ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
BD State News

সারাদেশ

বিক্রি না হওয়ায় চামড়া নদীতে ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

বিক্রি না হওয়ায় চামড়া নদীতে ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

উপযুক্ত দাম তো দূরের কথা, চামড়া নেওয়ার মতো কোনো পাইকারি ক্রেতা বা বেপারি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শতাধিক গরুর চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাটাখালি নদীতে চামড়াগুলো ফেলে দেওয়া হয়। ওই দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী হলেন, দাগনভূঞা উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের খুরশিদ আলম ও দিদারুল আলম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার মাতুভূঞা এলাকার একটি সেতু থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নদীতে গরুর চামড়া নিক্ষেপ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের আশায় মারিজপুর গ্রামের খুরশিদ ও দিদারুল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। আশা ছিল, পাইকারদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি করে নিজেরা কিছুটা লাভবান হবেন। কিন্তু রাত জেগে বসে থেকেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পাইকারি ব্যবসায়ীর দেখা না পেয়ে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন তারা।

ঘটনার খবর পেয়ে দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বাড়িতে যান। তিনি পরিবেশ দূষণের বিষয়টি তুলে ধরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান।


এ সময় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চান। তারা জানান, লোকসানের কারণে হতাশ হয়ে এমন কাজ করেছেন এবং পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।

ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমরা না জেনে, না বুঝে নদীতে চামড়া ফেলেছি। এটা করা উচিত হয়নি। এটি যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তা আমরা জানতাম না। এমন ভুল আর কখনো করব না।’

দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত লোকসানের কারণে তারা এমন কাজ করেছেন। তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারতাম।’

চলতি মৌসুমে কাঁচা চামড়ার বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়ে নানা সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

BD State News

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বিক্রি না হওয়ায় চামড়া নদীতে ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

উপযুক্ত দাম তো দূরের কথা, চামড়া নেওয়ার মতো কোনো পাইকারি ক্রেতা বা বেপারি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শতাধিক গরুর চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাটাখালি নদীতে চামড়াগুলো ফেলে দেওয়া হয়। ওই দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী হলেন, দাগনভূঞা উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের খুরশিদ আলম ও দিদারুল আলম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার মাতুভূঞা এলাকার একটি সেতু থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নদীতে গরুর চামড়া নিক্ষেপ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের আশায় মারিজপুর গ্রামের খুরশিদ ও দিদারুল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। আশা ছিল, পাইকারদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি করে নিজেরা কিছুটা লাভবান হবেন। কিন্তু রাত জেগে বসে থেকেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পাইকারি ব্যবসায়ীর দেখা না পেয়ে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন তারা।

ঘটনার খবর পেয়ে দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বাড়িতে যান। তিনি পরিবেশ দূষণের বিষয়টি তুলে ধরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান।


এ সময় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চান। তারা জানান, লোকসানের কারণে হতাশ হয়ে এমন কাজ করেছেন এবং পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।

ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমরা না জেনে, না বুঝে নদীতে চামড়া ফেলেছি। এটা করা উচিত হয়নি। এটি যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তা আমরা জানতাম না। এমন ভুল আর কখনো করব না।’

দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত লোকসানের কারণে তারা এমন কাজ করেছেন। তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারতাম।’

চলতি মৌসুমে কাঁচা চামড়ার বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়ে নানা সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


BD State News

সম্পাদক: আবদুর রাকিব

কপিরাইট © ২০২৬ BD State News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত