সাংবাদিকদের উপর হামলায় ব্যবহৃত দেশী অস্ত্র উদ্ধার , বন্ধ করা হয়েছে অবৈধ সেই গ্যারেজ
ঢাকার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় গত শুক্রবার (২২) মে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারে তার বাসস্থান, রিক্সার গ্যারেজ ও অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও উদ্ধার করা হয়েছে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, সাবল, লোহার রড, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে শামীমের স্থাপনকৃত বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিভিআর, মনিটর, রাউটার, মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলা ও পুলিশি কার্যক্রমের এসব অগ্রগতি তুলে ধরেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, তরিকুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম খানসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় স্বচ্ছতার প্রশ্নে পুলিশের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক ও অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে যেমন পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান, একইসাথে পুলিশের অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও যে কোন অপরাধের ক্ষেত্রেও আমারা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি।
"ফলশ্রুতিতে আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে পৌছানোর পর আসামীদের গ্রেপ্তারে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ার সাথে সাথেই আমরা প্রথমে ৩ জন কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে কর্তব্য পালনে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ায় ওসি আরমান আলীকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে, যদি অভিযোগ প্রমানিত হয়, আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে", যোগ করেন এসপি।
এছাড়াও ঘটনার পরপর ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার ও ভাংচুর করা ক্যামেরা, ছিনিয়ে নেওয়া নগদ টাকার একটি অংশ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করে এসপি বলেন, মূল অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। একইসাথে শামীমের অবৈধ রিকসার গ্যারেজটিও ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযুক্ত শামীম ইতোমধ্যে গোপনে দেশত্যাগ করেছে বলে যেসব তথ্য জানা যাচ্ছে, সেবিষয়ে জানতে চাইলে এসপি জানান, এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ তারা এখনো পাননি।
এসপি এসময় আরও বলেন, মাদকের বিষয়ে সরকারের যেমন জিরো টলারেন্স অবস্থান, আমাদের অবস্থানও একই। আমি গত ৯ই মে এখানে জয়েন করার পর থেকেই মাদকের বিষয়ে আমাদের কঠোর অবস্থান নিয়েছি এবং নিয়মিতই সারাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি এসময় আরও বলেন, আমি এখানে জয়েন করেছি মাত্র ১৮ দিন, এই সময়ের মধ্যেই শুধু সাভার মডেল থানাতেই মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি এই সংক্রান্ত মোট ৪৫ টি মামলা এবং ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘন্টায় সাভার থানায় এসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৯টি, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জনকে।
এসময় ঈদের কারনে পুলিশ সদস্যরা ঘরমুখো মানুষের যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে এসপি জানান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ঈদের পর আমাদের সপ্তাহব্যাপী সারাশি অভিযান শুরু হবে।
পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে বা কোন মাদক স্পট বন্ধে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইন নিজের তুলে নেওয়া থেকে সকলকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, আপনারা আমাদের তথ্য দেন, আমরা আপনাদের সাথে নিয়েই অভিযান করবো, কিন্তু প্লিজ আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
এছাড়াও সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট না থাকায় ম্যানুয়াল পদ্ধতি তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরষ্কার ঘোষণার পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত চেহারার মিলের কারনে মোট ১১ জনকে আটক করে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা ছাড়াও নিয়মিত ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আটকদের ছবি ভিকটিমকে দেখিয়ে অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এসময় পুলিশের যানবাহন সংকট ও দূর্বল যানবাহনের ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে ইমার্জেন্সি রেসপন্সের ক্ষেত্রের পুলিশের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এসে এটি সমাধানে পুলিশ উদ্যোগ কি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে এসপি বলেন, এই সংকট তো আছেই একইসাথে ৫ই আগস্ট অনেক গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কারনে সংকট আরও ঘনিভূত হয়েছে। তবে পুলি সপ্তাহে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে পুলিশকে ২৮২টি পিকআপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং আশা করছি খুন শীগ্রই আমরা সেগুলো পেয়ে যাবো। এর বাহিরেও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কোন ব্যক্তি বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান যদি পুলিশকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসে, আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সাংবাদিকদের উপর হামলায় ব্যবহৃত দেশী অস্ত্র উদ্ধার , বন্ধ করা হয়েছে অবৈধ সেই গ্যারেজ
