নীলফামারীর সৈয়দপুরে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাশকতার অভিযোগ উঠলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন (৬২) কাচারীপাড়া এলাকার মৃত ঢেপা মাহমুদের ছেলে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফাজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক নুর হোসেন হামুরহাট-নিতাই সড়কের পাশে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করছেন। ওই জমির পার্শ্ববর্তী জমির মালিক একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বার।
প্রায় ছয় মাস আগে জমির সীমানা সংলগ্ন একটি বটগাছের ঝরে পড়া পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে নুর হোসেনের স্ত্রী লতা বেগম ও আব্দুল জব্বারের স্ত্রী নুরজাহান বেগমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে নুর হোসেন ও আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার ধুলিয়া মোড় এলাকায় আব্দুস সালাম চঞ্চলকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে আহত চঞ্চলকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে পরদিন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ভোরে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়ির পাশে থাকা টিনশেড ঘরে আগুন লাগে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা আফাজ উদ্দিন দগ্ধ হন।
আহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধ ও মঙ্গলবার রাতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়েছে।
আফাজ উদ্দিনের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অন্য ঘরে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আব্দুস সালাম চঞ্চলের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ। ঘটনার রাতে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত মেনে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা জানতে পারি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
চঞ্চলের মা নুরজাহান বেগম বলেন, “আগের বিরোধকে কেন্দ্র করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আব্দুস সালাম চঞ্চলও ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ওপর হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাশকতার অভিযোগ উঠলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন (৬২) কাচারীপাড়া এলাকার মৃত ঢেপা মাহমুদের ছেলে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফাজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক নুর হোসেন হামুরহাট-নিতাই সড়কের পাশে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করছেন। ওই জমির পার্শ্ববর্তী জমির মালিক একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বার।
প্রায় ছয় মাস আগে জমির সীমানা সংলগ্ন একটি বটগাছের ঝরে পড়া পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে নুর হোসেনের স্ত্রী লতা বেগম ও আব্দুল জব্বারের স্ত্রী নুরজাহান বেগমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে নুর হোসেন ও আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার ধুলিয়া মোড় এলাকায় আব্দুস সালাম চঞ্চলকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে আহত চঞ্চলকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে পরদিন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ভোরে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়ির পাশে থাকা টিনশেড ঘরে আগুন লাগে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা আফাজ উদ্দিন দগ্ধ হন।
আহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধ ও মঙ্গলবার রাতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়েছে।
আফাজ উদ্দিনের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অন্য ঘরে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আব্দুস সালাম চঞ্চলের বাবা আব্দুল জব্বার বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ। ঘটনার রাতে স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত মেনে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা জানতে পারি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
চঞ্চলের মা নুরজাহান বেগম বলেন, “আগের বিরোধকে কেন্দ্র করে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আব্দুস সালাম চঞ্চলও ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ওপর হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন