নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলুদবিহার (জোড় পুকুরিয়া) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিকল বন্দী রফিকুল ইসলাম (৪০) নামের এক মানসিক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি পার্শ্ববর্তী কোলা ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে।
২৭-০৫-২০২৬ ইং তারিখ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে ও সরজমিনে জানা যায়, হলুদবিহারের জোড় পুকুরিয়া এলাকায় সরকারি খাসজমিতে ৪-৫টি অসহায় পরিবার বসবাস করতেন। সকাল সাড়ে ১১ টায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরটিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভিতরেই শিকলে বাঁধা ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন রফিকুল। ঘটনাস্থলটি জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় আগুন লাগার সময় সেখানে কোনো পুরুষ মানুষের উপস্থিতি ছিল না। স্থানীয় নারীদের আপ্রাণ চেষ্টা করেও ঘরের ভেতরে আটকে থাকা রফিকুল ইসলামকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেননি।
ঘটনাস্থল ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে একই এলাকার একটি পুকুরে ডুবে রফিকুল ইসলামের ভাইয়ের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। গত প্রায় দুই মাস ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখতেন।
অত্যন্ত দরিদ্র এ পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বসবাসের পর সর্বশেষ হলুদবিহারের জোড় পুকুরিয়া এলাকার সরকারি খাসজমিতে আশ্রয় নেয়। পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো সদস্য না থাকায় বৃদ্ধা মা সুফিয়া বেগম (৫৬) ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একমাত্র ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
বদলগাছী থানার ওসি (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তির ধূমপানের অভ্যাস ছিল। তাঁর এক হাত খোলা ছিল। ধূমপান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলুদবিহার (জোড় পুকুরিয়া) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিকল বন্দী রফিকুল ইসলাম (৪০) নামের এক মানসিক রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি পার্শ্ববর্তী কোলা ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে।
২৭-০৫-২০২৬ ইং তারিখ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে ও সরজমিনে জানা যায়, হলুদবিহারের জোড় পুকুরিয়া এলাকায় সরকারি খাসজমিতে ৪-৫টি অসহায় পরিবার বসবাস করতেন। সকাল সাড়ে ১১ টায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরটিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভিতরেই শিকলে বাঁধা ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন রফিকুল। ঘটনাস্থলটি জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় আগুন লাগার সময় সেখানে কোনো পুরুষ মানুষের উপস্থিতি ছিল না। স্থানীয় নারীদের আপ্রাণ চেষ্টা করেও ঘরের ভেতরে আটকে থাকা রফিকুল ইসলামকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেননি।
ঘটনাস্থল ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে একই এলাকার একটি পুকুরে ডুবে রফিকুল ইসলামের ভাইয়ের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। গত প্রায় দুই মাস ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখতেন।
অত্যন্ত দরিদ্র এ পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বসবাসের পর সর্বশেষ হলুদবিহারের জোড় পুকুরিয়া এলাকার সরকারি খাসজমিতে আশ্রয় নেয়। পরিবারের উপার্জনক্ষম কোনো সদস্য না থাকায় বৃদ্ধা মা সুফিয়া বেগম (৫৬) ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একমাত্র ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
বদলগাছী থানার ওসি (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তির ধূমপানের অভ্যাস ছিল। তাঁর এক হাত খোলা ছিল। ধূমপান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেছে।

আপনার মতামত লিখুন