ঢাকার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় গত শুক্রবার (২২) মে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারে তার বাসস্থান, রিক্সার গ্যারেজ ও অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও উদ্ধার করা হয়েছে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, সাবল, লোহার রড, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে শামীমের স্থাপনকৃত বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিভিআর, মনিটর, রাউটার, মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সামনে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলা ও পুলিশি কার্যক্রমের এসব অগ্রগতি তুলে ধরেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, তরিকুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম খানসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় স্বচ্ছতার প্রশ্নে পুলিশের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক ও অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে যেমন পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান, একইসাথে পুলিশের অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও যে কোন অপরাধের ক্ষেত্রেও আমারা জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি।
"ফলশ্রুতিতে আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে পৌছানোর পর আসামীদের গ্রেপ্তারে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ার সাথে সাথেই আমরা প্রথমে ৩ জন কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে কর্তব্য পালনে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়ায় ওসি আরমান আলীকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে, যদি অভিযোগ প্রমানিত হয়, আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে", যোগ করেন এসপি।
এছাড়াও ঘটনার পরপর ঘটনাস্থল থেকে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি, ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার ও ভাংচুর করা ক্যামেরা, ছিনিয়ে নেওয়া নগদ টাকার একটি অংশ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করে এসপি বলেন, মূল অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। একইসাথে শামীমের অবৈধ রিকসার গ্যারেজটিও ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযুক্ত শামীম ইতোমধ্যে গোপনে দেশত্যাগ করেছে বলে যেসব তথ্য জানা যাচ্ছে, সেবিষয়ে জানতে চাইলে এসপি জানান, এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ তারা এখনো পাননি।
এসপি এসময় আরও বলেন, মাদকের বিষয়ে সরকারের যেমন জিরো টলারেন্স অবস্থান, আমাদের অবস্থানও একই। আমি গত ৯ই মে এখানে জয়েন করার পর থেকেই মাদকের বিষয়ে আমাদের কঠোর অবস্থান নিয়েছি এবং নিয়মিতই সারাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি এসময় আরও বলেন, আমি এখানে জয়েন করেছি মাত্র ১৮ দিন, এই সময়ের মধ্যেই শুধু সাভার মডেল থানাতেই মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি এই সংক্রান্ত মোট ৪৫ টি মামলা এবং ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘন্টায় সাভার থানায় এসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৯টি, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জনকে।
এসময় ঈদের কারনে পুলিশ সদস্যরা ঘরমুখো মানুষের যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে এসপি জানান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ঈদের পর আমাদের সপ্তাহব্যাপী সারাশি অভিযান শুরু হবে।
পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে বা কোন মাদক স্পট বন্ধে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইন নিজের তুলে নেওয়া থেকে সকলকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, আপনারা আমাদের তথ্য দেন, আমরা আপনাদের সাথে নিয়েই অভিযান করবো, কিন্তু প্লিজ আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
এছাড়াও সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট না থাকায় ম্যানুয়াল পদ্ধতি তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরষ্কার ঘোষণার পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত চেহারার মিলের কারনে মোট ১১ জনকে আটক করে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা ছাড়াও নিয়মিত ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আটকদের ছবি ভিকটিমকে দেখিয়ে অপরাধীকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এসময় পুলিশের যানবাহন সংকট ও দূর্বল যানবাহনের ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে ইমার্জেন্সি রেসপন্সের ক্ষেত্রের পুলিশের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এসে এটি সমাধানে পুলিশ উদ্যোগ কি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে এসপি বলেন, এই সংকট তো আছেই একইসাথে ৫ই আগস্ট অনেক গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কারনে সংকট আরও ঘনিভূত হয়েছে। তবে পুলি সপ্তাহে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে পুলিশকে ২৮২টি পিকআপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং আশা করছি খুন শীগ্রই আমরা সেগুলো পেয়ে যাবো। এর বাহিরেও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কোন ব্যক্তি বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান যদি পুলিশকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসে, আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।

আপনার মতামত লিখুন