যায়। সেটি ভেঙে যাওয়ায় এখন অনেক কষ্ট করে যেতে হচ্ছে। পার হতে ভয় লাগে, কখন পড়ে যায়।

কুড়িগ্রাম বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. এজাদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমাদের কোনো সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প নেই। তবে জনস্বার্থে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা চাইলে সেখানে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেলে আমরা প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠাতে পারব। তবে সেতুর দৈর্ঘ্য ১৫ মিটারের বেশি হলে তা আমাদের আওতায় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে। সেখানে কোনো সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ভেঙে গেছে কাঠের সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন পথচারীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খালের ওপর নির্মিত একমাত্র কাঠের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প সড়ক বা পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সাঁকোটিই ছিল এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এ পথে চলাচল করতেন। সম্প্রতি বর্ষার পানির তীব্র স্রোতে সাঁকোর খুঁটি ও ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেটি অচল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৬), আব্দুল আজিজ (৬০) ও সফিকুল ইসলাম (৬৫) জানান, কয়েক বছর আগে বিএমডিএ খালের গভীরতা বৃদ্ধি করে। এর ফলে বর্ষাকালে পানির তোড়ে সাঁকোর নিচের মাটি সরে গিয়ে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি উদ্যোগে কোনো সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক পাটোয়ারীর অর্থায়নে সাঁকোটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষায় পানির প্রবল স্রোতে আবারও সেটি ভেঙে পড়ে। তারা স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্কুলশিক্ষার্থী হাবিবউল্লাহ, আনিছুর ও আজোয়াতসহ অনেকে জানান, এই সাঁকো দিয়েই তারা প্রতিদিন স্কুলে যায়। সেটি ভেঙে যাওয়ায় এখন অনেক কষ্ট করে যেতে হচ্ছে। পার হতে ভয় লাগে, কখন পড়ে যায়।

কুড়িগ্রাম বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. এজাদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমাদের কোনো সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প নেই। তবে জনস্বার্থে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা চাইলে সেখানে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেলে আমরা প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠাতে পারব। তবে সেতুর দৈর্ঘ্য ১৫ মিটারের বেশি হলে তা আমাদের আওতায় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে। সেখানে কোনো সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত