ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সৈয়দপুরে রেলের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান

সৈয়দপুরে রেলের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান

 সৈয়দপুর শহরে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

অভিযানে গোলাহাট এলাকার একটি বড় জলাশয় দখল করে নির্মিত ছয়টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ১০টি দোকান এবং রাসুলপুর ও গার্ডপাড়া এলাকার কয়েকটি রেল কোয়ার্টার থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়।

তবে এ অভিযানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও লোক দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, প্রভাবশালী দখলদারদের ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অসহায় ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে, যার ৮০ শতাংশেরও বেশি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে।

গোলাহাট এলাকার জলাশয়ের লিজগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, তারা রেলওয়ের কাছ থেকে জলাশয়টি লিজ নিয়ে নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ করে আসছেন এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের বৈধ লিজ রয়েছে। তবুও জলাশয়সংলগ্ন তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

একই ধরনের অভিযোগ করেন স্টেশন এলাকার পান দোকানদার মজনু সরকার। তিনি বলেন, “আমরা কোনো নোটিশ পাইনি। হঠাৎ করেই রেলের লোকজন এসে আমাদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অথচ কাজিপাড়া হঠাৎ বস্তি এলাকায় রেলওয়ের কয়েক একর জমি প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও সেখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের ফিদালী ইনস্টিটিউট সংলগ্ন রেলওয়ের পুকুরপাড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি নির্মিত হলেও সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম নেই। একইভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনগুলোর বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, এসব স্থাপনার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করছে না।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) সফিকুল ইসলাম বলেন, “সৈয়দপুরে রেলওয়ের জলাশয়, কোয়ার্টার ও পতিত জমি দখল করে কিংবা কৃষি লিজের শর্ত ভঙ্গ করে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়ম মেনেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ের কানুনগো মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং পার্বতীপুর রেলওয়ে আরএনবি প্রধান আহসান হাবিব। এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক রেলওয়ে শ্রমিক অভিযানে অংশ নেন।

সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ জমি দখল হওয়া সম্ভব নয়। তাদের দাবি, যেসব ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেননি, মূলত তাদের স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও বসতঘরগুলোকে বৈধ ইজারার আওতায় আনা যেতে পারে। তবে রেল চলাচল ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অবশ্যই উদ্ধার করা উচিত। এ ধরনের যৌক্তিক উদ্যোগে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ রেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তারা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, “উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রেলওয়ের প্রয়োজনীয় জমি উদ্ধার করা হবে এবং যেসব জমি বর্তমানে প্রয়োজন নেই, সেগুলো লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।”

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে রেলের জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

 সৈয়দপুর শহরে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

অভিযানে গোলাহাট এলাকার একটি বড় জলাশয় দখল করে নির্মিত ছয়টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ১০টি দোকান এবং রাসুলপুর ও গার্ডপাড়া এলাকার কয়েকটি রেল কোয়ার্টার থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়।

তবে এ অভিযানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও লোক দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, প্রভাবশালী দখলদারদের ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অসহায় ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে, যার ৮০ শতাংশেরও বেশি বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে।

গোলাহাট এলাকার জলাশয়ের লিজগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, তারা রেলওয়ের কাছ থেকে জলাশয়টি লিজ নিয়ে নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ করে আসছেন এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের বৈধ লিজ রয়েছে। তবুও জলাশয়সংলগ্ন তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

একই ধরনের অভিযোগ করেন স্টেশন এলাকার পান দোকানদার মজনু সরকার। তিনি বলেন, “আমরা কোনো নোটিশ পাইনি। হঠাৎ করেই রেলের লোকজন এসে আমাদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অথচ কাজিপাড়া হঠাৎ বস্তি এলাকায় রেলওয়ের কয়েক একর জমি প্লট আকারে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও সেখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের ফিদালী ইনস্টিটিউট সংলগ্ন রেলওয়ের পুকুরপাড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি নির্মিত হলেও সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম নেই। একইভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনগুলোর বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, এসব স্থাপনার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করছে না।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) সফিকুল ইসলাম বলেন, “সৈয়দপুরে রেলওয়ের জলাশয়, কোয়ার্টার ও পতিত জমি দখল করে কিংবা কৃষি লিজের শর্ত ভঙ্গ করে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়ম মেনেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ের কানুনগো মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং পার্বতীপুর রেলওয়ে আরএনবি প্রধান আহসান হাবিব। এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক রেলওয়ে শ্রমিক অভিযানে অংশ নেন।

সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভাষ্য, রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ জমি দখল হওয়া সম্ভব নয়। তাদের দাবি, যেসব ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেননি, মূলত তাদের স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও বসতঘরগুলোকে বৈধ ইজারার আওতায় আনা যেতে পারে। তবে রেল চলাচল ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অবশ্যই উদ্ধার করা উচিত। এ ধরনের যৌক্তিক উদ্যোগে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ রেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তারা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, “উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রেলওয়ের প্রয়োজনীয় জমি উদ্ধার করা হবে এবং যেসব জমি বর্তমানে প্রয়োজন নেই, সেগুলো লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।”


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত