মা—একটি শব্দ, যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সমস্ত মমতা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, সেই মায়ের শেষ পরিণতি যদি হয় সন্তানের ঘরের মাটির নিচে, তবে তা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; মানবতার জন্যও এক গভীর বেদনার গল্প।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ঘটেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। যে ঘরে একদিন সন্তানের কান্না শুনে ছুটে গিয়েছিলেন মারুফা বেগম, যে উঠোনে সন্তানের প্রথম হাঁটা দেখেছিলেন, সেই বাড়িরই একটি কক্ষে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল তার নিথর দেহ।
দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ষাটোর্ধ্ব মারুফা বেগম। স্বজনরা ভেবেছিলেন হয়তো কোথাও গেছেন, হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, উদ্বেগ ততই বেড়েছে। অবশেষে ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ আর মেঝের অস্বাভাবিক ফাটল যেন নীরবে জানিয়ে দেয় এক ভয়াবহ সত্যের কথা।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পুলিশ যখন মাটির স্তর সরাতে শুরু করে, তখন গ্রামের শত শত মানুষ উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে এক মায়ের নিথর দেহ। মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। অনেকের চোখে তখন অবিশ্বাস—এও কি সম্ভব?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক নির্মম বাস্তবতা। যে মা সন্তানের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম ভালোবাসা, সেই মায়ের জীবন যদি এমন করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হয়, তবে প্রশ্ন জাগে—মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
উত্তর বড়ভিটার বাতাসে এখন শোকের দীর্ঘশ্বাস। গ্রামের মানুষের মুখে একটাই কথা—পৃথিবীতে মায়ের ঋণ শোধ করা যায় না। অথচ সেই মায়ের জীবন যদি এমন মর্মান্তিকভাবে শেষ হয়, তবে তা কেবল একটি হত্যার ঘটনা নয়; মাতৃত্বের বুকে লেখা এক রক্তাক্ত অধ্যায়।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
মা—একটি শব্দ, যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সমস্ত মমতা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। যে মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, সেই মায়ের শেষ পরিণতি যদি হয় সন্তানের ঘরের মাটির নিচে, তবে তা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; মানবতার জন্যও এক গভীর বেদনার গল্প।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে ঘটেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। যে ঘরে একদিন সন্তানের কান্না শুনে ছুটে গিয়েছিলেন মারুফা বেগম, যে উঠোনে সন্তানের প্রথম হাঁটা দেখেছিলেন, সেই বাড়িরই একটি কক্ষে মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল তার নিথর দেহ।
দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ষাটোর্ধ্ব মারুফা বেগম। স্বজনরা ভেবেছিলেন হয়তো কোথাও গেছেন, হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, উদ্বেগ ততই বেড়েছে। অবশেষে ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ আর মেঝের অস্বাভাবিক ফাটল যেন নীরবে জানিয়ে দেয় এক ভয়াবহ সত্যের কথা।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পুলিশ যখন মাটির স্তর সরাতে শুরু করে, তখন গ্রামের শত শত মানুষ উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে এক মায়ের নিথর দেহ। মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। অনেকের চোখে তখন অবিশ্বাস—এও কি সম্ভব?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তারই ছেলে জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক নির্মম বাস্তবতা। যে মা সন্তানের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক, প্রথম ভালোবাসা, সেই মায়ের জীবন যদি এমন করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হয়, তবে প্রশ্ন জাগে—মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
উত্তর বড়ভিটার বাতাসে এখন শোকের দীর্ঘশ্বাস। গ্রামের মানুষের মুখে একটাই কথা—পৃথিবীতে মায়ের ঋণ শোধ করা যায় না। অথচ সেই মায়ের জীবন যদি এমন মর্মান্তিকভাবে শেষ হয়, তবে তা কেবল একটি হত্যার ঘটনা নয়; মাতৃত্বের বুকে লেখা এক রক্তাক্ত অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন