ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

সৈয়দপুরে নকল ও ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব, হুমকির মুখে কৃষি

সৈয়দপুরে নকল ও ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব, হুমকির মুখে কৃষি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একের পর এক নকল ও ভেজাল কীটনাশক তৈরির ঘটনায় কৃষি খাতে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে প্রায় ৭৫০ কেজি নকল কীটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এক নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রামাণিকপাড়ায় উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা। এ সময় পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রামাণিকপাড়ার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৫৫) ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বালু, ইটের গুঁড়া ও রং মিশিয়ে নকল কীটনাশক তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করে আসছিলেন।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন সিদ্দিকী-এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে ঘটনাস্থলেই নকল কীটনাশক তৈরির প্রক্রিয়া ধরা পড়ে। পরে সাজেদা বেগমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অভিযানে ৩০০ কেজি প্যাকেটজাত এবং প্রায় সাড়ে ৪০০ কেজি খোলা অবস্থায় রাখা নকল কীটনাশক জব্দ করা হয়। মোট জব্দকৃত পরিমাণ প্রায় ৭৫০ কেজি।

পরে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনে সাজেদা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত কীটনাশক কৃষি বিভাগের জিম্মায় দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও অনেকে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছে। তারা এ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া নমুনায় কোনো ধরনের কীটনাশক উপাদান পাওয়া যায়নি; এগুলো মূলত বালু, ইটের গুঁড়া ও রং দিয়ে তৈরি।

তবে জব্দকৃত এসব সামগ্রী খরখরিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া এবং প্লাস্টিকের মোড়ক খোলা জায়গায় পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি নিয়ে পরিবেশগত প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জব্দকৃত সামগ্রী ধ্বংসের দায়িত্ব কৃষি বিভাগের হলেও খোলা স্থানে পলিথিন পোড়ানো এবং নদীতে ফেলে দেওয়া পরিবেশসম্মত পদ্ধতি নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে নকল ও ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব, হুমকির মুখে কৃষি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুরে একের পর এক নকল ও ভেজাল কীটনাশক তৈরির ঘটনায় কৃষি খাতে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে প্রায় ৭৫০ কেজি নকল কীটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এক নারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রামাণিকপাড়ায় উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহা ফাতেহা তাকমিলা। এ সময় পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রামাণিকপাড়ার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৫৫) ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বালু, ইটের গুঁড়া ও রং মিশিয়ে নকল কীটনাশক তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করে আসছিলেন।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন সিদ্দিকী-এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে ঘটনাস্থলেই নকল কীটনাশক তৈরির প্রক্রিয়া ধরা পড়ে। পরে সাজেদা বেগমকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

অভিযানে ৩০০ কেজি প্যাকেটজাত এবং প্রায় সাড়ে ৪০০ কেজি খোলা অবস্থায় রাখা নকল কীটনাশক জব্দ করা হয়। মোট জব্দকৃত পরিমাণ প্রায় ৭৫০ কেজি।

পরে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইনে সাজেদা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত কীটনাশক কৃষি বিভাগের জিম্মায় দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও অনেকে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছে। তারা এ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া নমুনায় কোনো ধরনের কীটনাশক উপাদান পাওয়া যায়নি; এগুলো মূলত বালু, ইটের গুঁড়া ও রং দিয়ে তৈরি।

তবে জব্দকৃত এসব সামগ্রী খরখরিয়া নদীতে ফেলে দেওয়া এবং প্লাস্টিকের মোড়ক খোলা জায়গায় পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি নিয়ে পরিবেশগত প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জব্দকৃত সামগ্রী ধ্বংসের দায়িত্ব কৃষি বিভাগের হলেও খোলা স্থানে পলিথিন পোড়ানো এবং নদীতে ফেলে দেওয়া পরিবেশসম্মত পদ্ধতি নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানান তিনি।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত