পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার উপজেলার পশুর হাটগুলো পুরোদমে জমে উঠলেও বাদ সেধেছে প্রকৃতি। গত দু-দিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টি এবং আজ বুধবার সকাল ৭টায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পশুর হাটগুলোর সার্বিক চিত্র ওলটপালট হয়ে গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাটের মাঠগুলোতে পানি ও কাদা জমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম বেকায়দায় পড়তে হয়েছে।
সকাল থেকেই ঐতিহ্যবাহী মেঘুলা বাজার হাট, জয়পাড়া বড়ো মাঠ ও কার্তিকপুর হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দারুণ সমাগম ঘটেছিল। কিন্তু সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিতে মুহূর্তের মধ্যে হাটের আনন্দ মলিন হয়ে যায়। খোলা আকাশের নিচে থাকা পশু ও মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। বৃষ্টির পানিতে হাটের নিচু অংশগুলোতে হাঁটু সমান পানি ও কাদা জমে যাওয়ায় কোরবানির পশুদের দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। হাটে আসা এক বিক্রেতা বলেন, এমনিতেই নদী ও সড়ক পথে কষ্ট করে গরু এনেছি। তার ওপর সকালের বৃষ্টিতে পুরো হাটে কাদা হয়ে গেছে। গরু রাখার মতো শুকনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতারাও কাদার কারণে হাটের ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছেন না।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া সত্বেও হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা কমেনি। তবে এবারের হাটে দামের ক্ষেত্রে এক ভিন্ন সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাটে আসা ক্রেতারা বড়ো গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে ছোট গরুর দাম তুলনামূলকভাবে বড়ো গরুর চেয়ে অনেক বেশি চড়া।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যে-সব দেশি গরুর ওজন ২ থেকে ৩ মণের মধ্যে, সেগুলোর দাম বিক্রেতারা অনেক বেশি হাঁকাচ্ছেন এবং দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিপরীতে, বড়ো আকৃতির এবং ওজনে বেশি গরু গুলোর পর্যাপ্ত ক্রেতা মিলছে না। ক্রেতাদের মতে, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ছোট গরুর দাম গত বছরের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, হাটে ছোট গরুর সরবরাহ ভালো থাকলেও ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই দাম কিছুটা চড়া। ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা আশা হারাচ্ছেন না। আজ দুপুরের পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলে হাটে ক্রেতাদের উ ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
হাট কমিটির ভলান্টিয়াররা মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশন এবং কাদা মাড়িয়ে যাতে ক্রেতারা সহজে চলাচল করতে পারেন, তার জন্য বালু ও ইটের খোয়া ফেলার ব্যবস্থা করেছেন। ব্যবসায়ীদের আশা, আবহাওয়া আর খারাপ না হলে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দোহারের সবকটি হাটে পশু বিক্রি হবে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার উপজেলার পশুর হাটগুলো পুরোদমে জমে উঠলেও বাদ সেধেছে প্রকৃতি। গত দু-দিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টি এবং আজ বুধবার সকাল ৭টায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পশুর হাটগুলোর সার্বিক চিত্র ওলটপালট হয়ে গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাটের মাঠগুলোতে পানি ও কাদা জমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম বেকায়দায় পড়তে হয়েছে।
সকাল থেকেই ঐতিহ্যবাহী মেঘুলা বাজার হাট, জয়পাড়া বড়ো মাঠ ও কার্তিকপুর হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দারুণ সমাগম ঘটেছিল। কিন্তু সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিতে মুহূর্তের মধ্যে হাটের আনন্দ মলিন হয়ে যায়। খোলা আকাশের নিচে থাকা পশু ও মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। বৃষ্টির পানিতে হাটের নিচু অংশগুলোতে হাঁটু সমান পানি ও কাদা জমে যাওয়ায় কোরবানির পশুদের দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। হাটে আসা এক বিক্রেতা বলেন, এমনিতেই নদী ও সড়ক পথে কষ্ট করে গরু এনেছি। তার ওপর সকালের বৃষ্টিতে পুরো হাটে কাদা হয়ে গেছে। গরু রাখার মতো শুকনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতারাও কাদার কারণে হাটের ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছেন না।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া সত্বেও হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা কমেনি। তবে এবারের হাটে দামের ক্ষেত্রে এক ভিন্ন সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাটে আসা ক্রেতারা বড়ো গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে ছোট গরুর দাম তুলনামূলকভাবে বড়ো গরুর চেয়ে অনেক বেশি চড়া।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যে-সব দেশি গরুর ওজন ২ থেকে ৩ মণের মধ্যে, সেগুলোর দাম বিক্রেতারা অনেক বেশি হাঁকাচ্ছেন এবং দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিপরীতে, বড়ো আকৃতির এবং ওজনে বেশি গরু গুলোর পর্যাপ্ত ক্রেতা মিলছে না। ক্রেতাদের মতে, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ছোট গরুর দাম গত বছরের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, হাটে ছোট গরুর সরবরাহ ভালো থাকলেও ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই দাম কিছুটা চড়া। ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা আশা হারাচ্ছেন না। আজ দুপুরের পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলে হাটে ক্রেতাদের উ ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
হাট কমিটির ভলান্টিয়াররা মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশন এবং কাদা মাড়িয়ে যাতে ক্রেতারা সহজে চলাচল করতে পারেন, তার জন্য বালু ও ইটের খোয়া ফেলার ব্যবস্থা করেছেন। ব্যবসায়ীদের আশা, আবহাওয়া আর খারাপ না হলে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দোহারের সবকটি হাটে পশু বিক্রি হবে।

আপনার মতামত লিখুন