উত্তরের স্বর্ণদ্বার খ্যাত নগরী সৈয়দপুর। ইতিহাস, শ্রম, সংস্কৃতি এবং মানুষের নিরব সংগ্রামে গড়ে ওঠা এই জনপদে আবারও জোরালো হয়েছে জেলার দাবী। দীর্ঘদিনের এই দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়েছে।
১৯১৫ সালে সৈয়দপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, কুচবিহার থেকে আগত একটি সাইয়্যেদ পরিবার প্রথম এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। তাদের নামানুসারেই প্রথমে ‘সাইয়্যেদপুর’ এবং পরবর্তীতে ‘সৈয়দপুর’ নামকরণ হয়। ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর এটি মানোন্নীত থানার প্রশাসনিক কাঠামো লাভ করে।
১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করেই সৈয়দপুরের আধুনিক বিকাশ ঘটে। আজও দেশের অন্যতম বৃহৎ রেলওয়ে ওয়ার্কশপ, গুরুত্বপূর্ণ জংশন এবং রেল প্রশাসনের নানা দপ্তর এই শহরকে ঘিরে রেখেছে। সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সেনানিবাস এবং দেশের একমাত্র ইএমই সেন্টার, যা শহরটির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে সৈয়দপুর উত্তরাঞ্চলের একটি শক্তিশালী বাণিজ্যকেন্দ্র। বিসিক শিল্পনগরী, পাইকারি বাজার, শুঁটকি আড়ত, পান-সুপারি ও ফল বাণিজ্য এই শহরকে প্রতিদিন হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত।
স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলের মতে, সৈয়দপুর ইতোমধ্যেই জেলা শহরের প্রায় সব যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, সৈয়দপুর বহু আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ জেলার সব যোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত গুরুত্ব—সবদিক থেকেই এটি জেলার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।”
বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ বলেন, ২০০৬ সাল থেকেই আমরা এই দাবিতে আন্দোলন করেছি। আজও সেই দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সৈয়দপুর এখন বাস্তব অর্থেই একটি জেলা শহর।”
সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু বলেন, সৈয়দপুর হতে পারে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলা। এখানে ব্যতিক্রমধর্মী নগরায়ন গড়ে ওঠার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই এটি একটি শক্তিশালী হাব হিসেবে বিকশিত হতে পারে। এটি কোনো আবেগের দাবি নয়, বরং বাস্তব ও যৌক্তিক অধিকার।”
বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি আকতার হোসেন রেজা বলেন, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার। নব্বইয়ের দশক থেকে আমরা এই দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। জেলার দাবিতে আজও আমরা এক কাতারে আছি।
শুধু রাজনৈতিক বা পেশাজীবী নয়, সাধারণ নগরবাসীরও একই মত—সৈয়দপুর উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, রেলওয়ের প্রাণকেন্দ্র, শিল্প ও বাণিজ্যের শক্ত ঘাঁটি এবং বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। তাই ‘সৈয়দপুর জেলা চাই’ এখন একটি সর্বজনীন জনআকাঙ্ক্ষা, যেখানে ইতিহাস, বাস্তবতা এবং উন্নয়নের প্রত্যাশা একসূত্রে গাঁথা।”

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
উত্তরের স্বর্ণদ্বার খ্যাত নগরী সৈয়দপুর। ইতিহাস, শ্রম, সংস্কৃতি এবং মানুষের নিরব সংগ্রামে গড়ে ওঠা এই জনপদে আবারও জোরালো হয়েছে জেলার দাবী। দীর্ঘদিনের এই দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়েছে।
১৯১৫ সালে সৈয়দপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, কুচবিহার থেকে আগত একটি সাইয়্যেদ পরিবার প্রথম এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। তাদের নামানুসারেই প্রথমে ‘সাইয়্যেদপুর’ এবং পরবর্তীতে ‘সৈয়দপুর’ নামকরণ হয়। ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর এটি মানোন্নীত থানার প্রশাসনিক কাঠামো লাভ করে।
১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করেই সৈয়দপুরের আধুনিক বিকাশ ঘটে। আজও দেশের অন্যতম বৃহৎ রেলওয়ে ওয়ার্কশপ, গুরুত্বপূর্ণ জংশন এবং রেল প্রশাসনের নানা দপ্তর এই শহরকে ঘিরে রেখেছে। সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সেনানিবাস এবং দেশের একমাত্র ইএমই সেন্টার, যা শহরটির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে সৈয়দপুর উত্তরাঞ্চলের একটি শক্তিশালী বাণিজ্যকেন্দ্র। বিসিক শিল্পনগরী, পাইকারি বাজার, শুঁটকি আড়ত, পান-সুপারি ও ফল বাণিজ্য এই শহরকে প্রতিদিন হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত।
স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলের মতে, সৈয়দপুর ইতোমধ্যেই জেলা শহরের প্রায় সব যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, সৈয়দপুর বহু আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ জেলার সব যোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত গুরুত্ব—সবদিক থেকেই এটি জেলার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।”
বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ বলেন, ২০০৬ সাল থেকেই আমরা এই দাবিতে আন্দোলন করেছি। আজও সেই দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সৈয়দপুর এখন বাস্তব অর্থেই একটি জেলা শহর।”
সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু বলেন, সৈয়দপুর হতে পারে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলা। এখানে ব্যতিক্রমধর্মী নগরায়ন গড়ে ওঠার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই এটি একটি শক্তিশালী হাব হিসেবে বিকশিত হতে পারে। এটি কোনো আবেগের দাবি নয়, বরং বাস্তব ও যৌক্তিক অধিকার।”
বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি আকতার হোসেন রেজা বলেন, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার। নব্বইয়ের দশক থেকে আমরা এই দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। জেলার দাবিতে আজও আমরা এক কাতারে আছি।
শুধু রাজনৈতিক বা পেশাজীবী নয়, সাধারণ নগরবাসীরও একই মত—সৈয়দপুর উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, রেলওয়ের প্রাণকেন্দ্র, শিল্প ও বাণিজ্যের শক্ত ঘাঁটি এবং বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। তাই ‘সৈয়দপুর জেলা চাই’ এখন একটি সর্বজনীন জনআকাঙ্ক্ষা, যেখানে ইতিহাস, বাস্তবতা এবং উন্নয়নের প্রত্যাশা একসূত্রে গাঁথা।”

আপনার মতামত লিখুন